মুসলমানরা যদি সঠিক জায়গায় যাকাত আদায় করেন, তাহলে উনারা পবিত্র ইছলাহ ও শান্তি লাভ করবেন!


সম্মানিত ইসলাম উনার পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় স্তম্ভ হচ্ছেন পবিত্র যাকাত। পবিত্র যাকাত আর্থিক ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম। প্রত্যেক ধনী মুসলমানদের উপর পবিত্র যাকাত আদায় করা ফরয। পবিত্র যাকাত শব্দটি আরবী। উনার অর্থ পবিত্রতা বা বৃদ্ধি। সম্মানিত শরীয়ত উনার পরিভাষায় যাকাত হল কোন মুসলমান স্বাধীন বালেগ-বালেগার নিকট হাওয়ায়েজে আছলিয়াহ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, মাল-সামানা বাদ দিয়ে কর্জ বা ঋন ব্যতীত নিজ মালিকা ধীনে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রৌপ্য বা তার সমপরিমান মূল্য যদি পূর্ণ এক বছর থাকে তবে শতকরা ২.৫ টাকা পবিত্র যাকাতের নিয়তে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের উদ্দেশ্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছাতে হবে। আর উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার কায়মাকাম যিনি থাকবেন উনার কাছে পৌঁছাতে হবে।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ اِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللَّـهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ.
আপনি তাদের সম্পদ হতে ছদক্বা (হাদিয়া, যাকাত, ফিতরা, ওশর) গ্রহণ করুন। এর দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র ও ইছলাহ করুন। আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য শান্তির কারণ।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে হাদিয়া, ছদক্বা, যাকাত ফিতরা ওশর ইত্যাদি পৌঁছানো হলে তিনি তাদেরকে পবিত্র ও ইছলাহ করবেন, তাদের জন্য দোয়া মুবারক করবেন। এই সম্মানিত দোয়া মুবারক পাওয়ার কারণে উনারা শান্তি লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর তিনি যারা যাকাত পাওয়ার হক্বদার তাদেরকে দান করবেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর উনার কায়মোকাম হচ্ছেন যামানার সম্মানিত মুজাদ্দিদ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। উনার কাছেই সকল মুসলমানদের পবিত্র যাকাত ফিতরা ওশর ছদক্বা পৌঁছাতে হবে। তাহলে তিনি তাদেরকে পবিত্র ও ইছলাহ করবেন, তাদের জন্য দোয়া মুবারক করবেন। তাহলে মুসলমানগণ শান্তি লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
আর যদি মুসলমানরা যাকাত, ফিতরা, ওশর ছদক্বা ইত্যাদি নিজেরাই দান করেন, তাহলে তারা পবিত্র ও ইছলাহ লাভ করতে পারবে না এবং দোয়া মুবারকও পাবে না। শান্তিও লাভ করতে পারবে না। নাউযুবিল্লাহ!
তাই প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, যামানার সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিস সালাম উনার কাছেই রমাদ্বান মাসে যাকাত, ফিতরা, ওশর, ছদক্বা ইত্যাদি আদায় করলে অন্যান্য মাসের তুলনায় কমপক্ষে ৭০ গুন বেশি ফযীলত পাওয়া যাবে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সঠিকভাবে, সঠিক নিয়মে যাকাত আদায় করবেন, তাদের মাল-সম্পদকে তিনি হিফাযত করবেন এবং বহুগুনে বৃদ্ধি করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন মুসলমানদের পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদক্বা ইত্যাদি যামানার সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিস সাল্লাম উনার কাছে পৌঁছানোর তাওফীক দান করেন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে