মুসলমান-ঈমানদার হলে জেনে রাখা উচিত- পরকালের কত কঠিন শাস্তির স্থান জাহান্নাম


মুসলমান-ঈমানদার সকলেই মৃত্যু পরবর্তী জিন্দেগী আখিরাত তথা পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। কিন্তু দুনিয়ার কর্মব্যস্ত জীবন, নিজের জীবন, নিজের পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি নানা কারণগুলো অনন্তকালের জিন্দেগী আখিরাত তথা পরকালকে ভুলিয়ে রাখে। অথচ এই ভুলে যাওয়াই মানুষের জীবনের সবচাইতে বড় ভুল ও বড় ক্ষতির কারণ। মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য কেউ যদি নেক আমলসমূহ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে তাহলে তার জন্য যে কত কঠিন আযাব-গযব ও শাস্তি রয়েছে তা সকলেরই স্মরণে রাখা উচিত। পরকালের আযাব-গযব ও শাস্তির ভয়াবহত স্থানের নাম জাহান্নাম। জাহান্নাম সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মঝে ইরশাদ মুবারক করেন- “যে সব ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনাকে অস্বীকার করেছে, তাদের জন্যই জাহান্নামের আযাব। যা আবাস হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থান।” (পবিত্র সূরা মুলক শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬) “তোমরা জাহান্নামকে ভয় কর যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।” (পবিত্র সূরা আলে-ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১৩১) “হে মু’মিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” (পবিত্র সূরা আত-তাহরীম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬) যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইিহি ওয়া সাল্লাম তিনি জাহান্নাম সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন- “দুনিয়ায় ব্যবহৃত আগুনের উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের ৭০ ভাগের ১ ভাগ।” (বুখারী শরীফ) “দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুনে ঢুকিয়ের বের করা হবে। তাকে বলা হবে, তুমি দুনিয়াতে কখনো সুখ ভোগ করেছিলে? সে বলবে- না, আমি কখনো সুখ ভোগ করিনি।” “জাহান্নামীদেরকে তাদের রক্ত-পুুঁজ পান করানো হবে। এগুলো মুখের কাছে আনলে তারা তা অপছন্দ করবে- তাদের চেহারা দগ্ধ হয়ে মাথার চামড়া খসে পড়বে। এগুলো যখন বাধ্য হয়ে পান করবে, তখন নাড়িভুড়ি গলে গলে ইন্তিঞ্জা হয়ে বের হবে।” আয় আল্লাহ পাক! আমাদের সকলকে জাহান্নামের সকল প্রকার আযাব-গযব থেকে হিফাযত করুন। ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক জীবন-যাপন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে