মুসলমান উনাদের ঈমানী কালিমা শরীফ “পবিত্র কালিমায়ে ত্বইয়্যিবাহ শরীফ” সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী, ওহাবী, সালাফী, লামাযহাবীরা ইহুদী-নাছারাদের খাছ দালাল।


মুসলমান উনাদের ঈমানী কালিমা শরীফ “পবিত্র কালিমায়ে ত্বইয়্যিবাহ শরীফ” সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী, ওহাবী, সালাফী, লামাযহাবীরা ইহুদী-নাছারাদের খাছ দালাল।
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তারা মুরতাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যারা সমর্থন করবে তারাও মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে। তাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি “একশত কোটি টাকার প্রকাশ্য বাহাছের চ্যালেঞ্জ!”
[সম্প্রতি কাদিয়ানী ফিতনার চেয়েও ভয়ঙ্কর একটি ফিতনা দেখা দিয়েছে। আর তাহলো মুসলমান উনাদের ঈমানী কালিমা শরীফ “পবিত্র কালিমায়ে ত্বইয়্যিবাহ শরীফ” লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে অস্বীকার করা। নাউযুবিল্লাহ!
একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুসলমান উনাদের ঈমান-আক্বীদা বিনষ্ট করে বেঈমান বানানোর উদ্দেশ্যেই পবিত্র কালিমা শরীফ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বক্তব্য হলো- পবিত্র কালিমা শরীফ ছিহাহ সিত্তাসহ কোনো ছহীহ হাদীছ শরীফে নেই। তাই তা পাঠ করা যাবে না। নাউযুবিল্লাহ! অথচ একটি নয়, দুটি নয়, অসংখ্য অগণিত পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত পবিত্র কালিমা শরীফ বিদ্যমান রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের কুফরী বক্তব্যগুলো খ-ন করাসহ অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ থেকে পবিত্র কালিমা শরীফ উনার অকাট্য দলীল-আদিল্লাহ তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ!]
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
তৃতীয়ত: বর্তমানে সম্মানিত ইসলাম উনার ছূরতে মুসলমান উনাদের ঈমান-আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যে দলটি, সেটি হচ্ছে- ‘ওহাবী ফিরক্বাহ’। অর্থাৎ ইবনে ওহাব নজদীর অনুসারীরা। সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ফতওয়া মুতাবিক ওহাবীরা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। কারণ তাদের আক্বীদা ও আমল সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার খিলাফ। ওহাবীদের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সালাফী, লা-মাযহাবী ও দেওবন্দী। সালাফী ও লা-মাযহাবীরাই মূলত পবিত্র কালিমা শরীফ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
নিম্নে ওহাবী ফিরক্বার জনক ইবনে ওহাব নজদীর পরিচয় ও ওহাবীদের কুফরী আক্বীদাসমূহ তুলে ধরা হলো-
ফতওয়ায়ে ‘শামী, ইশায়াতে হক্ব, ওহাবীদের ইতিহাস, ওহাবীদের উৎপত্তি, সাইফুল মাযহাব, মাযহাব কি ও কেন? সাইফুল জাব্বার” ইত্যাদি কিতাবে ইবনে ওহাব নজদীর পরিচয় এইভাবে বর্ণিত আছে, ইবনে ওহাব নজদী ১১১১ হিজরী মুতাবিক ১৭০৩ ঈসায়ী সালে আরবের নজদ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতার নাম ওহহাব। তার বড় ভাই এর নাম সুলায়মান। পিতা ও ভ্রাতা দুজনই তৎকালে সে দেশে বিজ্ঞ আলিম নামে খ্যাত ছিলো। কিন্তু ওহাবের কনিষ্ঠ পুত্র “ইবনে ওহ্হাব” অত্যন্ত উদাসীন ও গোঁড়ামী চরিত্রের অধিকারী ছিল। তাই সে তার পিতা ও ভ্রাতার মতের বিপরীত চলতো এবং প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধাচরণ করতো এবং মনগড়া নতুন মত প্রচার করে ফিতনা পয়দা করতো। তার ভ্রান্ত আক্বীদাগুলোর সাথে সেই যামানার হক্কানী-রব্বানী আলিম উনারা একমত হতে পারেননি। ফলে সে বহু আলিম, ছূফী, দরবেশ, মুক্তাক্বীদের উপর স্টীম রোলারের ন্যায় অত্যাচার চালায় এবং উনাদের অনেককে সে শহীদ করে ফেলে। নাউযুবিল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে নজদীরা ছিল জন্মগত নাফরমান নাস্তিক ও কাফির। নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নজদ ও নজদীদের সম্বন্ধে কি বলেন সে ব্যাপারে ছহীহ সনদ সূত্রে কয়েকটি ইরশাদ মুবারক পবিত্র হাদীছ শরীফ নিম্নে বর্ণিত হলো-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال رأس الكفر منها هنا حيث يطلع قرن الشيطان
অর্থ: ‘হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন যে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মূল কাফির বা প্রধান কাফির পূর্ব দিকে। সেখান থেকেই শয়তানের শিং বের হবে।’ নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت ابن عمر رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم انه قال وهو مستقبل المشرق ان الفتنة ها هنا
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে বলেন, একদা আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পূর্বমূখী হয়ে অর্থাৎ নজদের দিকে ফিরে বলেন, এদিক হতে ফিতনা-ফাসাদ আবির্ভূত হবে। নাউযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قال النبى صلى الله عليه وسلم يخرج الناس من المشرق يقرؤن القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الذين كما يمرق السهم من الرمية سيماهم التحليق
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পূর্ব দিক হতে (অর্থাৎ নজদ দেশ হতে) একদল লোক বের হবে, তারা ঠিকই পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করবে, কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মর্মার্থ তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অর্থ বুঝবে না। তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম হতে এমনিভাবে দূরে সরে পড়বে, যেমন তীর ধনুক হতে ছুড়লে পুনরায় ফিরে আসে না। এসব লোকের সাধারণ লক্ষণ হলো তাদের মাথা মুড়ানো থাকবে।” নাউযুবিল্লাহ! ঠিক এই লক্ষণটি পরিলক্ষিত হয়েছে নজদবাসী ইবনে ওহাব নজদী ও তার অনুসারীদের মাঝে।
সুপ্রসিদ্ধ ‘ফতওয়ার কিতাব শামী’ কিতাবের লিখক আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইবনে ওহাব নজদীর আক্বীদা-বিশ্বাস সম্বন্ধে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন যে, সমস্ত ওহাবীদের আক্বীদা-বিশ্বাস খারিজী আক্বীদা বিশ্বাসের অবিকল অনুরূপ। অর্থাৎ তারা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মধ্যে সিফ্ফীনের যুদ্ধ চলাকালে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মতাদর্শের একেবারে বিরোধী হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খারিজী ফিরক্বার লোকেরা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ও হযরত মুয়াাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের উভয়কেই কাফির বলে অভিহিত করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন আজকাল ইবনে ওহাব নজদীর ওহাবী ফিরক্বা দুনিয়ার সকল মানুষকে কাফির নামে আখ্যায়িত করতেছে। এরা আরব ভূখ-ের নজদ হতে আত্মপ্রকাশ করে। (প্রথম তারা ১৮০১ ঈসায়ী সনে কারবালা ও মক্কা শরীফ আক্রমণ করে এবং পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ ছিঁড়ে ফেলে। অতঃপর ১৮০৪ ঈসায়ী সনে পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণ করে সেখানকার পবিত্র মাযার শরীফগুলো ধ্বংস করে ফেলে। নাউযুবিল্লাহ!
‘ফতওয়ায়ে শামী’ উনার ভাষ্যমতে ওহাবী ফিরক্বার আক্বীদা:
كما وقع فى زماننا فى اتباع عبد الوهاب الذين خرجوا من نجد وتغلبوا على الحرمين وكانوا ينتحلون مذهب الحنابلة لكنهم اعتقدوا انهم هم المسلمون وان من خالف اعتقادهم مشركون. واستباجوا بذالك قتل اهل السنة وقتل علمائهم.
অর্থ: “বর্তমান যামানায় আবির্ভূত ওহাবী ফিরক্বা যারা নজদ প্রদেশ থেকে আত্মপ্রকাশ করে হারামাইন শরীফাইনে আধিপত্য বিস্তার করে। ইবনে ওহাব নজদী হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিল না। তথাপিও সে মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য নিজেকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী বলতো। তার ভ্রান্ত আক্বীদার মধ্যে একটি আক্বীদা এই ছিল যে, তার প্রতি বিশ্বাসীরাই শুধু মুসলমান, যারা তার বিরোধিতা করবে তারা কাফির ও মুশরিক। তার এই নীতিমালা অনুসারে সে উলামায়ে আহলে সুন্নত উনাদেরকে শহীদ করা জায়িয মনে করতো।” নাউযুবিল্লাহ!
তাফসীরে ছাবীর মতে ওহাবী ফিরক্বার আক্বীদা:
قوله تعالى: افمن زين له سوء عمله” هذه الاية نزلت فى الخوارج الذين يحرقون تاويل الكتاب والسنة ويستحلون بذالك دماء المؤمنين واموالهم كما هو مشاهد الان فى نظائرهم وهم فرقة فى ارض الحجاز يقال لهم الوهابية يحسبون انهم على شئ الا انهم هم الكاذبون استحوذ عليهم الشيطان فانساهم ذكرالله اولئك حزب الشيطان الا ان حزب الشيطان هم الخاسرون.
অর্থ: “(সুবিখ্যাত ‘তাফসীরে ছাবীর’ গ্রন্থকার তিনি বলেন,) “প্রত্যেকের অপকর্মই নিজের জন্য সুন্দর।” এ পবিত্র আয়াত শরীফটিতে খারিজী ফিরক্বার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ফিরক্বার সাধারণ পরিচিতি হলো এই যে, তারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিকৃত অর্থ করে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মনগড়া ব্যাখ্যা করে। যা দ্বারা মু’মিন মুসলমানদের জান মাল নষ্ট করা বৈধ মনে করে। বর্তমানে যার স্পষ্ট দৃষ্টান্ত রয়ে গেছে। তাদের পরিচিতি এই যে, তারা হিজাজ ভূমির একটি ফিরক্বা, যাদেরকে ওহাবী বলা হয়। ওহাবীরা নিজেদেরকে হক্ব মনে করে, প্রকৃতপক্ষে তারা বড় মিথ্যাবাদী। তাদের উপর শয়তান সওয়ার হয়েছে। তাই তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভুলে গেছে। ওহাবীরা শয়তানের দল। হে মু’মিনগণ! তোমরা শয়তানের দল হতে সতর্ক থেকো। তারা পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে