মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে কাফির-মুশরিকদের চক্রান্তের কিছু রূপ-২


মুসলমান উনাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চুরি

বর্তমানে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান বলতে যেটা বোঝায়, তার জনক হচ্ছে মুসলমানগণ। শুরু থেকেই মুসলমানগণ ছিলেন জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ ও প্রাচুর্যময়, অপরদিকে কাফিররা ছিলো মূর্খ, অজ্ঞ ও বর্বর। উল্লেখ্য, ১২৫৮ সালে হালাগু খান মুসলিম জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু বাগদাদ নগরীতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ধ্বংস করে মুসলিম জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্র বাইতুল হিকমাহ লাইব্রেরী। এই লাইব্রেরী থেকে মুসলমান উনাদের অনেক জ্ঞান-বিজ্ঞান গবেষণা বই চুরি যায়, যা পরবর্তীতে ইহুদী ও খ্রিষ্টান জাতি করায়ত্ব করে ফেলে। একইভাবে  ১৪৯২ সালে অবসান ঘটে স্পেনে মুসলিম শাসনের। ঐ সময় স্পেন ছিলো মুসলিম সভ্যতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বিশাল লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত ছিলো মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণাধর্মী বইসমূহ। স্পেন দখলের পর খ্রিস্টানরা স্পেনের লাইব্রেরীগুলো দখল করে, তারা অনেক বই সরিয়ে ফেলে, অনেক বই নদীতে ফেলে দেয়, আবার অনেকগুলো আগুনে ধ্বংস করে ফেলে। ১৫শ’ শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলিম বিজ্ঞানীদের থেকে চুরি করা বইগুলো নিয়েই ১৭শ’ শতাব্দীতে ইউরোপীয়দের মধ্যে জ্ঞান বিজ্ঞানের সূচনা ঘটে। তারা মুসলমান উনাদের থেকে  চুরি করা বইগুলো অনুবাদ করতো এবং নিজেদের নামে প্রচার করতো। তবে মুসলমান উনাদের লিখিত অধিকাংশ বই ছিলো আরবী ভাষায়, খ্রিস্টানরা আরবী খুব একটা বুঝতো না, কিন্তু ইহুদীরা বুঝতো। তাই খ্রিস্টানরা মুসলমান উনাদের বইগুলো ইহুদীদের কাছে দিয়েছিলো অনুবাদের জন্য। ইহুদীরা ছিলো ধূর্ত।

তারা বলতো- ‘একটা একটা বই দিলে হবে না, সব দাও, আমরা ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করে দিবো’। ইহুদীদের এ কথা শুনে খ্রিস্টানরা তাদেরকে অধিকাংশ বই দেয়, যেখান থেকে ইহুদীরা বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা নিজেদের কাছে রেখে দেয়। এই কারণে বর্তমানে ইহুদীদের মধ্যে বেশিরভাগ কথিত বিজ্ঞানীর দেখা মিলে।

শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন এবং

সিলেবাসে কুফরী’র প্রবেশ

ব্রিটিশরা এ উপমহাদেশে ক্ষমতা দখল করার পর এদেশে প্রায় ৮০ হাজার মক্তব বন্ধ করে দেয়, চালু করে তাদের প্রবর্তিত সিলেবাস অনুয়ায়ী কলকাতা আলিয়া মাদরাসা (১৭৮০ সালে ওয়ারেন হেস্টিং)। এরপর ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা (প্রতিষ্ঠা সাল : ১৮৬৬) তৈরির জন্য জমি দেয় ব্রিটিশরা। পরবর্তীতে ব্রিটিশ অনুচর এই দেওবন্দীদের মাধ্যমেই ছড়ানো হয় বিভিন্ন কুফরী আক্বীদা। নাউযুবিল্লাহ!

সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি চালু

“মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যবসাকে হালাল করেছেন, সুদকে হারাম করেছেন।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : আয়াত শরীফ ২৭৫) “যে ব্যক্তি এক পয়সা হারাম খায়, তার ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না।” (পবিত্র হাদীছ শরীফ)

অথচ দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে মুসলমান দেশগুলোতেও ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, বীমা, সমিতি সর্বত্রই সুদের কারবার। হারাম সুদ ছাড়া আর্থিক ব্যবস্থা বর্তমানে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে