মুসলিম জনঅধ্যুষিত দেশে নামকরণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামী ও মুসলমানী ইতিহাস ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে হবে


রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম ঘোষিত, ৯৮ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থানা কিংবা জেলা এবং সেখানকার রাস্তাঘাট, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি হিন্দুয়ানী বা বিজাতি বিধর্মীদের নামে নামকরণ থাকার কারণে ইচ্ছা অনিচ্ছায় একজন মু’মিন মুসলমানদেরকে কথাবার্তা, আলোচনা লেখনী ইত্যাদিতে সেগুলোর নাম স্মরণ করতে হয়। যা ঈমানদার মুসলমানদের জন্য তাকওয়া পরহেজগারীর খিলাফ। যদিও মুসলমানদেররা অপারগ হয়েই সেটা করে থাকেন। তবে মুসলমানদের সতর্ক সচেতন হয়ে এবিষয়ে দাবি পেশ করা দরকার। পার্শ¦বর্তী ভারতে বহুকাল ধরে বহু জনপদ এবং স্থাপনা, রাস্তাঘাট সম্মানিত মুসলমানদের নামে থাকার পরেও হিন্দুদের দাবির মুখে ভারতীয় হিন্দুয়ানী সরকার সেগুলোর নাম পাল্টে দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা ঐতিহাসিক পঞ্চগড়। বিশ্বখ্যাত বীর মুজাহিদ হযরত ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তিব্বত অভিযানের সময় এই পঞ্চগড় জেলার ভিতর দিয়েই মুজাহিদদেরকে নিয়ে পথ অতিক্রম করেন। এখানকার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে রয়েছে কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক মির্জাপুর শাহী মসজিদ, যা বহুশত বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। এখান থেকেও এই জেলার সাথে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্ক কত প্রাচীন তা প্রমাণিত হয়। আর এখনতো মুসলিম জনসংখ্যায় এই জেলাকে ভরপুর বলা যায়। এমতাবস্থায় এখনো অনেক এলাকা হিন্দুয়ানী ও মুশরিকী নামে রয়ে গেছে। যেমন- দেবীগঞ্জ, দেবীডুৃবা, দন্ডপাল, ভজনপুর, দেবনগর, রাধানগর, বলরামপুর, বোদা ইত্যাদি এখনো কাগজপত্রে মুখে মুখে ব্যবহৃত হচ্ছে। পঞ্চগড়বাসী মুসলমান জনতা বিশেষ করে যারা সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছে, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- অবিলম্বে এসব হিন্দুয়ানী নাম পরিবর্তন করে বিকল্প হিসেবে ঈমানদীপ্ত ইসলামী নাম প্রবর্তন করা। এতে অন্ততঃ কুফরী-শিরকীপূর্ণ নামের কারণে লা’নত থেকে পঞ্চগড়বাসী নিজেদেরকে হিফাযত করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে