উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনি ছিলেন শরাফত মুবারক উনার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠা


পবিত্র উরুস মুবারক ‘উয়ূনুল আছার’ নামক কিতাবে উল্লেখ করা হয়, هِيَ يَوْمَئِذٍ أَوْسَطُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ نَسَبًا وَأَعْظَمُهُمْ شَرَفًا وَأَكْثَرُهُمْ مَالا অর্থ: (আযীমুশ শান শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম) তিনি ছিলেন নসব মুবারক উনার দিক থেকে কুরাঈশ মহিলাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিত্বা। শরাফত মুবারক উনার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠা। এবং সর্বাধিক সম্পদের মালিকা। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন আরবের সর্বাধিক সমৃদ্ধশালী মহান ব্যক্তিত্বা। সুবহানাল্লাহ! সঙ্গতকারণেই উনার আযীমুশ শান শাদী মুবারক যেমন বেমেছাল গাম্ভীর্যপূর্ণ, তেমনি উনার উরুস মুবারকও ছিল ইতিহাসে বেনযীর। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র ২২শে জুমাদাল উলা শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ তারিখেই উনারা অলীমা মুবারকের আয়োজন করেছেন। আর এ তারিখেই উনাদের উরুস মুবারক সম্পন্ন হয়েছে। সুবহানাল্লাহ। উরুস মুবারক উনার সময়ই উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সমস্ত সম্পদ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাদিয়া করেন। উনার উরুস মুবারকের দিনে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য স¦র্ণের পাত বিছিয়ে দেওয়া হয়। স্বর্ণের সেই পাতসমূহ মাড়িয়ে তিনি হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য এবং তারযীহপ্রাপ্ত মতে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাতজন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। নিম্নে উনাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম: হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত কাসিম আলাইহিস সালাম তিনি প্রথম। অপরদিকে হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি প্রথম। এখন হযরত ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক আগে প্রকাশ করেছেন নাকি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি আগে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, এ বিষয়ে কতিপয় ঐতিহাসিক ইখতিলাফ করেছেন। তবে সর্বাধিক মশহুর ও তারযীহপ্রাপ্ত মতে – عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال كان اكبر ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم حضرت القاسم عليه السلام অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত কাসিম ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম তিনি সবার বড় অর্থাৎ তিনিই সর্বপ্রথম পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া) সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সময়কাল নিয়ে বাজারে প্রচলিত কিতাবাদীসমূহে কোন আলোচনাই পাওয়া যায় না। তবে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক উনার গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় বিষয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে জেনে উম্মাহর নিকট সুস্পষ্ট করেছেন যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুজাদ্দিদে আযম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সাড়ে ২৭ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সাড়ে ৪২ বছর, সেই বছর পবিত্র ২রা রমাদ্বান শরীফ হযরত ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি দুনিয়ার যমীনে প্রায় ২২ মাস অবস্থান মুবারক করে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ উনার ২ তারিখ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় সাড়ে ১২ বছর পুর্বে এবং হিজরতের প্রায় সাড়ে ২৫ বছর পূর্বে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শুরুর দিকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনু রসূল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা প্রত্যেকেই হুলিয়া মুবারকসহ সার্বিক দিক থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম তথা নকশা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়, ইবনু রসূল আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নাম মুবারক অনুসারে নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুনিয়াত মুবারক হযরত আবুল কাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রসিদ্ধি লাভ করে। অসংখ্য হাদীছ শরীফে এই কুনিয়াত মুবারক উনার ব্যবহারও দেখা যায়। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قَالَ ابُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم سَمَّوْا بِاسْمِى وَلاَ تكتنوا بِكُنْيَتِى. অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল কাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা আমার নাম মুবারকে নাম রাখো। তবে আমার কুনিয়াত মুবারকে নাম রেখো না। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ) সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র মক্কা শরীফ উনার জান্নাতুল মুয়াল্লা শরীফে স্থাপিত হয়েছে। একসময়ে তা চিহ্নিত ছিল। বর্তমান সউদী ইহুদী ওহাবী সরকার সেই চিহ্ন মুবারক মুছে দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে