মূর্তি, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারের পিছনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ না করে, সে টাকা দুর্গতদের জন্য খরচ করুন


প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঢাকায় নির্মিতব্য মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় হবে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক ঋণ সংস্থা জাইকা দিবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। বাকিটা বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। অন্যান্য ফ্লাইওভার নির্মাণেও ব্যয় হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “মেট্রোরেল বা ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে না। তাদের মতে, উন্নত বিশ্বে অকার্যকর হিসেবে বাতিল হওয়া ফ্লাইওভার পরিকল্পনাটি বাংলাদেশে বিলাসিতা বৈ কিছুই নয়। যানজট না কমিয়ে বৈদেশীক দেনা বাড়াচ্ছে এসব প্রকল্প।”
ভাস্কর্যের নামে এক মূর্তি তৈরি করতে খরচ হয় কমপক্ষে ১৫-৩০ কোটি টাকা, যা কোনো কাজেই আসে না।
এসব নির্বাক মূর্তি, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার করে কোনো আউটপুট পাওয়া যায় কি? বরং টাকা নষ্ট হয়। উন্নয়নের নামে এসব অনুৎপাদনশীল খাতে টাকা লুটপাট হয় কিন্তু জাতির কাজে আসে না। পক্ষান্তরে হাওর হলো বাংলাদেশের জীবন ও জীবিকার এক অন্যতম উৎস। জিডিপি’তে হাওরের অবদান ৬ শতাংশ। উন্মুক্ত উৎসের ২৮ শতাংশ মাছ আসে এই হাওর থেকে।
আজ সেই হাওর ভারতের চক্রান্তে ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার অধিক। আজ হাওরে চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। হাওরের মানুষ অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অথচ তাদের পর্যাপ্ত সাহায্য, ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ কোন পদক্ষেও নেয়া হচ্ছে না। এদিকে উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বিপুল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই মূর্তিস্থাপন, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল না করে এই টাকা হাওরের দুর্গতদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কি খরচ করা যায় না?
যারা কথিত কুশীল, আজ তারা কেন চুপ হয়ে আছে? এখন তারা কেন বলে না- মূর্তির পিছনে টাকা নষ্ট না করে হাওরে দিয়ে দিক? কেন বলে না- আমাদের ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল দরকার নাই?
মানুষ বাঁচলে হাওর বাঁচবে আর হাওর বাঁচলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সরকারকে অবশ্যই এসব অপ্রয়োজনীয় খাতে টাকা খরচ না করে হাওরের দুর্গতদের জন্য অনতিবিলম্বে কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিক।

Views All Time
1
Views Today
7
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে