মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিং ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপেই হারাম


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে মহিলারা! তোমরা জাহিলিয়াত যুগের মহিলাদের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেরিও না।’
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে দেখে ও দেখায় উভয়ের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত।’
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিং ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপেই হারাম।
তাহলে ৯৭ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশে মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিং, সিনেমা, নাটক ইত্যাদি লা’নতগ্রস্ত বিষয়গুলি কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? অর্থাৎ সেগুলি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অতএব, ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’-এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে,
মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিংসহ সর্বপ্রকার অশ্লীলতা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
“মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- ‘হে মহিলারা! তোমরা জাহিলিয়াত যুগের মহিলাদের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেরিওনা।’ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে দেখে ও দেখায় উভয়ের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত।’

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ‘পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ’ উনার ৮২ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।” অর্থাৎ সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রথমতঃ ইহুদীরা, দ্বিতীয়তঃ মুশিরকরা, আর তৃতীয়তঃ হচ্ছে নাছারারা। এক কথায় সকল বিধর্মীরাই সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানের শত্রু। তাই বলা হয়, “সমস্ত কাফিরেরা মিলে এক ধর্ম।” অর্থাৎ কোনো কোনো বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতিসাধনে তারা সবাই একজোট। ইহুদী-খ্রিস্টান, হিন্দু-বৌদ্ধ, মজূসী ও মুশরিক তারা সবাই মিলে সর্বদাই চেষ্টা করে থাকে কী করে মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান-আমল নষ্ট করে কাফিরে পরিণত করা যায়। নাউযুবিল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ’ উনার ১০৯ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “ইহুদী-নাছারা, আহলে কিতাব তথা বিধর্মীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিহিংসাবশত চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোনো রকমে কাফির বানিয়ে দিতে।” নাউযুবিল্লাহ! অর্থাৎ সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনাদের দুশমন, হহুদী, মুশরিক ও নাছারাগুলো চায় মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিংয়ের নামে মুসলিম নারীগণকে বেপর্দা, বেহায়া ও জাহান্নামী বানাতে।
কাজেই বিধর্মীরা যেহেতু সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনাদের চরম পরম শত্রু তাই তারা হিংসার বশবর্তী হয়েই মুসলমান উনাদের ঈমান-আমল নষ্ট করে। অর্থাৎ তথাকথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিংসহ আরো বহুবিধ বেপর্দা ও বেহায়ামূলক কাজে মশগুল করে দিয়ে ‘দাইয়্যূছ’ বানিয়ে চির জাহান্নামী করতে চায়। কারণ, ইহুদী-খ্রিষ্টান তথা মুসলমান উনাদের তাবৎ শত্রুরা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পেয়েছে, “দাইয়ূছ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবেনা।” (নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)

ইহুদী-নাছারারা উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, যে কোনো মূল্যেই হোক না কেন মুসলমান উনাদেরকে ‘দাইয়ূছ’ বানিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলা উভয়কে বেপর্দা করে দিতে হবে। এলক্ষে তারা কাজ শুরু করেছে এবং অনেকটা অগ্রগতিও হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! আজ সারাবিশ্বের অধিকাংশ মহিলা ও পুরুষ উভয়ে চরম বেপর্দা। মহিলারা আজ পুরুষের সাথে একই অফিসে চাকুরী করছে, লেখা-পড়া করছে, সিনেমা, নাটক করছে, গান গাইছে, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো ও মডেলিংয়ে অংশগ্রহণ করছে, রাজনীতি করছে, খেলাধুলা করছে। নানানভাবে আজকে মহিলাদের সাথে সাথে পুরুষদেরকেও বেপর্দা, বেহায়া অর্থাৎ দাইয়ূছ করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিং ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপেই হারাম। তাহলে ৯৭ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশে মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিং, সিনেমা, নাটক ইত্যাদি লা’নতগ্রস্ত বিষয়গুলি কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? অর্থাৎ সেগুলি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অতএব, ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’-এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, মডেলিংসহ সর্বপ্রকার অশ্লীলতা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+