মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ বোঝা নয়, বরং মহান আল্লাহপাক উনার দয়া ইহছান মুবারকঃ


আমাদের সমাজ নারীঘটিত ফিতনা-ফাসাদে জর্জরিত। সত্তর ভাগ ফিতনা-ফাসাদের মূলে যে বিষয়টি লক্ষ্যণীয় তা হলো- নারী। যার কারণে মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করলেই অধিকাংশ পিতা-মাতা বোঝা মনে করে থাকে। মূলত মেয়ে সন্তান পিতা-মাতার জন্য বোঝা নয়, বরং ইহসান। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “কারো যদি তিনটা মেয়ে থাকে সে যদি উপযুক্ত শিক্ষা অর্থাৎ দ্বীনি তালিম-তালকীন দিয়ে সৎপাত্র বিয়ে দেয় তাহলে সে এবং আমি এইভাবে থাকবো।” সুবহানাল্লাহ!
তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি দু’জন হয়? তখন উনি জবাব মুবারক দিলেন তাহলেও এভাবে আমি থাকবো। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তী আরেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি কারো একজন মেয়ে সন্তান থাকে- তাহলে? তখন তিনি জবাব মুবারক দিলেন সে আর আমি এভাবেই থাকবো। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ কোনো পিতা মেয়েদের দ্বীনি তালীম-তালকীন দিয়ে নেককার পরহেযগার করে এবং নেককার পরহেযগার পাত্রের সাথে বিয়ে দেয় তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উক্ত পিতা একত্রে জান্নাতে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত এখন সেই মেয়ে সন্তানদের দ্বীনি তা’লীম-তালক্বীন দেয়া হয় না; বরং বলে থাকে আমার এই মেয়েকে পুরুষের মতো করে স্বাবলম্বী করে তুলবো। যার কারণে এই স্বাবলম্বীর আকাঙ্খা পিতা-মাতার জন্য আযাব-গযবে পরিণত হয়। নাউযুবিল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে একজন মেয়ে আল্লাহওয়ালী হলেই একটা সমাজ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়া সহজ হয়। কেননা একটি মেয়ে এক সময় মা হয়। আর একজন মা যখন আল্লাহওয়ালী হয় তখন তার সন্তান-সন্তুতিগণ সহজেই আল্লাহওয়ালা আল্লাহওয়ালী হয়। সুবহানাল্লাহ!
তাই প্রত্যেক পিতা-মাতাকে তাদের ছেলে সন্তানের পাশাপাশি মেয়ে সন্তানের তা’লীম-তালক্বীন অর্থাৎ দ্বীনি শিক্ষায় সচেতন হওয়া বাঞ্চণীয়। যখন সমাজের সব মেয়েরা দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, সমাজ হবে কুলষমুক্ত, ফিতনা-ফাসাদ মুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
এখন এই সঠিক দ্বীনি ইলম শিক্ষা অর্জনের সঠিক স্থান হলো একমাত্র ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা। যা সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া উম্মুল উমাম হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকাতায় পরিচালিত। যেখানে খাছ পর্দার সাথে পবিত্র ইলমে ফিক্বাহ ও পবিত্র ইলমে তাসাউফসহ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনার আলোকে শিক্ষা দিয়ে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালী বানানো হয়। সুবহানাল্লাহ!
তাই আজই আপনার সন্তানকে দেরি না করে ঈমান-আক্বীদা আমল হিফাযত করার একমাত্র সু-প্রতিষ্ঠান মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ উনার মধ্যে নিয়ে আসুন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে