মোগল সেনাপতির ডায়েরী প্রকাশ ও বিধর্মীদের দাবিকৃত মিথ্যা ইতিহাস ফাঁস!


মোগল সেনাপতির ডায়েরী প্রকাশ ও বিধর্মীদের দাবিকৃত মিথ্যা ইতিহাস ফাঁস!

বাংলায় মোগল শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো, তার প্রামাণ্য ইতিহাস পাওয়া যায় ‘বাহারিস্তান-এ-গায়বী’ নামক কিতাবে। এই কিতাবটি হচ্ছে মোগল সেনাপতি মির্জা নাথানের দিনলিপি বা ডায়েরী। প্যারিসের মিউজিয়ামে যদুনাথ সরকার আকস্মিকভাবে এই কিতাবটি খুঁজে পায়, পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসী বিভাগ থেকে ‘বাহারিস্তান-এ-গায়বী’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার ‘জীবনের স্মৃতিদীপে’ নামক আত্মজীবনীর ৭২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে- “যদুনাথ সরকার প্যারিসে ‘বাহারিস্তান-এ’ গায়বী নামে একটি পুঁথির সন্ধান পায় এবং তার বিবরণ প্রকাশ করে। এতে জাহাঙ্গীরের আমলে বাংলাদেশ জয়ের ইতিহাস ফারসী ভাষায় লেখা আছে। যশোরের প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে মোগল সৈন্যবাহিনী যিনি পরিচালনা করেছিলেন (মির্জা নাথান নিজেই) এতে তিনি বিস্তৃতভাবে সেই অভিযানের পুরো বিবরণ দিয়েছেন। তাতে দেখা যায়- যে কথিত ‘মহারাজা’ প্রতাপাদিত্যের শৌর্য ও বীরত্ব সম্বন্ধে যেসব কাহিনী প্রচলিত আছে তার বাস্তবিকই কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।”

কুসংস্কারাচ্ছন্ন মূর্খ বিধর্মীরা দাবি করতো এবং এখনো দাবি করে থাকে যে, প্রতাপাদিত্য বিরাট ‘বীর’ ছিল। বিধর্মীরা দাবি করে থাকে, প্রতাপাদিত্য যশোরে স্বাধীন হিন্দুরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং বারভূঁইয়াদের সাথে মোগলদের বিরুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু ‘বাহারিস্তান-এ-গায়বী’ কিতাবটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর এ সবই ভুল ধারণা বলে প্রমাণিত হয়।

উক্ত দিনলিপিতে মির্জা নাথান প্রকাশ করেছেন যে, প্রতাপাদিত্যের পিতা শ্রীহরি, যে ছিল আফগান রাজা দাউদ খান কররানীর রাজস্ব বিভাগের প্রধান, বিশ্বাসঘাতকতা করে মোগলদের সাহায্য করে। ফলে বাংলার শেষ স্বাধীন শাসক দাউদ খান কররানীর পতন হয়। মোগলরা দাউদ খান কররানীকে হত্যা করে এবং দাউদ খান কররানীর রাজত্বের রাজস্ব আদায় বাবদ সমুদয় সম্পদ লোপাট করে বিশ্বাসঘাতক শ্রীহরি যশোরে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

শ্রীহরির মৃত্যুর পর যশোরের রাজা হয় তার পুত্র প্রতাপাদিত্য। দাউদ খান কররানীর মৃত্যুর পর বারভূঁইয়ারা যখন বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার্থে মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন প্রতাপাদিত্য তার দেশদ্রোহী পিতার পথ অনুসরণ করে মোগলদের সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতি দান করে। কিন্তু প্রতাপাদিত্য পরবর্তীতে তার এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং মোগলরা প্রতাপাদিত্যকে শাস্তি দিতে মির্জা নাথানের নেতৃত্বে নৌবাহিনী প্রেরণ করে। পরবর্তীতে মোগলরা এই বিশ্বাসঘাতক প্রতাপাদিত্যকে তার পরিবারসহ বন্দী করে এবং লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রদান করে।

প্রতাপাদিত্যকে বিরাট ‘বীর’ বলে বিধর্মীদের মিথ্যা দাবির গোমর ফাঁস হতো না, যদি না ‘বাহারীস্তান-এ-গায়বী’ কিতাবটি প্যারিসে খুঁজে না পাওয়া যেত। এখন প্রশ্ন হলো, বাংলার ইতিহাস নিয়ে লেখা ফারসী কিতাব সেই সুদূর প্যারিসে গেল কিভাবে? এর উত্তর হলো, ব্রিটিশরা যখন ভারতবর্ষ দখল করে, তখন তারা মুসলমানদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত লক্ষ লক্ষ আরবী-ফারসী কিতাব লুট করে নিয়ে যায়। ঐসব কিতাবগুলো পরবর্তীতে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন লাইব্রেরী ও মিউজিয়ামের নিকট চলে যায়। ঐসব কিতাবাদি পাঠ করেই তাবৎ খ্রিস্টানরা সভ্য হয়েছে, বিজ্ঞান ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পেরেছে।

বাংলা ও ভারতবর্ষের মুসলমানদের তো উচিত ছিল, সেসব কিতাবগুলো ফের এদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। তাহলে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের সঠিক ইতিহাস জানতে পারতো, আর ইতিহাস নিয়ে বিধর্মীরা যেসব মিথ্যা দাবি করে থাকে, তাও খ-ন করা যেত। কিন্তু উপমহাদেশের মুসলমানদের সে দিকে মন নেই, কারণ তারা আজ তাদের পূর্বপুরুষরদের কীর্তি ভুলে গিয়ে এই অস্পৃশ্য ও মূর্খ বিধর্মীদেরকেই সর্বেসর্বা মনে করছে। নাউযুবিল্লাহ! পশ্চিমারা এদেশ থেকে মুসলমানদের ধন-সম্পদ ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চুরি করে লাভবান হয়েছে, আর ভারতবর্ষের মুসলমানরা অসার বিজাতীয় কালচারের পঙ্কিলতায় হাবুডুবু খেতে খেতে নিজেদেরকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে