মোল্লা-মৌলভী-মাদরাসা নিয়ে বিধর্মীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও তাদের অতীত ইতিহাস!


মোল্লা-মৌলভী-মাদরাসা নিয়ে বিধর্মীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও তাদের অতীত ইতিহাস!

ব্রিটিশ আমলের পূর্বে যখন ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন বিদ্যমান ছিল, তখন গোটা পাক-ভারত উপমহাদেশের প্রশাসনিক ভাষা ছিল ফারসী। যে কারণে তৎকালীন সময়ে বিধর্মীরা যদি সরকারি চাকরি করতে চাইত, সেক্ষেত্রে তাদেরকে ফারসী শিখতে হতো। ফারসী শেখার জন্য বিধর্মীদেরকে অবধারিতভাবেই মাদরাসায় যেতে হতো অথবা বাসায় মোল্লা-মৌলভী রেখে ফারসী শিখতে হতো।

বর্তমান সময়ে ব্রাহ্মণ-কায়স্থ এসব জাতিকে বিধর্মীদের মধ্যে অগ্রগামী বলে ধরে নেয়া হয়, যাদেরকে বর্ণহিন্দু বলা হয়। এসব গোষ্ঠী বিধর্মীদের মধ্যে অগ্রগামী হওয়ার কারণ হচ্ছে, বিধর্মীদের মধ্যে এই গোষ্ঠীগুলোই ফারসী ভাষা শিক্ষা করেছিল এবং মুসলমান শাসকদের অধীনে চাকরি করেছিল। তবে বাহ্যিকভাবে ফারসী শিখে মুসলমানদের প্রতি আনুগত্য দেখালেও ভেতরে ভেতরে সবসময়ই মুসলমানদের প্রতি এসব বিধর্মীদের বিদ্বেষভাব ছিল। যে কারণে ব্রিটিশরা আসার পর এই বিধর্মীরাই মাদরাসা-মোল্লা-মৌলভী এসব বিষয়কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে থাকে।

১৮৫৮ সালে রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটিতে এর কিছু উদাহরণ পাওয়া যাবে, যেখানে এক ফারসী শিক্ষককে হিন্দুবাড়িতে ডেকে লাঞ্ছিত করার নিম্নোক্ত কাহিনী বর্ণনা করা হয়-

“পুত্রকে ফার্সি পড়াইবার জন্য বাবুরাম বাবু এক জন মুনসি অন্বেষণ করিতে লাগিল। অনেক অনুসন্ধানের পর আলাদি দরজির নানা হবিবল হোসেন তেল কাঠ ও ১।।০ টাকা মাহিনাতে নিযুক্ত হইলো। মুনসি সাহেবের দন্ত নাই, পাকা দাড়ি, শণের ন্যায় গোঁফ, শিখাইবার সময় চক্ষু রাঙা করেন ও বলেন, “আরে বে পড়” ও কাফ গাফ আয়েন গায়েন উচ্চারণে তাঁহার বদন সর্ব্বদা বিকট হয়। এক দিবস মুনসি সাহেব হেঁট হইয়া কেতাব দেখিতেছেন ও হাত নেড়ে সুর করে মসনবির বয়েৎ পড়িতেছেন ইত্যবসরে মতিলাল পিছন দিগ দিয়া একখান জ্বলন্ত টিকে দাড়ির উপর ফেলিয়া দিলো। তৎক্ষণাৎ দাউদাউ করিয়া দাড়ি জ্বলিয়া উঠিলো। মতিলাল বলিলো- কেমন রে বেটা শোরখেকো নেড়ে, আর আমাকে পড়াবি?

মুনসি সাহেবের দুর্গতির কথা শুনিয়া বাবুরাম বাবু বলিলো- মতিলাল তো আমার তেমন ছেলে নয়- সে বেটা জেতে নেড়ে-কত ভালো হবে? পরে ভাবিল যে ফার্সির চলন উঠিয়া যাইতেছে, এখন ইংরাজি পড়ান ভালো।” (সূত্র: আলালের ঘরের দুলাল, অ্যাডর্ন পাবলিশার্স, পৃষ্ঠা ১৭-১৯)

যেই মুসলমান শিক্ষকের কাছ থেকে ফারসী শিখে একদা বিধর্মীরা নিজেদের রুটিরুজি যোগাড় করতো, ব্রিটিশরা আসার পর সেই শিক্ষককেই তারা ‘নেড়ে’ বলে হেয় প্রতিপন্ন করলো। অর্থাৎ বিধর্মীরা নিচুশ্রেণীর, যারা ক্ষমতা পেলে মানী লোকের অসম্মান করে থাকে। প্রশ্ন হতে পারে, এমতাবস্থায় মুসলমানদের কী উচিত ছিল না, স্বাধীনতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে বিধর্মীদেরকে এক কাপড়ে বের করে দেয়া? সেটিই হতো, যদি মুসলমানরা নিজেরাই সময়ের আবর্তনে বিধর্মীতে পরিণত হতো না। নাউযুবিল্লাহ!

বর্তমান সরকারের আমলে এদেশে বিধর্মীদেরকে গণহারে ক্ষমতায়িত করা হচ্ছে, যার ফলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং মুসলমানরা ফের সেই ব্রিটিশ আমলের লাঞ্ছনা-গঞ্জনার পরিণতি বহন করতে যাচ্ছে। কিন্তু মুসলমানদের জন্য আফসোস, তারা ভারতীয় টিভি-সিনেমার আফিমে ডুবে রয়েছে এবং বিধর্মীদের মতো চিহ্নিত শত্রুকে বন্ধু মনে করছে। নাউযুবিল্লাহ! মুসলমানরা বুঝতে পারছে না যে, কতো ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই দেশ ও এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান। নাউযুবিল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে