যখন নিয়ামতে ডুবিয়ে রাখা হয় তখন আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ হয় না, স্মরণ হয় ঘাড়ের রগে টান পরার পর!


বনী ইস্রাইলের এক লোক ৪০০ বছর হায়াত পেয়েছিল। তার সম্পদও ছিল অনেক। কিন্তু সে ছিল আল্লাহ পাক উনার থেকে গাফেল। ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আল্লাহ পাক উনার কাছে আরজ করলেন, আয় আল্লাহ পাক! আপনার এই বান্দা এতো নিয়ামত ভোগ করছে; কিন্তু সে একবারও আপনার কথা স্মরণ করে না। আল্লাহ পাক তখন বললেন, “হে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম! আপনারা লোকটার ঘাড়ের রগ ধরে টান দিন।” নির্দেশমত যখন রগে টান দেয়া হল, লোকটা চিৎকার করে উঠলো, ইয়া আল্লাহ পাক! আল্লাহ পাক বললেন, “লাব্বাইক ইয়া আবদি! আমি তোমাকে এত নিয়ামত দিলাম, তবুও আমার কথা তুমি একবারও মনে করলে না। আর যেই রগে টান পড়ল, অমনি আমাকে মনে পড়ল?”
মানুষ এমনই! যখন তাকে নিয়ামতে ডুবিয়ে রাখা হয়, তখন সে নিয়ামতের মালিক উনাকে ভুলে যায়। শুকরিয়া আদায় করেনা। ফলে নিয়ামত তার থেকে চলে যায়। এ ব্যাপারে কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে আমি নিয়ামত বৃদ্ধি করে দেই এবং যে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না তার জন্য কঠিন আযাব রয়েছে।” (পবিত্র সুরা ইব্রাহীম শরীফ: ৭)। কাজেই যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন বান্দার উচিত সর্বদা শোকরগুজারী করা।
সমস্ত কায়িনাতের জন্য নিয়ামতে উযমা হলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। কাজেই শুধু ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ না, বরং সারা জিন্দেগীব্যাপী উনাকে পাওয়ার জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত, ফাল ইয়াফরহু (খুশি প্রকাশ) করা উচিত। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন।
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+