যখন রজব মাস আগমন করে তখন তোমরা বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল হও।”


হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যখন রজব মাস আগমন করে তখন তোমরা বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল হও।” এ মাসের চাঁদ দেখলে তিনি নিজে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়তেন-

اللهم بارك لنا فى رجب وشعبان وبلغنا رمضان

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক্লানা ফী রজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাল্লিগ্না রমাদ্বান।’

অর্থ: “আয় আল্লাহ পাক! আমাদেরকে রজব ও শা’বানে বরকত দান করুন এবং রমাদ্বান মাস পর্যন্ত পৌঁছার তাওফীক দিন।” (হিলইয়াতুল আওলিয়া, তবাকাতুল আছফিয়া)

আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, “যে মুসলমান পুরুষ-মহিলা রজব মাসের পহেলা তারিখ দিনে রোযা রাখবে এবং রাত্রিতে নফল ইবাদত-বন্দেগীতে কাটিয়ে দিবে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, আল্লাহ পাক তিনি তার আমলনামায় এক বৎসর দিনে রোযা রাখার এবং রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করার ছওয়াব লিখে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, মাহে রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত অন্যান্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক রোযা রাখা খাছ সুন্নত। শাওওয়াল মাসে ৬টি,  যিলহজ্জ মাসে ৯টি এবং অন্যান্য মাসে ৩টি।

সুতরাং এ মাসে রোযার সুন্নতটি পালন করতে হলে উত্তম ও আফযল হলো, পহেলা তারিখ, পহেলা জুমুয়ার তারিখ এবং সাতাশ তারিখের দিন রোযা রাখা। কারণ উক্ত দিন তিনটি অন্যান্য দিন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত।

যেমন বর্ণিত রয়েছে যে, রজবের পহেলা রাতটি দোয়া কবুলের খাছ রাত, পহেলা জুমুয়ার রাতটি হচ্ছে রগায়িবের রাত অর্থাৎ এ রাতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ নেন এবং সাতাশ তারিখের রাতটি হচ্ছে  মি’রাজ শরীফ-এর রাত।

অতএব, প্রত্যেকের উচিত এ মাসেই খালিছভাবে তওবা-ইস্তিগফার করে যথাসাধ্য আমলে নিবেদিত হওয়া এবং তাওফীক কামনা করা, আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে যেন মাহে শা’বান অতঃপর মাহে রমাদ্বান শরীফ-এর বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পরিপূর্ণ হিসসা নছীব করেন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে