যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুদের তথাকথিত “গণশ্রাদ্ধ” হিন্দুধর্ম বিরোধী বিধান


স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে হঠাৎ করে যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুদের দেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতিদানকারী (!!) ‍হিন্দুদের পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে ঘোষণা দিয়ে ‘গণশ্রাদ্ধ ৭১’ নামের একটি অদ্ভুত অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । অথচ হিন্দুধর্ম মতে ‘গণশ্রাদ্ধ’ বলতে কোন অনুষ্ঠানের বিধান নেই । কারণ  ‘শ্রাদ্ধ’ একান্তই পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত কাজ তাই রক্তের সম্পর্কের আত্নীয়-স্বজনরাই কেবলমাত্র শ্রাদ্ধ করার অধিকারী। শ্রাদ্ধকার্য সম্পাদনে তিন পূর্বপুরুষ পর্যন্ত স্মরণ এবং তাদের নামে মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ এবং পিণ্ডদান করা বাধ্যতামূলক। শ্রাদ্ধের ক্রিয়াদি পালনে পরলোকগত ব্যক্তির এবং শ্রাদ্ধকর্তার নাম উচ্চারণও বাধ্যতামূলক। এসব কারণে হিন্দুধর্ম মতে ‘গণশ্রাদ্ধ’ করা সম্ভব নয় এবং তাই গণশ্রাদ্ধ আয়োজন ধর্মের নামে ধর্মবিরোধী একটি কাজ । তাছাড়া হাজার হাজার পরিবার ১৯৭১ সালেই তাদের নিহত পরিবার-পরিজনের শ্রাদ্ধক্রিয়া সম্পন্ন করছে। তাই এখন তথাকথিত গণশ্রাদ্ধের নামে একই ব্যক্তির দুইবার শ্রাদ্ধ হবে যা একটি গর্হিত কাজ । এই গর্হিত কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে এবং পারিবারিক সম্মানে আঘাত লাগবে। তাছাড়া অনুষ্ঠানে ভারত থেকে শত শত পুরোহিত আনা হবে। ভারত থেকে আমদানি করা হবে ৪০-৫০ মণ চন্দনকাঠ। যজ্ঞের জন্য এতবড় অগ্নিকুন্ড প্রজ্জলন করা হবে যে, তা ঢাকা শহরের দূরদূরান্ত থেকে দেখা যাবে। ৯৭ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এসব কর্মকান্ডের ঘোষণা দেয়াটা স্পষ্টতই চরম সাম্প্রদায়িক ও উষ্কানীমূলক। এই তথাকথিত “গণশ্রাদ্ধ” একটি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক অনুষ্ঠান বিধায় তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং প্রজাতন্ত্রের সংবিধান পরিপন্থী। অবিলম্বে যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুদেরকে তাদের ধর্মবিরোধী অনুষ্ঠান হওয়ায় এবং সরকারকে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির স্বার্থে এই অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+