যাকাত কে আদায় করবেন?


যিনি মালিকে নিছাব তিনি যাকাত আদায় করবেন। সম্মানিত শরীয়ত উনার পরিভাষায় হাওয়ায়িজে আছলিয়াহ বা মৌলিক চাহিদা মিটানোর পর অতিরিক্ত ২০ মিছকাল অর্থাৎ সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ অথবা ২০০ দিরহাম অর্থাৎ সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা এ সমপরিমাণ অর্থ-সম্পদ যদি কারো অধীনে থাকে, তাহলে তিনি মালিকে নিছাব।
আর সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধান অনুযায়ী উক্ত অতিরিক্ত মাল-সম্পদ বা অর্থ যদি পূর্ণ এক বছর নিজ মালিকানায় থাকে তবে যাকাত ফরয হবে।
হাওয়ায়িজে আছলিয়াহ বা মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু। যেমন- খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয় বস্ত্র, বসবাসের বা থাকার ঘর, ঘরের আসবাবপত্র, চিকিৎসার অর্থকড়ি বা ঔষধপত্র, গৃহস্থলি সামগ্রী, পেশাসংক্রান্ত উপকরণ, কারখানাার যন্ত্রপাতি ও স্থান, যোগাযোগের বাহন খরচ এগুলোর উপর যাকাত নেই। (আল হিদায়া, মুখতাছরুল কুদূরী)

যদি কারো মালিকানায় ২০০ দিরহাম তথা সাড়ে ৫২ তোলা (প্রায় ৬০০ গ্রাম) রৌপ্যমুদ্রা থাকে এবং এক বছর পূর্ণ হয়, তাহলে তাতে ৫ দিরহাম তথা ২.৫% বা ১৫ গ্রাম রূপা যাকাত ফরয হবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে কোন যাকাত দিতে হবে না, যতক্ষণ না ২০ দীনার বা মিছকাল তথা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণের মালিক হয়। যখন কারো নিকট ২০ দীনার বা মিছকাল তথা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ হবে এবং তাতে এক বছর পূর্ণ হবে, তখন তা থেকে অর্ধ দীনার বা অর্ধ মিছকাল তথা ৪০ ভাগের ১ ভাগ সম্মানিত যাকাত আদায় করতে হবে। এর বেশি যা হবে, তা থেকে এ হিসেবেই দিতে হবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে ৪০-এ ১ টাকা, ১০০-তে ২.৫ টাকা, ২০০-তে ৫ টাকা, ১০০০-এ ২৫ টাকা যাকাত ধার্য করা হয়েছে। এভাবে যত উর্ধ্বে যাক না কেন সে অনুযায়ী যাকাত দিতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে