যাকাত নিয়ে ইহুদী-মুশরিকদের ষড়যন্ত্র


যাকাত ইসলামের মৌলিক স্তম্ভসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়। দুনিয়াতে বান্দা যা কিছু উপার্জন করে, ভোগ করে তার সবই দিয়ে থাকেন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন এবং তা উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে সকলের মাঝে তা বণ্টন করে দেন। যেমন হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক দিয়ে থাকেন আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বণ্টন করেন।”
আল্লাহ পাক তিনিই একমাত্র রিযিক্বদাতা। তাই উনার দেয়া মাল সম্পদ তিনি যেভাবে বলেছেন সেভাবে খরচ করাই একজন মু’মিন-মুসলমান মাত্র তার দায়িত্ব-কর্তব্য। সামাজিক ভারসাম্যতা, পারস্পরিক সহনশীলতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি প্রকাশের জন্য, অর্জিত সম্পদের নিরাপত্তার জন্য, পবিত্রতার জন্য, সর্বোপরি তা আল্লাহ পাক উনার প্রদর্শিত পন্থায় ব্যয় করে উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই যাকাত ফরয করা হয়েছে। তাই এই যাকাত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে, সতর্কতার সাথে, সঠিক পরিমাণে, সঠিক নিয়মে, সঠিক খাতে উপযুক্ত বস্তু দ্বারা প্রদান করাই সকলের একান্ত কর্তব্য এবং নিজ স্বার্থেই অবশ্য করণীয়। কেননা এটা তার ইহকাল-পরকালের কামিয়াবী হাছিলের সহায়ক হবে। আর তাই যাকাত এর গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেছেন,
তোমরা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করবেনা অর্থাৎ যে দ্রব্য বা কাপড় অথবা ফসল, ফলাদি বা প্রাণী তা যাকাত দেয়ার জন্য নির্ধারিত করোনা। আল্লাহ পাক গণী এবং অভাবমুক্ত।
অর্থাৎ যাকাত যে মাল বা বস্তু দ্বারা আদায় করবে তা অবশ্যই স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যম-িত হতে হবে। তা সকলের জন্য ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। এক কথায় সর্বোত্তম বস্তু দ্বারা যাকাত প্রদান করতে হবে।
অথচ বর্তমানে কাফির-মুশরিক, বে-দ্বীন, বদ-দ্বীনদের একটি হীন চক্রান্ত লক্ষ্য করা যায় যাকাতকে ঘিরে। তা হলো, দেখা যায় দেশের বিভিন্ন দোকান-পাটে, মার্কেটে সাইনবোর্ড, ব্যানারে বড় করে লিখা হয় ‘এখানে সুলভমূল্যে যাকাতের কাপড় পাওয়া যায়।’ নাঊযুবিল্লাহ! যা কিনা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ যাকাত কে সূক্ষ্মভাবে হেয়, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। কেননা এসব দোকানে কম দামে অতি নিম্নমানের কাপড়-বস্ত্রাদি বিক্রয় করা হয়, যে কাপড় যাকাত প্রদানকারী তার এবং তার পরিবারে জন্য কখনোই পছন্দ করবেনা। যাকাত-এর জন্য ইসলামে তো আলাদা বস্তুর কথা বলা হয়নি। যাকাত প্রদানকারী যা ব্যবহার করে, যা পছন্দ করে তার মত তো অবশ্যই বরং তার চেয়ে উত্তম বস্তু দিতে হবে। কেননা এটা আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য প্রদান করতে হয়। যাকাত-এর নামে কম দামি, নিম্নমানের বস্তু প্রদান করলে তা হবে স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার সাথে চরম ধৃষ্টতা। যা কিনা ঈমানহারা হওয়ার কারণ।
কাজেই প্রত্যেককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যেন এরূপ হীনকর্মকা- যাকাতকে ঘিরে কেউ ঘটাতে না পারে। সকল মুসলিম দেশের জনগণ এবং সরকারকে এরূপ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে