যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার হল্যান্ডের হাজার হাজার শিশু


যে কোন ধর্মের ক্ষেত্রেই বিশ্বাস করা হয়, ধর্মীয় ব্যক্তিদের কাছে শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে। ধর্মীয় ব্যক্তিরা হবেন শিশুদের রক্ষাকর্তা। কিন্তু প্রকাশিত কিছু ঘটনা প্রমাণ করেছে, এই ধারণা ঠিক নয়। উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার শিশু রক্ষকদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে । আর এটা মূলত খ্রিষ্টান ও ইহুদীদের ধর্ম যাজকদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হয়। সম্প্রতি হল্যান্ডের একটি স্বাধীন কমিশন সে দেশের ক্যাথলিক যাজকদের দ্বারা শিশুদের যৌন নির্যাতনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কমিশন প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৯৪৫ থেকে ২০১০- এই ৬৫ বছরে দেশটির ক্যাথলিক গির্জাগুলোতে হাজার হাজার শিশু যৌন পীড়নের শিকার হয়েছে। নির্যাতনের মাত্রা কারো ক্ষেত্রে বেশি, কারো কারো ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত। প্রতিবেদনে প্রায় আটশো ব্যক্তির নাম দেয়া হয়েছে, যারা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতে আছে। এদের মধ্যে ১০৫ জন এখনো বেঁচে আছে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ভিম ডিটমান ছয় সদস্যের ঐ কমিশনের প্রধান ছিলো। গত বছর গঠিত কমিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ছয়জন। এর মধ্যে ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাবেক বিচারক এবং মনোবিজ্ঞানী। চল্লিশোর্ধ্ব প্রায় ৩৪ হাজার ডাচ নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।-খবর ডয়চে ভেলের।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিটমান জানায়, আমরা যে সংখ্যাটা জানতে পেরেছি সেটা অনেক বড়। এটা এখন সরকারি কৌঁসুলিদের বিষয় যে, তারা নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করবেন কিনা। কমিশন প্রধান বলেছে, সাধারণ শারীরিক ছোঁয়া থেকে শুরু করে যৌনকর্মের চরম পর্যায় পর্যন্ত গিয়েছে অপরাধীরা। সে আরও জানায়, গির্জাতে এ ধরনের ঘটনা যে ঘটে সেটা জানা যায় চল্লিশের দশকেই। সে সময় বিষয়টার কিভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করা যায়নি।

ডিটমান বলেছে, ষাটের দশক পর্যন্ত প্রকাশ্যে যৌনতা নিয়ে আলোচনা করাকে ‘ট্যাবু’ হিসাবে ধরা হতো। এছাড়া গির্জাগুলোতে অন্যরকম প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকার কারণেও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়নি। তবে কুমারব্রত গ্রহণ করে যাজক হওয়া ও যৌন নির্যাতনের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না সে ব্যাপারে কমিশন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। কমিশন মনে করে, কুমারব্রত গ্রহণের কারণে যাজকদের মধ্যে যৌন চাহিদা তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে এই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। কমিশন প্রধান বলেন, ক্যাথলিকদের পরিচালিত বোর্ডিং স্কুলে পড়া শিক্ষার্থীরা নির্যাতিত হয় বেশি। তবে এ ধরনের সমস্যা নন-ক্যাথলিক আবাসিক স্কুলগুলোতেও বিদ্যমান বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

এদিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর হল্যান্ডের বিশপরা তাদের ‘লজ্জা ও দুঃখ’ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যাজকদের প্রশিক্ষণের সময় বিষয়টা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কিন্তু যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদেরকে কিভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে গঠিত একটি কমিটি গত জুনে নির্যাতনের মাত্রা বিবেচনা করে এক লাখ ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে।

 

সূত্র : দৈনিক  ইত্তেফাক

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+