যাদের ঈমান-আক্বীদা বিশুদ্ধ নয় তাদেরকে যাকাত প্রদান করা যাবে না


মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন-
يَآ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اٰمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِيْ نَزَّلَ عَلٰى رَسُوْلِهٖ وَالْكِتَابِ الَّذِيْٓ اَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ ۚ
অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করো অর্থাৎ আক্বীদা বিশুদ্ধ করো এবং আক্বীদা বিশুদ্ধ করো উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও উনার প্রতি নাযিলকৃত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে নাযিলকৃত পূর্ববর্তী পবিত্র আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের প্রতি।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৬)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে যে, যারা ঈমান এনেছে তাদের আক্বীদা বিশুদ্ধ হতে হবে অর্থাৎ তাদের ঈমান খুঁতমুক্ত হতে হবে। নতুবা তারা ঈমান আনার পরও মুসলমান উনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। তাই যারা ঈমান আনার পরও আক্বীদা বিশুদ্ধ করতে পারেনি অর্থাৎ যাদের ঈমান খুঁতমুক্ত নয় এমন ব্যক্তি বা এমন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠানে সম্মানিত যাকাত প্রদান করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, বিরাট পর্বতমালা যার অস্তিত্ব শত শত মাইল দূর হতে দেখা যায়। কিন্তু ঈমান অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। কিভাবে যে একজন ঈমানদার ব্যক্তি বেঈমান হয়ে যায় তা বোঝা কঠিন। যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে কাদিয়ানীরা। তারা সব মানে কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘খ¦তামুন নাবিয়্যীন’ অর্থাৎ শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না। নাঊযুবিল্লাহ! ১ টি শব্দ ‘খ¦তাম’ যার অর্থ ‘শেষ’ না মানার কারণে তারা মিথ্যাদাবীদার, প্রতারক গোলাম কাদিয়ানী (যে ইস্তেঞ্জাখানায় পড়ে মারা গিয়েছে) তাকে তারা নবী বলে দাবী করে। নাঊযুবিল্লাহ! এরা যত আমলই করুক না কেন এদের কোন আমলই কবুল হবে না। এরা কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী। এদেরকে কোনভাবেই যাকাত প্রদান করা যাবে না।
কাদিয়ানীদের মতো আমাদের সমাজে এমন অনেক সম্প্রদায় রয়েছে যাদের ঈমান-আক্বীদা বিশুদ্ধ নয়।
এদের প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাতপ্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমি এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত মুবারক ও পথ মুবারক উনাদের উপর যারা কায়িম থাকবেন (উনারাই নাযাতপ্রাপ্ত দল)।” (তিরমিযী শরীফ : কিতাবুল ঈমান : বাবু মা-জা-য়া ফিফতিরাক্বি হাজিহিল উম্মাতি : হাদীছ শরীফ নং ২৬৪১)
উক্ত ৭২ টি বাতিল ও জাহান্নামী দলের মধ্যে কয়েকটি হলো- খারিজী সম্প্রদায়, ওহাবী সম্প্রদায়, দেওবন্দী সম্প্রদায় ইত্যাদি।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে