যামানার তাজদীদী মুখপত্র ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ উনার পরিচিতি


‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ হচ্ছে- আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ছহীহ আক্বীদা ভিত্তিক একটি মাসিক দ্বীনী তা’লীমী পত্রিকা।

এ দ্বীনী পত্রিকাটি যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত ও পরিচালিত। এটি উনার তাজদীদী মুখপত্র।

#মূলনীতি- একখানা সম্মানিত হাদীছ শরীফ

” قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَبَّ فِي اللَّهِ وَأَبْغَضَ فِي اللَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ.“

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মুহব্বত করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, বিদ্ধেষ পোষণ করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, আদেশ (দান) করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং নিষেধ করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, সে ঈমানে পরিপূর্ণ।” সুবহানাল্লাহ (আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

#পরিচিত:

এ দ্বীনী তা’লীমী পত্রিকাটির মূল নাম “আল বাইয়্যিনাত”। আরবী ভাষায় ‘আল’ শব্দটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আর ‘বাইয়্যিনাত’ শব্দটি ‘বাইয়্যিনাহ’ শব্দের বহুবচন। অর্থ: অকাট্য, স্পষ্ট, উজ্জ্বল, প্রকাশ্য, প্রামাণ্য দলীলসমূহ।

মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম সম্মানিত কিতাব, কালামুল্লাহ শরীফ উনার ৬৯ টি সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘আল বাইয়্যিনাত’ শব্দটি ৩৫ বার, ‘বাইয়্যিনাত’ শব্দটি ১৭ বার, ‘আল বাইয়্যিনাহ্’ শব্দটি ২ বার, ‘বাইয়্যিনাহ্’ শব্দটি ১৭ বার, সর্বমোট ৭১ বার ব্যবহৃত হয়েছে। সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার ১১৪ খানা সূরা শরীফ উনাদের মধ্যে ৯৮ নং সূরা শরীফ উনার নাম ‘আল বাইয়্যিনাহ্’। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আল বাইয়্যিনাহ্’ শব্দের অর্থ- অকাট্য, স্পষ্ট, উজ্জ্বল, প্রকাশ্য ও প্রামাণ্য দলীলসমূহ।

অতএব, যামানার তাজদীদী মুখপত্র, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচনকারী ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ পত্রিকা উনার নামের সঙ্গে পরিপূর্ণ সঙ্গতি ও সামঞ্জস্যতা রক্ষা করেন এবং সম্মানিত পত্রিকা উনার পাতায় পাতায় ইলম ও আমল সম্পর্কিত যাবতীয় বক্তব্য ও বিষয়বস্তু দলীল-প্রমাণ পেশ করা হয় ও প্রকাশ করা হয়।

তাই মনগড়া বা কল্পনাপ্রসূত কথামালায় ভরা নয় বরং দলীল-প্রমাণনির্ভর যুক্তিযুক্ত, বাস্তবসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য বিশ্লেষণে পরিপূর্ণ ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ আপনার জন্য হতে পারে একটি মূল্যবান সহায়, একটি দিশারী, উছীলা। মূল্য দিয়ে যার মূল্যায়ন করা যাবে না, না পড়ে যার গুরুত্ব বুঝা যাবে না, যা পড়ে আপনার সময় কেটে যাবে পূর্ণ জ্ঞানার্জনে, তেমনি একটি সম্মানিত পত্রিকা উনার নাম ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’।

উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ যেমনিভাবে মুত্তাক্বী বান্দাদের জন্য হিদায়েত দানকারী, তদ্রুপ উনাদের অনুসরণে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফও হিদায়েত দানকারী। আরো উল্লেখ্য, সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফ হচ্ছে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় উছূল বা মূলনীতি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ মূলনীতি হচ্ছে সম্মানিত ইজমা শরীফ ও সম্মানিতত ক্বিয়াস শরীফ। এই শেষোক্ত মূলনীতি দুটিরই সম্মিলিত ও সমন্বিত সংগ্রহ হচ্ছে ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’।

মোটকথা, সম্মানিত কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনাদের প্রকৃত ব্যাখ্যা, মর্মবাণী মানুষের হিদায়েতকল্পে বাংলা ভাষায় অত্যন্ত সাবলীলভাবে যে লিখনীর মাধ্যমে পত্রস্থ করা হয় বা প্রকাশ করা হয় তার নামই হচ্ছে ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’।

আজ আমাদের পরিবারে, সমাজে, দেশে নৈতিক অবক্ষয়, অস্থিরতা, অন্যায়, অত্যাচার ও অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। মানুষ আজ আখিরাত ও আমল বিমুখ। সম্মানিত কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী জ্ঞান থেকে বহু দূরে। মুসলমানগণ উনাদের এই দুর্দিনে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে প্রকাশিত এমন একটি দ্বীনী তা’লীমী পত্রিকা যাঁর মধ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সবদিকেরই আলোচনা থাকে। সাথে সাথে গ্রহণযোগ্য যৌক্তিক চিন্তাধারাকেও উপেক্ষা করা হয় না। এই দ্বীনী তা’লীমী পত্রিকা পাঠের মাধ্যমে আমল ও আত্মার খোরাক বৃদ্ধি পায়, চিন্তা ও গবেষণার রুদ্ধ কপাট উন্মুুক্ত হয়। যার ফলশ্রুতিতে মানুষের আক্বীদা ও আমল বিশুদ্ধ হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত-মা’রিফাত হাছিলের পথ সহজ-সম্ভব হয়। ঈমানী কুওওয়াত বৃদ্ধি পায়।

হক্ব-নাহক্ব বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য এবং বাতিল ৭২ ফিরক্বার মুখোশ উন্মোচনে এই দ্বীনী তা’লীমী পত্রিকার গুরুত্ব সীমাহীন। সর্বোপরি ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ উনার যুক্তিনিষ্ঠ আপোসহীন বক্তব্য, দলীল-আদীল্লাহভিত্তিক জওয়াব প্রদান এবং অসংখ্য, অগণিত কিতাবের তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স, উদ্ধৃতির ব্যাপারটি সবার কাছে আকর্ষণীয় ও বিস্ময়কর বলে প্রমাণিত।

আজ ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ উনার প্রচার-প্রসার দেশ হতে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। হিদায়েতের আকাশে ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ এখন দিগন্ত বিস্তৃৃত এক উজ্জল নক্ষত্র। সুবহানাল্লাহ! তাইতো ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ হক্ব তালাশীগণের নিকট একান্ত প্রিয় ও পছন্দের দ্বীনী তা’লীমী পত্রিকা।

এতএব, সমস্ত মুসলমান সকলের উচিত এই যামানার তাজদীদী মুখপত্র, হক্ব উনার অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতংক, ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচনকারী ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ’ পত্রিকাটি মনোযোগের সাথে পাঠ করা।

Views All Time
4
Views Today
12
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে