যারা ‘আন্তর্জাতিক মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ উনার আমিল হবেন, প্রচার-প্রসার ও তৎসংশ্লিষ্ট কাজে শরীক থাকবেন উনারাই খাছ ‘খলীফা’ হিসেবে মনোনীত এবং খাছ রহমতপ্রাপ্ত বলে বিবেচিত হবেন


বর্তমান সমাজ ক্রমশঃ এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপসংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। ন্যায়-নীতি এখানে বিলুপ্ত প্রায়। যুলুম-অত্যাচার, গুম, হত্যা, লুণ্ঠন প্রভৃতি পাপাচারের বিষবাষ্পে জাতি দিশেহারা। এক্ষুণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কোপানল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার প্রসার ও দাওয়াতের ব্যাপক আঞ্জামে এগিয়ে আসতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ سِيِّدُنَا حَضْرَتْ عَلِـيَّ بْنَ أَبِـي طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَام يَقُولُ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اَللَّهُمَّ ارْحَمْ خُلَفَائِـي قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ خُلَفَاؤُكَ؟ قَالَ الَّذِينَ يَأْتُونَ مِنْ بَعْدِي يَرْوُونَ أَحَادِيثـِي وَسُنَّتـِي وَيُعَلِّمُونَـهَا النَّاسَ .
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ননা করেন, আমি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ থেকে বাইরে এসে ইরশাদ মুবারক করলেন: আয় বারে এলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমার খলীফাগণ উনাদের উপর খাছ রহম করুন। তিনি বললেন, তখন আমরা বললাম ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার খলীফাগণ উনারা কারা? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- উনারা আমার পরে আসবেন, উনারা আমার সম্মানিত হাদীছ শরীফ ও পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার প্রসার করবেন এবং তা মানুষদেরকে শিক্ষা দিবেন। সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, শরফু আছহাবিল হাদীছ ১/৩০, ‘নাশরু ত্বইয়িত্ তা’রীফ ১/৩৬, আত্ তা’দীল ওয়াত্ তাজরীহ্ ১/২৭-২৮))
শতভাগ সুন্নত শতভাগ রহমত। সম্মানিত সুন্নতেই মুক্তি। আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র থেকে সারাবিশ্বের মুসলমানদের হোক সুন্নতী কায়দায় জীবন যাপন। সাথে সাথে মনোনীত হোন খাছ খলীফা এবং প্রাপ্ত হোক খাছ রহমত মুবারক।
পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এই প্রচার ও প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে দাওয়াত ও সংশ্লিষ্ট কাজে আঞ্জাম দেয়া। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلْتَكُنْ مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُوْنَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ-
অর্থ: আর তোমাদের মধ্যে একটা দল থাকা চাই, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করবে ও অন্যায় থেকে নিষেধ করবে। প্রকৃতপক্ষে উনারাই হলেন সফলকাম। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “যারা আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সমূহ মানুষের দ্বারা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তা পুনরুজ্জীবিত করবেন উনারাই হলেন সফলকাম ও উনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রহমত।” (তিরমিযী শরীফ)
বর্তমান যামানায় সম্মানিত সুন্নতসমূহ সারা বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে “ঢাকা রাজারবাগ শরীফ” উনার পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে “আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র”। এই সম্মানিত সুন্নত প্রচার-প্রসারের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন অসংখ্য আমিল বা কর্মী প্রয়োজন। এটা কারও জন্য একদিকে যেমন সর্বোত্তম কর্মসংস্থান অপরদিকে তা পরকালের জন্যও শ্রেষ্ঠতম আমল।
সর্বোপরি খাছ রহমত মুবারক প্রাপ্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খাছ খলীফা হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে