যারা ‘প্রতিমা, ভাস্কর্য ও মূর্তি এক বিষয় নয়’ -বলে থাকে, তাদের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে বিভ্রান্তিকর, গোমরাহী ও কুফরী


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ এবং অনেক নির্ভরযোগ্য লুগাত বা অভিধান গ্রন্থের দ্বারা প্রমাণিত যে, প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল কারো দেহের ছবি, ইত্যাদি শব্দগুলো সমার্থবোধক বা একই অর্থপ্রকাশক অর্থাৎ একই জিনিসের ভিন্ন ভিন্ন নাম।
যেমন, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّـمَا الْـخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অর্থ: “হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, বেদী, মূর্তি পূজা (অর্থাৎ মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কযর্, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি।) ও ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ ঘৃণ্য অপবিত্র বস্তু, শয়তানী কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর, এতে তোমরা অবশ্যই সফলকাম হতে পারবে।” (পবিত্র সূরাতুল মায়িদাহ্্ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯০)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَلْأَنْصَابُ শব্দটি দ্বারা মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা, দেব-দেবী, বেদী, মূর্তিপূজার পাথর, প্রাণীর ছবি ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। যার অনুশীলনকে ঘৃণ্য অপবিত্র শয়তানী কাজ হিসেবে ঘোষণা করে এর থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত ৪টি বিষয়কে শয়তানী কাজ ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। নি¤েœ উল্লেখযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ থেকে কিছু দলীল পেশ করা হলো-
(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّمَا الْخَمْرُ) الشراب الذى خامر العقل (وَالْمَيْسِرُ) القمار كله (وَالْأَنْصَابُ) عبادة الاوثان (وَالْأَزْلاَمُ) استعمال القدح (رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ) حرام بامر الشيطان ووسوسته (فَاجْتَنِبُوْهُ) فاتركوه (لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ) لكى تنجوا من السخطة والعذاب وتأمنوا فى الاخرة.
অর্থ : “(হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ,) এমন পানীয় যা আক্বল বা জ্ঞানকে লোপ করে তথা যা মাতলামী আনে (জুয়া,) সকল প্রকারের জুয়া (মূর্তি) প্রতিমা পূজা (ও ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ) পাশা খেলা (ঘৃণ্য অপবিত্র বস্তু শয়তানী কাজ) এগুলো হারাম কাজ; যা শয়তানের নির্দেশে ও প্ররোচনায় হয়ে থাকে। (সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর) এগুলো ত্যাগ কর (অবশ্যই তোমরা সফলকাম হতে পারবে) যাতে তোমরা ক্রোধ ও আযাব থেকে রক্ষা পেতে পার এবং আখিরাতে নিরাপদ নিশ্চিন্ত থাকতে পার।” (তানবীরুল মাকবাস মিন তাফসীরে ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ১৩১ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, বৈরূত- লেবানন)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লিখিত وَالْأَنْصَابُ শব্দ মুবারক উনার তাফসীরে عِبَادَةُ الْاَوْثَانِ অর্থাৎ প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল, কারো দেহের ছবি ইত্যাদির পূজা করাকে বুঝানো হয়েছে। যার অনুশীলনকে ঘৃণ্য, অপবিত্র, শয়তানী কাজ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যা ফাসিকী, গোমরাহী, মূর্খতা, শিরকী ও কুফরী মুলক কাজ।”
(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ) اى القمار (وَالْأَنْصَابُ) الاصنام لانـها تنصب فتعبد (وَالْأَزْلاَمُ) وهى القداح التى مرت (رِجْسٌ) نجس او خبيث مستقذر من عمل الشيطان فكانه عمله (فَاجْتَنِبُوْهُ) يرجع الى الرجس او الى عمل الشيطان او الى الـمذكور.
অর্থ : “(হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া) সকল প্রকার জুয়া (মূর্তি) اَلْأَنْصَابُ দ্বারা মূর্তি প্রতিমা উদ্দেশ্য।
কেননা এগুলোকে যমীনে স্থাপন করে পূজা করা হয়ে থাকে, (ও ভাগ্য নির্ধারক তীর সমূহ) পাশা, যা পূর্বে উল্লেখ হয়েছে (ঘৃণ্য) অপবিত্র, মন্দ ও শয়তানের জঘন্য কাজ, যেহেতু এগুলো শয়তানী আমল (সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর) অর্থাৎ অপবিত্র ঘৃণ্য জঘন্য কাজ থেকে, শয়তানী আমল থেকে এবং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হারাম কাজগুলো থেকে ফিরে থাক।” (তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল- ইমাম হাফিযুদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৭০১ হিজরী- ১ম খ- ৪৯০ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল মা’রিফাহ বৈরূত -লেবানন)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লিখিত وَالْأَنصَابُ শব্দ মুবারক উনার তাফসীরে
(وَالْأَنْصَابُ) الاصنام لانـها تنصب فتعبد
অর্থাৎ প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল, কারো দেহের ছবি ইত্যাদির পূজা করাকে বুঝানো হয়েছে। যার অনুশীলনকে ঘৃণ্য, অপবিত্র, শয়তানী কাজ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যা ফাসিকী, গোমরাহী, মূর্খতা, শিরকী ও কুফরী মুলক কাজ।”
(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ) اى الاصنام التى نصبت للعبادة (وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ) اى من تسويله وتزئينه فكانه عمله (فَاجْتَنِبُوْهُ) الضمير للرجس.
অর্থ : “(হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি) অর্থাৎ উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত বা পুজা করার উদ্দেশ্যে স্থাপিত মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য (ও ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ ঘৃণ্য অপবিত্র বস্তু শয়তানী কাজ) অর্থাৎ এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণা ও ধোকা। এগুলো শয়তানেরই আমল। (সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর) এখানে ه হু দ্বমীর বা সর্বনাম দ্বারা الرجس অর্থাৎ ঘৃণ্য অপবিত্র বস্তুগুলোকে বুঝানো হয়েছে। (আত তাফসীরুল মাযহারী লিল ক্বাদ্বী মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানী হানাফী মাযহারী মুজাদ্দিদী নকশবন্দী পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ১২২৫ হিজরী, ২য় খ- ১৭১ পৃষ্ঠা, প্রকাশনী: মাকতাবায়ে রশীদিয়াহ সিরকী রোড, কুয়েটা)
(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ) الاصنام التى نصبت للعبادة (رِجْسٌ) قذر (مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ) لانه مسبب من تسويله وتزيينه (فَاجْتَنِبُوْهُ) الضمير للرجس (لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ) لكى تفلحون بالاجتناب عنه.
অর্থ : (হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি) যা উপাসনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। (ঘৃণ্য-অপবিত্র) নাপাক (শয়তানী কাজ) এগুলো শয়তানী ধোকা ও কুমন্ত্রণায় হয়। (সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর) অপবিত্র জঘন্য হারাম কাজ থেকে দূরে থাক। (এতে তোমরা সফলকাম হতে পারবে) এ হারাম কাজগুলো বর্জন করার মাধ্যমে তোমরা কামিয়াবী অর্জন কর। (আত তাফসীরু লিল বাইদ্বাবী সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ ৯০ নম্বর আয়াত শরীফ ২য় খ– ১১১ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : কুতুবখানা রহীমিয়াহ- দেওবন্দ)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লিখিত وَالأَنصَابُ শব্দ মুবারক উনার তাফসীরে-
اَىْ اَلْاَصْنَامُ الَّتِىْ نُصِبَتْ لِلْعِبَادَةِ
অর্থাৎ প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল, কারো দেহের ছবি ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। আর প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল, কারো দেহের ছবি ইত্যাদি যেগুলোকে উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বা পূজা করার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে। যার অনুশীলনকে ঘৃণ্য, অপবিত্র, শয়তানী কাজ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ করা হয়েছে। যা ফাসিকী, গোমরাহী, মূর্খতা, শিরকী ও কুফরী কাজ।”
(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ) اَىِ الْقِمَارُ (وَالْأَنْصَابُ) يَعْنِى الْاَوْثاَنَ، سُـمِّيَتْ بِذٰلِكَ لِاَنَّـهُمْ كَانُوْا يَنْصِبُوْنـَهَا وَاحِدُهَا نَصْبٌ بِفَتْحِ النُّوْنِ، وَسُكُوْنُ الصَّاِدِ وَنَصْبٌ بِضَمِّ النُّوْنِ مُـخَفَّفًا وَمُثَقَّلًا (وَالْأَزْلاَمُ) يَعنى القداح التى يستقسمون بها واحدها زلـم (رِجْسٌ) خبيث مستقذر (مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ) من تزيينه (فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ).
অর্থ : “(হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া) অর্থাৎ সকল প্রকারের জুয়া (মূর্তি) অর্থাৎ মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য প্রাণীর ছবি ইত্যাদি। اَلْاَنْصَابُ করে এজন্য নামকরণ করা হয়েছে যেহেতু মুশরিকরা এগুলোকে নিজেই স্থাপন করে। اَلْاَنْصَابُ শব্দটির একবচন হচ্ছে نصب নাছবুন। ‘নূন’ বর্ণে যবর, ‘ছোয়াদ’ বর্ণে সাকিন যোগে। এ ছাড়া ‘নূন’ বর্ণে পেশ যোগেও পড়া যায়। (ও ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ) অর্থাৎ পাশাখেলা, যা দ্বারা ভাগ্য নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হয়। الازلام শব্দটির একবচন زلـم যালমুন। (ঘৃণ্য অপবিত্র কাজ বা বস্তু) নাপাক জঘন্য কাজ। (শয়তানী কাজ) শয়তানী ধোকায় এ কাজগুলো হয় (সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা সফলকাম হতে পারবে)। (তাফসীরুল বাগবী আলমা’রূফ মায়ালিমুত তানযীল লিআবী মুহম্মদ হুসাইন বিন মাসঊদ আল ফারা আলবাগবী আশ শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৫১৬ হিজরী, ২য় খ- ৮৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: মাকতাবাহ মুস্তফা আল বাবা আল হালবী ওয়া আওলাদুহু- মিশর)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে উল্লিখিত وَالْأَنصَابُ শব্দ মুবারক উনার তাফসীরে
يعنى الاوثان، سميت بذلك لانهم كانوا ينصبونـها
অর্থাৎ প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল, কারো দেহের ছবি ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। আর اَلْاَنْصَابُ তথা প্রতিমা, ভাস্কর্য, মূর্তি, ম্যানিকিন, ছবি, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল, কারো দেহের ছবি ইত্যাদি এগুলোকে এজন্য নামকরণ করা হয়েছে যেহেতু মুশরিকরা এগুলোকে নিজেই স্থাপন করে। যার অনুশীলনকে ঘৃণ্য, অপবিত্র, শয়তানী কাজ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ করা হয়েছে। যা ফাসিকী, গোমরাহী, মূর্খতা, শিরকী ও কুফরী কাজ।
(يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنَّمَا الْخَمْرُ) الـمسكر الذى يخامر العقل (وَالْمَيْسِرُ) القمار (وَالْأَنْصَابُ) الاصنام (والازلام) قداح الاستقسام (رِجْسٌ) خبيث مستقذر (مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ) الذى يزينه (فَاجْتَنِبُوْهُ) الرجس الـمعبر به عن هذه الاشياء ان تفعلوه (لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ).
অর্থ : “(হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ) আক্বল তথা জ্ঞানকে লোপ করে দেয় এমন সর্বপ্রকার নেশা (জুয়া), সকল প্রকার জুয়া (মূর্তি) প্রতিমার উপাসনা (ও ভাগ্য নির্ধারক তীর সমূহ) ভাগ্য বণ্টনের পাশা (ঘৃণ্য অপবিত্র) নাপাক জঘন্য বস্তু (শয়তানী কাজ) যা শয়তানের প্রতারণায় সংঘটিত হয়। (সুতরাং তোমরা এসকল কাজকে বর্জন করো) বর্ণিত জঘন্য হারাম-নাজায়িয কাজ থেকে নিজেদেরকে ফিরিয়ে রাখ (এতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পারবে)। (তাফসীরুল জালালাঈন সূরাতুল মায়িদাহ শরীফ ৯০নং আয়াত শরীফ ১০৬ পৃষ্ঠা)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সর্বপ্রকার মদ, জুয়া, মূর্তি পুজা ও ভাগ্য নির্ধারক তীর হারাম-নাজায়িয। এগুলোকে হালাল মনে করা কুফরী।
বিশেষ করে اَلْاَنْصَابُ ‘আল আনছাব’ শব্দটি দ্বারা মূর্তি, মূর্তির পাথর, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, ম্যানিকিন, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি সবগুলোই উদ্দেশ্য। এগুলো তৈরি করা, তৈরি করতে সাহায্য করা, তৈরির স্বপক্ষে থাকা, এগুলো দেখে আনন্দ উপভোগ করা হারাম। এগুলোকে সম্মান প্রদর্শন করা এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি করা কুফরী শিরকী।
এগুলোর ব্যবসা করা, এগুলোর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।
এজন্য সকল মু’মিন-মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, মূর্তি প্রতিমা ভাস্কর্য এ জাতীয় সবকিছুর চর্চা থেকে দূরে থাকা।
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, মূর্তি প্রতিমা ও ভাস্কর্য ভিন্নার্থক শব্দ নয়। বরং মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিমূর্তি, পুতুল , কারো দেহের ছবি ইত্যাদি শব্দগুলো একই অর্থপ্রকাশক শব্দ। অর্থাৎ একই জিনিসের ভিন্ন ভিন্ন নাম। একটি হারাম মানে সবগুলোই হারাম। সুতরাং কোন মূর্তির উপাসনা করা হোক অথবা নাই হোক সবগুলোর একই হুকুম অর্থাৎ হারাম বা নিষিদ্ধ।”
কাজেই, মুসলমান নামধারী মুনাফিক উল্লেখিত কাফির মাগদূব যে বলেছে, “প্রতিমা, ভাস্কর্য ও মূর্তি এক বিষয় নয়” তার উক্ত বক্তব্য সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে ভুল মনগড়া, অপব্যাখ্যা, দলীলবিহীন, বিভ্রান্তিকর ও কুফরী সম্বলিত হয়েছে।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে