যারা যাকাত দেয়না তাদের নামায কবুল হয় না


তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে কবীরসহ আরো অনেক বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم امرتم بالصلوة والزكوة فمن لم يزك فلا صلاة له
অর্থ: ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদেরকে নামায আদায় ও যাকাত দেয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি যাকাত দিবে না তার নামায হবে না।
উক্ত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যদিও নামায না হওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যাকাত, উশর, ফিতরা ইত্যাদি না দিলে কোন ইবাদত বন্দিগীই কবুল হয় না এমনকি দুআও কবুল হয় না। কেননা ইবাদত-বন্দিগী ও দুআ-মুনাজাত কবুল হওয়ার জন্য হালাল খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা ও হালাল বস্ত্র পরিধান করা শর্ত।
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, এক পয়সা হারাম খেলে ৪০ দিন ইবাদত কবুল হয় না এবং আরো বর্ণিত রয়েছে, হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যার কারণে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একবার এক লুকমা হারাম খাবার খেয়ে পরক্ষণেই জানতে পেরে মুখে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে বমি করে তা বের করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, যারা যাকাত দিল না তারা গরীবের হক যা তার জন্য হারাম, তা খেয়ে ফেললো। নাউযুবিল্লাহ! এই হারাম খাওয়ার কারণে তার কোন ইবাদত-বন্দিগী ও কোন দুআ কুবল হবে না।
অতএব, যাদের উপর যাকাত ফরয অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামান-আসবাব, দ্রব্যাদী বাদ দিয়ে যাদের কাছে এ বছর ৫৮,১৭০/- টাকা বা (গতকালের দর অনুযায়ী) সেই পরিমাণ মূল্যের সম্পদ কিংবা সোনা-রূপা বা সোনা-রূপার অলঙ্কার থাকে তাকে শতকে আড়াই টাকা হিসেবে এবং হাজারে ২৫ টাকা হিসেবে এবং এক লক্ষ টাকায় আড়াই হাজার টাকা হিসেবে যাকাত প্রদান করতে হবে।
আর ফল ও ফসলাদীর যাকাত বিনা পরিশ্রমে ফলালে দশভাগের এক ভাগ দিতে হবে যাকে উশর তথা একদশমাংশ বলা হয়। আর পরিশ্রম করে যেসব ফল ও ফসলাদী, তরি-তরকারী বা শাক-সবজী ইত্যাদি ফলানো হয় সেগুলোর নিছফু উশর অর্থাৎ ২০ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে।
উল্লেখ্য, স্বর্ণ-রৌপ্য, টাকা-পয়সার যাকাত এক বছর নেছাবের মালিক হওয়া শর্ত এবং তা ৭০ গুণ ফযীলত পাওয়ার আশায় সাধারণত লোকেরা রমাদ্বান মাসে দিয়ে থাকে। কিন্তু ফল-ফসলাদীর জন্য বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত নেই। বরং বছরে যতবার ফল-ফসলাদী কমানো বা উৎপন্ন হবে ততবারই তার যাকাত দিতে হবে। অন্যথায় তার খাওয়া-দাওয়া সবই হারাম হবে, ইবাদত-বন্দিগী বরবাদ হবে, পরিণামে জাহান্নামের কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে।

Views All Time
3
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে