যাহরায়ী নকশার এক অনন্যা আলোকবর্তিকা


 

লাইলাতু ইছনাইনিল আযীম। ছলাতুল মাগরিব কেবল সমাপ্ত হয়েছে। চাঁদনী কিরণে ভুবন মোহিত। তবে আজকের প্রকৃতি অন্য রকম। আজ সারা কায়িনাত স্বয়ং বারী তায়ালা কর্তৃক-সুসজ্জিত। মাখলুকাত মাঝে ঈদ আর ছলাতের বান। আর এত আয়োজনের প্রেক্ষাপটও একজন বিশেষ ব্যক্তিত্ব কেন্দ্রিক।
উম্মুল উমামী পাক হুযরা শরীফ। জান্নাতি হুর-খাদিমারা উপস্থিত। ভাগ্যবান কর্তৃক আমাতার আনন্দ উল্লাস। সর্বোপরি হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক আবৃত মুবারক চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে ধরনী চমকিয়ে নূরানী রোশন ছড়িয়ে সন্ধ্যা সাতটা চল্লিশ মিনিটে ভুবন মাঝে তাশরীফ আনেন হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। সেই মুবারক সময়ের প্রেক্ষাপট তদ্রুপ, যেমনটি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফকে কেন্দ্র করে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।
সুন্নতী ধারায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণকারী সম্মানিতা আওলাদ উনার প্রতিটি বিষয়ই যাহরায়ী নকশায়। স্বয়ং হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি তা’যীন ও তাহনীক সম্পন্ন করেন। বিগত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, রিজালুয যাহির আর গাইব উনাদের উপস্থিতিতে সপ্তম দিনে আড়ম্বরপূর্ণ মজলিসের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় মুবারক আক্বীক্বাহ। রববী-নববী নির্ধারিত নাম মুবারক আনুষ্ঠানিকভাবে যাহির করা হয়। এক্ষেত্রে আবারো প্রকাশ পায় হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনুপম মুবারক আদর্শ।
স্বল্প সময়ে শারীরিকভাবে অধিক হারে বেড়ে উঠেছেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম। হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও গ্রহণ করেছেন সেই ছিদ্দীক্বা শান মুবারক। তিনি আলিমায়ে মাদারজাদ। তথাপি সুন্নত মুবারক পালনার্থে ইলম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতাও তিনি সুসম্পন্ন করেন। উনারই মুবারক ছোহবতের দরুন মকবুলিয়াতের চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা।
আয়াতে তুহুর নাযিলের প্রেক্ষাপটে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদেরকে একত্রিত করে ঘোষণা মুবারক করেন যে, “আপনারা আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” সেই মুবারক ঘটনার আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম, হযরত নাক্বিবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম, হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের সকলকে নিয়ে আবারো ঘোষণা মুবারক দিয়েছেন যে, “আপনারা আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সুমহান উসীলায়ে কুবরা। মাখলুকাত উনার মুবারক উসীলায় খোদায়ী-নববী এবং শায়েখী রেযায়ী সোপান লাভ করছে। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক সুপারিশের কারণে অনেক হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, এমনকি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও অনেক ক্ষেত্রে ফায়দা লাভ করেছেন। আর উনারই অনুকরণে অনেক সালিকা-খাদিমা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে মুবারক উসীলা বানিয়ে নৈরাশ্য হতে নিষ্কৃৃতি লাভ করেছে। একই সাথে তারা লাভ করছে যাহিরী-বাতিনী নিয়ামত। রোগ মুক্তি, দীর্ঘ হায়াত লাভ, জিকির জারি হওয়া, উপযুক্ত পাত্রে বিবাহ হওয়া আর নেক সন্তান লাভ করা তারই অংশ বিশেষ।
হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মালিকায়ে নিয়াম। মহান আল্লাহ পাক উনার যাবতীয় নিয়ামতে তিনি অনন্যা কাসিমা। অনেক সালিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মালিকায়ে নিয়াম হওয়ার ব্যাপারখানা স্বপ্নযোগে অনেককেই জানিয়েছেন।
হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবত লাভ করে অনেক বিধর্মী ঈমান লাভ করেছে। ছাহাবিয়তের মর্যাদা পেয়েছে অনেক ইহুদী। আর উনারই মুবারক নকশা হয়ে হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর মুবারক করে অনেক বেদ্বীন-বদদ্বীনকে মু’মিনায়ে কামিলাহ বানিয়েছেন। উনার হুলিয়া মুবারক দর্শনে সম্মানিত ইসলামী ধারায় মানসিক পরিবর্তন প্রাপ্তা মহিলার সংখ্যাও অনেক। এমনকি উনার মুবারক শানে ক্বাছীদাহ শরীফ শুনে ঈমান গ্রহণকারীর সংখ্যাও কম নয়।
প্রত্যেক হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রত্যেকের আখাছছুল খাছ মাক্বাম মুবারক রয়েছে। যা উনাদের বিশেষ একক লক্বব মুবারকে প্রস্ফুটিত হয়। এক্ষেত্রে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ‘যাহরা’ লক্বব মুবারক সর্বোৎকৃষ্ট উপমা। অনুরূপভাবে হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ‘নিবরাসাতুল উমাম’ লক্বব মুবারকও। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ফুল স্বরূপ কায়িনাত জুড়ে সুবাস ছড়িয়ে মাখলুকাতকে মোহিত করে আপন শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিয়েছেন। আর উনারই মুবারক অনুসরণে হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও আলোকবর্তিকা হয়ে নূরানী কিরণে কায়িনাতবাসীকে হিদায়েতে দীক্ষিত করে স্বীয় বেমেছাল ফযীলতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার নিকট হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে শাদী মুবারক দেয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ওহী মুবারক করেছেন। হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারকের ন্যায় জৌলুসপূর্ণ শাদী মুবারক আমি আর দেখিনি। উপরোক্ত বর্ণনার অনুকরণে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছহিবুল মুকাররম সম্পর্কে কয়েকবার দিকনির্দেশনা মুবারক প্রদান করেছেন। আর উনার শাদী মুবারকে সংঘটিত বিশেষ কারামতসমূহ বারবার হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হাদীছ শরীফখানা স্বরণ করিয়ে দিয়েছে।
মূলত, নিবরাসাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ হতেই সুন্নত পালন ও প্রসারে নিবেদিত। যাহিরী-বাতিনী ইলমে তিনি পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্ত। তিনি উসীলায়ে কুবরা। হিদায়েতি কার্যক্রমে তিনি আনেন ব্যাপক সাড়া। তিনি যাবতীয় নিয়ামতরাজির বেনযীর মালিকা। সর্বোপরি তিনি যাহরায়ী নকশার এক অনন্যা আলোকবর্তিকা।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+