যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু উম্মাহাত, উম্মুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বরকতময় আযীমুশ শান নিকাহিল আযীম শরীফ


 

সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি অতি বিস্ময়কর বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كان حَضْرَتْ عبد الله بن عبد المطلب عليهما السلام أحسن رجل رئي قط
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৪১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
أن حَضْرَتْ عبد الله بن عبد المطلب عليهما السلام كان يرى بين عينيه نور النبوة
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৩৪)
তিনি এতো অধিক বেমেছাল বিস্ময়কর সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন যে, মহিলারা উনাকে দেখে উনার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তো এবং বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাদের আক্বল-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যেতো। তারা বেকারার পেরেশান হয়ে যেতো এবং উনাকে পাওয়ার জন্য, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতো।
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে,
عبد الله؛ لانه كان يتلألأ نورًا فى قريش وكان اجملهم فشغفت به نساؤهم وكدن ان تذهل عقولـهن.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত উনার মাঝে সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বলজ্বল করতেন এবং তিনি ছিলেন কুরাইশ তথা সমগ্র কায়িনাতবাসীর মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! কুরাইশ মহিলারা উনার প্রতি আসক্ত হতো এবং উনাকে দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাদের আক্বল-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যেতো। তারা বেকারার পেরেশান হয়ে যেতো এবং উনাকে পাওয়ার জন্য, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতো।” (শরহুয যারক্বানী ‘আলা মাওয়াহিব ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২)
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কতো বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উনার মধ্যে ‘মাদারেজুন নুবুওওয়াত কিতাব’ উনার বরাতে উল্লেখ রয়েছে,
انه لما كان صيت حسن حضرت عبد الله وجماله مشتهرا وقصة الذبح والفداء صار سبب زيادة اشتهاره فى الدرجة القصى فصارت نساء القريش عاشقات لجماله الاكمال وطالبات لوصاله الاحلى حتى كنا يقمن على راس سبيله وتدعونه الى انفسهن ولكن كان يحفظه الله تعالى فى حجاب العفة والعصمة حفظا.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, সর্বোত্তম গুণাবলী মুবারক এবং জামালিয়াত তথা বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার সুখ্যাতি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ছিলো। উপরন্তু সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়ার ঘটনা সারা দেশে প্রচার হয়ে উনাকে আরো বহুগুণে সুবিখ্যাত করে তুলেছিলো। তাই কুরাইশ মহিলারা উনার সম্মানিত পরিপূর্ণ সৌন্দর্য মুবারক-এ আশিকা হয়ে উনার সম্মানিত শাদী মুবারক-এ আবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে উনার গন্তব্য পথের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকতো এবং নিজেদের দিকে উনাকে আহ্বান জানাতো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক ও সম্মানিত ইছমত মুবারক উনাদের পর্দার আড়ালে সম্মানিত কুদরতী হিফাযত মুবারক-এ রেখে সম্মানিত ও পবিত্র থেকে পবিত্রতম অবস্থায় রেখেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আরব মহিলাদের বিবাহের প্রস্তাব এবং উনার বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ:
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আরবের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ সম্ভ্রান্তশীলা মহিলারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অবলোকন করে আশিকাহ হয়ে উনার নিকট শাদী মুবারক বসার জন্য বেকারার-পেরেশান হয়ে গিয়েছিলো এবং উনার নিকট সরাসরি এই ব্যাপারে প্রস্তাবও দিয়েছিলো। এই জন্য তারা তাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু কুরবান করে দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলো। তারা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। যখনই তারা উনাকে দেখতো, তখনই তারা তাদের প্রস্তাব পেশ করতো, আরজি পেশ করতো। ” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, সীরাতগ্রন্থগুলোতে এই বিষয়ে অনেক ঘটনা মুবারক উল্লেখ রয়েছে।
যেমন ‘শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
عبد الله؛ لانه كان يتلألأ نورًا فى قريش وكان اجملهم فشغفت به نساؤهم وكدن ان تذهل عقولـهن.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বলজ্বল করতেন এবং তিনি ছিলেন কুরাইশ তথা সমগ্র কায়িনাতবাসীর মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! কুরাইশ মহিলারা উনার প্রতি আসক্ত হতো এবং উনাকে দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাদের আক্বল-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যেতো। তারা বেকারার পেরেশান হয়ে যেতো এবং উনাকে পাওয়ার জন্য, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতো।” (শরহুয যারক্বানী ‘আলা মাওয়াহিব ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
قال اهل السير فلقى سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام فى زمنه من النساء ما لقى حضرت يوسف عليه السلام فى زمنه من امرأة العزيز
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় মহিলাদের কর্তৃক তদ্রুপ পরিস্থির সম্মুখীন হয়ে ছিলেন, যেরূপ পরিস্থির সম্মুখীন হয়েছিলেন হযরত ইউসূফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় আযীয উনার আহলিয়া তথা হযরত যুলায়খা আলাইহাস সালাম উনার কর্তৃক।” (শরহুয যারক্বানী ‘আলা মাওয়াহিব ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীনা ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে পাওয়ার জন্য তো শুধু একজন তথা হযরত যুলায়খা আলাইহাস সালাম তিনি বেকারার পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি উনার সমস্ত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মহিলা বেকারার পেরেশান হয়ে গিয়েছিলো এবং তারা তাদের সমস্ত কৌশল অবলম্বন করেছিলো। মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সৌন্দর্য মুবারক উনার সাথে অন্য কারো সৌন্দয মুবারকরেই তুলনা হবে না।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক কতো বেমেছাল এবং উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
সেটাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি বলেন, এখানে ওই সম্মানিত হাদীছখানাই প্রযোজ্য, যেটা ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ! সেটাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَحْسَنَ رَجُلٍ رُؤِيَ قَطُّ خَرَجَ يَوْمًا عَلَى نِسَاءِ قُرَيْشٍ مُجْتَمِعَاتٍ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ أَيَّتُكُنَّ تَتَزَوَّجُ بِهَذَا الْفَتَى فَتَصْطَبُّ النُّورَ الَّذِي بَيْنَ عَيْنَيْهِ فَإِنِّي أَرَى بَيْنَ عَيْنَيْهِ نُورًا وَفِىْ رِوَايَةٍ وَكَانَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ نُورٌ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। উনার মত এরূপ সুদর্শন পুরুষ (কায়িনাতে) কখনও দেখা যেতো না। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একদিন কুরাইশ মহিলাদের এক জামায়াতের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মহিলাদের মধ্য হতে একজন সবাইকে সম্বোধন করে বললো, হে মহিলাগণ! আপনাদের মধ্যে কে আছেন যে এই সম্মানিত যুবক উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করবেন। (আপনারা কি চান যে এই সম্মানিত যুবক তিনি আপনাদের কাউকে শাদী মুবারক করেন।) অতঃপর উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মধ্যে যেই সম্মানিত নূর মুবারক রয়েছেন, সেই সম্মানিত নূর মুবারক উনাকে ধারণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা নিশ্চয়ই আমি উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পাচ্ছি। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণায় রয়েছে, ‘সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র কপাল মুবারক-এ তখন নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান করছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৩২৫, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ১/১৩৩, আবূ নাঈম, খছায়িছুল কুবরা ১/৭১, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ ৫/৩১৩ ইত্যাদি)
মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ দায়িমীভাবে ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে দেখা যেতো। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে এই ‘সম্মানিত নূর মুবারক’ লাভ করার জন্য আরবের সকল সম্ভ্রান্ত মহিলারা তাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছুর বিনিময়ে হলেও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সম্মানিত শাদী মুবারক বসার জন্য প্রস্তুত ছিলো। অসংখ্য মহিলরা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে ধন-সম্পদের দোহাই দিয়েও সরাসরি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক উনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সীরাতগ্রন্থগুলোতে এই বিষয়ে অনেক ওকেয়া উল্লেখ রয়েছে। এক দিনের ঘটনা। ফাতিমা বিনতে মুররা নামক এক ইহুদী মহিলা যে সম্মানিত তাওরাত শরীফ, ইনযীল শরীফ তথা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে অভিজ্ঞা ছিলো। সে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কপাল মুবারকে ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ দেখে, সেই নূর মুবারক নিজের মধ্যে পাওয়ার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক লাভের জন্য উনাকে প্রস্তাব পেশ করলো এবং বললো যে, যদি আপনি আমার সঙ্গে অবস্থান মুবারক করেন, তাহলে আমি আপনাকে একশত উট হাদিয়া করবো। যেমন, এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
قَدْ قَرَأَتِ الْكُتُبَ يُقَالَ لَهَا: فَاطِمَةُ بِنْتُ مُرٍّ الْخَثْعَمِيَّةُ فَرَأَتْ نُورَ النُّبُوَّةِ فِي وَجْهِ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَتْ: يَا فَتَى هَلْ لَكَ أَنْ تَقَعَ عَلَيَّ الْآنَ وَأُعْطِيكَ مِائَةً مِنَ الْإِبِلِ. فَقَالَ عَبْدُ اللهِ:
أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ … وَالْحِلُّ لَا حِلٌّ فَأَسْتَبِينَهْ
فَكَيْفَ بِالْأَمْرِ الَّذِي تَبْغِينَهْ … يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ
অর্থ: তিনি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব পড়েছেন। উনাকে ফাতিমা বিনতে র্মুরাহ খছ‘আমিইয়্যাহ বলা হতো। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘সম্মানিত নূরুন নুবুওওয়াহ তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ দেখতে পেলেন। অতঃপর উক্ত মহিলা তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে সম্মানিত যুবক! আপনি কি এখন আমার সাথে অবস্থান মুবারক করবেন? তাহলে আমি আপনাকে একশত উট হাদিয়া মুবারক করবো। জবাবে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন,
أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ … وَالْحِلُّ لَا حِلٌّ فَأَسْتَبِينَهْ
فَكَيْفَ بِالْأَمْرِ الَّذِي تَبْغِينَهْ … يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ
অর্থ: “এতো হারাম! আর হারাম গ্রহণ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়। আমি তো বৈধ পরিণয় তথা শাদী মুবারক উনার সন্ধান করছি। আর এমন কাজ মোটেও হালাল নয়, যা প্রকাশ করা যায় না। কিভাবে আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিবো? যে অবৈধ কাজে তুমি আগ্রহী তা আমার দ্বারা কখনো সম্ভব নয়। সম্ভ্রান্ত মানুষ তো নিজের মান-সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করেন।” (বিদায়াহ-নিহায়াহ, সীরাতুল মুস্তাফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এই জবাব মুবারক উনার থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি কত বেমেছাল পবিত্র ছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার কতো বেমেছাল সম্মানিত তায়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক ছিলো। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে লক্ষ লক্ষ মহিলাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ এটা ছিলো আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ। মানুষ হালাল-হারাম বিবেচনা করতো না এবং ব্যভিচারে-পাপাচারে লিপ্ত হওয়া তাদের জন্য একটা স্বাভাবিক বিষয় ছিলো। অন্যদিকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ছিলেন, কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় অত্যন্ত শক্তভাবে জবাব দিয়ে দিলেন যে,
أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ … وَالْحِلُّ لَا حِلٌّ فَأَسْتَبِينَهْ
فَكَيْفَ بِالْأَمْرِ الَّذِي تَبْغِينَهْ … يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ
“এতো হারাম! আর হারাম গ্রহণ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়। আমি তো বৈধ পরিণয় তথা শাদী মুবারক উনার সন্ধান করছি। আর এমন কাজ মোটেও হালাল নয়, যা প্রকাশ করা যায় না। কিভাবে আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিবো? যে অবৈধ কাজে তুমি আগ্রহী তা আমার দ্বারা কখনো সম্ভব নয়। সম্ভ্রান্ত মানুষ তো নিজের মান-সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করেন।”
তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কতো বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন, তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি উনার জবাবে, এটাও বলেছেন যে,
يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ
“সম্ভ্রান্ত মানুষ তো নিজের মান-সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করেন।” সুবহানাল্লাহ!
তিনি উনার এই সম্মানিত বাক্য মুবারক উনার দ্বারা এটাই প্রমাণ করে দিলেন, তিনি একটি সম্মানিত দ্বীন উনার উপর রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর সেই সম্মানিত দ্বীন মুবারক হচ্ছেন ‘দ্বীন হানীফ’। সুবহানাল্লাহ!
আর প্রথমে যে তিনি বললেন,
أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ
“এতো হারাম! আর হারাম গ্রহণ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়।”
তিনি এই কথা মুবারক দ্বারা এটাই প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনি হারাম গ্রহণ করার চেয়ে মৃত্যুকে উত্তম মনে করেন। অর্থাৎ তিনি এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য যদি উনাকে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করতে হয়, তাহলে তিনি সেটা করবেন। তারপরেও তিনি কস্মিনকালেও হারাম গ্রহণ করবেন না। সুবহানাল্লাহ!
উনার এই কথা মুবারক দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি কতো বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন এবং সম্মানিত দ্বীন ও সম্মানিত ঈমান উনাদের উপর কতটুকু দায়িম-ক্বায়িম ও ইস্তিক্বামাত ছিলেন। যার কোনো মেছাল নেই। সুবহানাল্লাহ!
তারপরেও কিভাবে উলামায়ে সূরা, মূর্খরা বলতে পারে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ঈমানদার ছিলেন না। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি কুফরীর মধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি জাহান্নামী। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
মূলত, যারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে এরূপ চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে, সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চির মাল‘ঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবি করে, তাহলে তাদের উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে এবং তাদের প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। আর যদি কাফির হয়, তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। তাদের শাস্তিও মৃত্যুদ-। তাদেরও প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। তারা ইবলিসের ন্যায়; বরং ইবলিসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয।

সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কারামত মুবারক দর্শন:
‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
اهل الكتاب كانوا يعرفون عن بعض العلمات ان النبى صلى الله عليه وسلم اخر الزمان يكون من صلب حضرت عبد الله عليه السلام فيعادونه عدوانا ويقيمون فى مقام اهلاكه ويجيئون من اطراف مكة قاصدين لاهلاكه دائما ويشاهدون اثارا غريبة وامورا عجيبة فينقلبون خائبين خاسرين ندامى.
وكان حضرت عبد الله عليه السلام ذهب للصيد يوما فوصل جماعة كثيرة من جانب الشام لقصد حضرت عبد الله عليه السلام مسلين سيوفا وكان حضرت وهب بن مناف عليه السلام فى ذلك الصحراء ايضا فراى فرسانا اجلادا لايشبهون باهل عالم الشهادة ظهورا من الغيب و دفعوا الجماعة عنه دفعا.
অর্থ: “আহলে কিতাব তথা ইহুদী-খ্রিস্টানরা (তাদের আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত) বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে জানতো যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে অবস্থান মুবারক করছেন। অর্থাৎ ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই তারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে কঠিন শত্রুতা শুরু করে দিলো। উনাকে শহীদ করার জন্য ওঁৎপেতে থাকলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়, উনাকে শহীদ করার জন্য সর্বদা তাদের পক্ষ থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার আশে-পাশে অনেক গুপ্তচর আসা-যাওয়া করতে থাকলো। এই সকল গুপ্তচরেরা বিভিন্ন অলৌকিক ও আশ্চর্য ঘটনা দেখে তথা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কারামত মুবারক দেখে ব্যর্থ, ভীত-সন্ত্রস্ত, লাঞ্ছিত, লজ্জিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে যেতো। সুবহানাল্লাহ!
একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একা শিকার করার উদ্দেশ্য বের হলেন। এটা জেনে শাম দেশের দিক হতে শত্রুদের একটি বিরাট দল উনাকে শহীদ করার জন্য তরবারী নিয়ে এগিয়ে আসলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! এদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনিও ঘটনাক্রমে সেই নির্জন ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। (হঠাৎ করে) তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী একদল আশ্বারোহী সৈন্য দেখতে পেলেন। উনারা ইহজগতের কোনো মানুষের সাদৃশ্য ছিলেন না (উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য নিয়োজিত সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম)। সুবহানাল্লাহ! উনারা অদৃশ্য থেকে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শত্রুদেরকে পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فعلمت أحبار الشام بعبد الله لأن في كتبهم إذا قطرت جبة يحيى عليه السلام فقد ولد والد النبي صلى الله عليه وسلم فلما كبر عبد الله قصدوا قتله فأرسل الله تعالى ملائكة فقتلهم عن آخرهم وكان وهب والد آمنة ينظر على رأس جبل إلى هذه الكرامة.
অর্থ: “শাম দেশের পাদ্রীরা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে জানতো। কেননা তাদের আসমানী কিতাবসমূহে লিখা ছিলো যে, যখন হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জুব্বা মুবারক থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে রক্ষ মুবারক ঝরতে থাকবে, তখন বুঝতে হবে যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বড় হলেন, তারা উনাকে শহীদ করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করে উনাদের মাধ্যমে তাদেরকে হত্যা করলেন, নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি পাহাড়ের উপরে থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এই সম্মানিত কারামাত মুবারক দেখলেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ২/৭৫)
আল্লামা হুসাইন ইবনে মুহম্মদ ইবনে হাসান দিয়ার বাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ৯৬৬) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وكان يوم ولد عبد الله علم بمولده جميع أحبار الشام وذلك انه كانت عندهم جبة صوف بيضاء وكانت الجبة مغموسة فى دم يحيى بن زكريا وكانوا قد وجدوا فى كتبهم اذا رأيتم الجبة البيضاء والدم يقطر منها فاعلموا أن أبا محمد المصطفى قد ولد تلك الليلة وقدموا بأجمعهم الى الحرم وأرادوا أن يغتالوا بعبد الله فصرف الله شرّهم عنه ورجعوا الى بلادهم ولم يكن يقدم عليهم أحد من الحرم الا سألوه عن عبد الله فيقولون تركنا نورا يتلألأ فى قريش فتقول الاحبار ليس ذلك النور لعبد الله انما ذلك النور لمحمد عليه السلام
অর্থ: “যেই দিন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, সেই দিনই উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে শাম দেশের সকল পাদ্রীরা জেনেছিলো। আর তা এই কারণে যে, তাদের নিকট একটি সাদা পশমী জুব্বা মুবারক ছিলো। উক্ত জুব্বা মুবারকখানা হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিস সালাম উনার রক্ত রঞ্জিত ছিলো। আর তারা তাদের আসমানী কিতাবসমূহে পেয়েছিলো যে, যখন দেখবে তোমরা উক্ত সাদা জুব্বা মুবারক থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে রক্ত মুবারক ঝরছে, তখন তোমরা নিশ্চিতভাবে জানবে যে, ওই রাতেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর তারা সকলেই সম্মানিত হারাম শরীফ আগমন করলো এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহি সালাম উনাকে গোপন শহীদ করার জন্য কোশেশ করতে থাকলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত হিফাযত মুবারক করলেন। সুবহানাল্লাহ! তারা তাদের দেশে ফিরে গেলো। তাদের মধ্যে যারাই দেশে ফিরে গেছে, তাদের প্রত্যেককেই সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে। তারপর তারা প্রত্যেকেই বলতে থাকলো আমরা সম্মানিত নূর মুবারক রেখে এসেছি, যেই সম্মানিত নূর কুরাইশ উনাদের মাঝে জ্বলজ্বল করছেন। সুবহানাল্লাহ! পাদ্রীরা বললো, এই ‘সম্মানিত নূর মুবারক’ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘সম্মানিত নূর মুবারক’ নন; প্রকৃতপক্ষে এই ‘সম্মানিত নূর মুবারক’ হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘সম্মানিত নূর মুবারক’।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস শরীফ ১/৮২)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি সম্মানিত গায়িবী নিদা মুবারক:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম তিনি একবার উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন যে, “হে আমার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, আমি যখন কোনো নির্জন স্থানে যাই, তখন ‘গায়িবী নিদা তথা অদৃশ্য আওয়ায মুবারক’ শুনতে পাই- কে যেন আমাকে বলেন,
اَلسَّلَامُ عَلَيْكِ يَا اُمَّ سَيِّدِ الْمُرْسَلِيْنَ. اَلسَّلَامُ عَلَيْكِ يَا اُمَّ اِمَامِ الْمُرْسَلِيْنَ.
“হে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আপনাকে সালাম। সুবহানাল্লাহ! হে ইমামুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম আপনাকে সালাম!”
আবার কখনো বা বলেন,
بُشْرٰى لَكِ يَا اُمَّ اِمَامِ الْمُرْسَلِيْنَ
“হে ইমামুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আপনাকে সুসংবাদ।” সুবহানাল্লাহ!
সম্প্রতি একটি নতুন কথা শুনতে পাই। ঠিক একইরূপে কে যেন আমাকে বললেন,
مَرْحَبًا بِكِ يَا زَوْجَةَ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
“হে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আহলিয়াহ (যাওযাতুম মুর্কারামাহ), আপনি মুবারকবাদ গ্রহণ করুন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:
এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি এক রাতে এক বিশেষ স্বপ্ন মুবারক দেখেন। এক বুযূর্গ ব্যক্তি উনাকে বলছেন, “হে সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম, স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার মহাসম্মানিতা মেয়ে উনার তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তার ভার গ্রহণ করেছেন। আপনি উনাকে এমন এক সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বংশের অধিকারী সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার নিকট সমর্পণ করুন, যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি মানত মুবারক করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিও উনার সম্মানিত কুরবানী মুবারক কবূল করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত যুহরা গোত্রে শাদী মুবারক করার পূর্বাভাষ:
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ عَنْ اَبِيْهِ حَضْرَتْ اَلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ قَالَ قَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَدِمْتُ الْيَمَنَ فِي رِحْلَةِ الشِّتَاءِ، فَنَزَلْتُ عَلَى حَبْرٍ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الزَّبُورِ يَعْنِي أَهْلَ الْكِتَابِ مِمَّنِ الرَّجُلُ؟ قُلْتُ مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ مِنْ أَيِّهِمْ؟ قُلْتُ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ، قَالَ يَا حَضْرَتْ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَنْظُرَ إِلَى بَعْضِكَ؟ قَالَ نَعَمْ مَا لَمْ يَكُنْ عَوْرَةً قَالَ فَفَتَحَ أَحَدَ مَنْخِرَيَّ ثُمَّ فَتَحَ الْآخَرَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّ فِيَ إِحْدَى يَدَيْكَ مُلْكًا، وَفِي الْأُخْرَى نُبُوَّةٌ، وَإِنَّا نَجِدُ ذَلِكَ فِي بَنِي زُهْرَةَ، فَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قُلْتُ لَا أَدْرِي، قَالَ: هَلْ لَكَ من شاغة؟ قلت وما الشاغة؟ قَالَ: الزَّوْجَةُ، قُلْت أَمَّا الْيَوْمُ فَلَا، فَقَالَ فَإِذَا رَجَعْتَ فَتَزَوَّجْ فِيهِمْ، فَرَجَعَ حَضْرَتْ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَى مَكَّةَ، فَتَزَوَّجَ هَالَةَ بِنْتَ وُهَيْبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ زُهْرَةَ، فَوَلَدَتْ لَهُ حَضْرَتْ حَمْزَةَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَ حَضْرَتْ صَفِيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ، وَتَزَوَّجَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ آمِنَةَ بِنْتَ وَهْبٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ، فَوَلَدَتْ لَهُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ قُرَيْشٌ حِينَ تَزَوَّجَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ آمِنَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ: فَلَحَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى أَبِيهِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিমাস সালাম উনার হতে বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি একবার এক শীতের সফরে ইয়ামানে যাই। আমি সেখানে গিয়ে একজন ইহুদী পাদ্রীর সাথে সাক্ষাৎ করি। তখন আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাকে বলেন, আপনি কে? আমি বললাম, আমি সম্মানিত কুরাইশ বংশের একজন সম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সম্মানিত কুরাইশ উনার কোন পরিবার থেকে? আমি বললাম, আমি বনূ হাশেম হতে। অতঃপর তিনি বলেন, আপনার সম্মানিত অনুমতি মুবারক পেলে আমি আপনার সম্মানিত জিসম বা শরীর মুবারক উনার কিছু অংশ দেখতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ, দেখতে পারেন, যদি তা আওরাত না হয়। সেমতে তিনি প্রথমে আমার এক নাক মুবারক উনার ছিদ্র মুবারক দেখলেন, তারপর আবার অপর নাক মুবারক উনার ছিদ্র মুবারক দেখলেন। তারপর তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার একহাত মুবারক-এ মুলকিয়াত তথা শাসন ক্ষমতা এবং অপর হাত মুবারক-এ সম্মানিত নবুওওয়াত মুবারক। আমি তা বনূ যুহরা গোত্রে দেখতে পাচ্ছি। এ কেমন করে হলো? আমি বললাম, তা আমি জানি না। লোকটি বললো, আপনার কি ‘শাগাহ’ আছে? আমি বললাম, ‘শাগাহ’ কী? লোকটি বললো, মানে স্ত্রী। আমি বললাম, বর্তমানে নেই। অর্থাৎ এখানে আমার সাথে নেই। লোকটি বললো, তাহলে ফিরে গিয়ে যুহরা গোত্রে শাদী মুবারক করবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি দেশে ফিরে এলেন এবং হালা বিনতে ওহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করলেন। হালা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ আলাইহিস সালাম তিনি ও সাইয়্যিদাতুনা সাইফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম উনারা মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করার পর কুরাইশরা বলাবলি করতে শুরু করেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহাস সালাম উনার উপর সফল হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (বাইহাক্বী, আল মু’জামুল কাবীর, সুবুলুল হুদা ওযার রশাদ, মুস্তাদরকে হাকিম, আবূ নাঈম, খছায়িছুল কুবরা, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ইমতা‘উল আসমা’)
সম্মানিত শাদী মুবারক:
‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فلما كبر سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام قصدوا قتله فأرسل الله تعالى ملائكة فقتلهم عن آخرهم وكان حَضْرَتْ وهب عَلَيْهِ السَّلَامُ والد آمنة ينظر على رأس جبل إلى هذه الكرامة لحَضْرَتْ عبد الله عَلَيْهِ السَّلَامُ فأخبر زوجته حَضْرَتْ برة بنت عبد العزى عَلَيْهَا السَّلَامُ أم آمنة عَلَيْهَا السَّلَامُ بذلك وقال هل لك أن تزوجي حَضْرَتْ عبد الله عَلَيْهِ السَّلَامُ بآمنة عَلَيْهَا السَّلَامُ قالت نعم فتوجه حَضْرَتْ وهب عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ برة عَلَيْهَا السَّلَامُ إلى حَضْرَتْ عبد المطلب عَلَيْهِ السَّلَامُ واسمه شيبة الحمد فخطبا منه حَضْرَتْ عبد الله عَلَيْهِ السَّلَامُ لحَضْرَتْ آمنة عَلَيْهَا السَّلَامُ لما رأى حَضْرَتْ وهب عَلَيْهِ السَّلَامُ من كرامة والد النبي صلى الله عليه وسلم فزوجه بها
অর্থ: “অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বড় হলেন, তারা উনাকে শহীদ করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করে উনাদের মাধ্যমে তাদেরকে হত্যা করলেন, নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুন নাস সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি পাহাড়ের উপর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এই সম্মানিত কারামাত মুবারক দেখলেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর তিনি বাড়িতে যেয়ে উনার সম্মানিতা ‘যাওযাতুম মুকাররামাহ’ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত র্বারাহ বিনতে আব্দুল উয্যা আলাইহাস সালাম উনাকে এই সম্মানিত কারামাত সম্পর্কে অবহিত করলেন। তারপর তিনি বললেন, আপনি কি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক দিবেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এই সম্মানিত কারামাত মুবারক দেখে তিনি এবং উনার সম্মানিত আহলিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত বাররাহ আলাইহাস সালাম উনারা দু’জনে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলেন। উনার সম্মানিত নাম মুবারক ছিলো, ‘শায়বাতুল হামদ’ (এটা উনার বিশেষ লক্বব মুবারক। তবে উনার মূল নাম মুবারক ছিলেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম’।) অতঃপর উনারা উভয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক উনার ব্যাপারে প্রস্তাব মুবারক দিলেন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক সুম্পন্ন করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ২/৭৫)
আর আল্লামা হযরত কারামাত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فلما راى وهب بن عبد مناف عليه السلام هذه الحال رجع الى بيته من الصحراء وقال لاهله ان تزويج بنتى امنة عليها السلام عبد الله بن عبد المطلب عليهما السلام يكون حسنا فارسل بهذه الخطبة الى عبد المطلب عليه السلام من احبابه بعضا وهو اراد ايضا تزويج عبد الله عليه السلام فكان يتفحص امراة تكون بشرف النسب والحسب والعفة ممتازة فى الدرجة القصوى فوجد امنة عليها السلام ابنت وهب عليه السلام متصفة بهذه الاوصاف فزوج عبد الله عليه السلام اياها
অর্থ: “সাইয়্যিদুন নাস সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি এই ঘটনা মুবারক অবলোকন করার পর সেখান থেকে বাড়ি ফিরে গেলেন এবং তিনি উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট (সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর বললেন,) সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আমার সম্মানিতা মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক দিতে পারলে অতি উত্তম হতো। অতঃপর তিনি উনার বন্ধুর মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত শাদী মুবারক উনার এই প্রস্তাব মুবারক পাঠালেন। আর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও তখন উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করানোর জন্য এমন একজন সম্মানিতা মেয়ে অনুসন্ধান করছিলেন, যিনি হবেন সর্বোচ্চ বংশীয়া এবং সম্মান-ইজ্জত, পবিত্রতা ও চারিত্রিক নিষ্কুলষতার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে এই সকল গুণের সর্বসেরা গুণে গুণান্বিতা পেলেন। অতএব, তিনি (উক্ত প্রস্তাবে রাজি হয়ে) সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক সুসম্পন্ন করলেন।” সুবহানাল্লাহ!
‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
قال حسن بن احـمد البكرى رحمة الله عليه لـما اراد الجليل جل جلا له ان ينقل نور سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم جرك فى قلب عبد الله بن عبد الـمطلب عليه السلام ان يتزوج فقال عبد الله عليه السلام لامه عليها السلام اريد منك ان تـخطبى لى امراة ذات حسن وجمال وقد واعتدال وبـهاء وكمال وحسب ونسب عال قالت حبا وكرامة يا ولدى ثـم انـها دارت احياء قريش وبنات العرب فلم يعجبها الا امنة بنت وهب عليها السلام فقال يا اماه انظريها مرة ثانية فمضب ونظرتـها فاذا هى تضىء كانـها كوكب درى فانقدوها
অর্থ: “হযরত হাসান বিন আহমদ বাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক উনাকে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ স্থানান্তরিত করার ইচ্ছা মুবারক করলেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত অন্তর মুবারক-এ সম্মানিত শাদী মুবারক করার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আশা করি, আপনি আমার পক্ষ থেকে এমন একজন মহাসম্মানিতা মহিলা উনার কাছে সম্মানিত শাদী মুবারক প্রস্তাব দিবেন, যিনি হবেন সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বোত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী, অতি উত্তম জিসম মুবারক উনার অধিকারিণী, সুদশর্না, ন্যায়পরায়ণী, উজ্জ্বল দীপ্তিময়ী, সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণতার অধিকারিণী, বেমেছাল মান-সম্মান-ইজ্জত মুবারক উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ বংশীয়া। উনার সম্মানিতা মা আলাইহাস সালাম উত্তরে বললেন, হে আমার স্নেহের পুত্র! আপনার জন্য মুহব্বত ও সম্মান-ইজ্জত।
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের ও আরবের সকল গোত্রের সমস্ত কুমারী মহিলাগণের ব্যাপারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংবাদ নিলেন। কিন্তু তিনি একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে উপরোক্ত সমস্ত গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারিণী পেলেন না। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আপনি দ্বিতীয়বারের মতো আবারো উনাকে দেখুন। তারপর তিনি পুনরায় দেখতে গেলেন এবং উনার দিকে তাকালেন। তখন তিনি উনাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম তিনি যেন মুক্তা সাদৃশ্য তারকার ন্যায় নূর মুবারক বিচ্ছুরণ করছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উভয়ের মধ্যে নিকাহ মুবারক সুসম্পন্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে যে,
أنه خرج عبد الله يوما الى قنصه وقد قدم عليه تسعون رجلا من أحبار يهود الشام معهم السيوف المسمومة يريدون أن يغتالوه ويقتلوه وكان وهب بن عبد مناف أبو آمنة صاحب قنص أيضا* قال فلما نظرت الى الاحبار قد أحدقوا بعبد الله وعبد الله يومئذ وحده تقدّمت اليه لاعينه عليهم فنظرت الى رجال لا يشهون رجال الدنيا على خيل شهب قد حملوا على الاحبار حتى هزموهم عن عبد الله فلما رآى ذلك وهب بن عبد مناف من عبد الله رغب فيه وقال لن يستقيم لا بنتى آمنة زوج غير هذا
অর্থ: “একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শিকারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন শাম দেশের ইহুদী পাদ্রীদের মধ্য থেকে ৯০ জন পাদ্রী বিষাক্ত তরবারী নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে গুপ্তহত্যা এবং শহীদ করার উদ্দেশ্যে উনার দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনিও শিকারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যখন আমি দেখলাম যে, পাদ্রীরা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পুরোপুরিভাবে ঘেরাও করে ফেলেছে। অথচ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একা। তখন আমি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দিকে অগ্রসর হতে লাগলাম। উদ্দেশ্যে হচ্ছে আমি ওই সকল পাদ্রীদের বিরুদ্ধে উনাকে অবশ্যই সাহায্য করবো, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবো। সুবহানাল্লাহ! আমি ধূসর রঙ্গের ঘোড়ার উপর কিছু লোক দেখতে লাগলাম, যারা দুনিয়ার অন্য কোনো লোকের সাথে সাদৃশ্য রাখেন না। উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ হয়ে পাদ্রীদের উপর আক্রমণ করে তাদেরকে পরাজিত করলেন, তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এই সম্মানিত কারামত মুবারক দেখলেন, তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আগ্রহী হলেন এবং তিনি বললেন, আমার সম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর অন্য কেউ আহাল হওয়া কস্মিনকালেও সঠিক হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/৮৩)
আযীমুশ শান শাদী মুবারক অনুষ্ঠান:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক পরিপূর্ণরূপে সম্মানিত সুন্নতী কায়দায় হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! নির্দিষ্ট সময়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ নিয়ে আসা হলো। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২৪ বছর ১১ মাস ২৮ দিন তথা পূর্ণ ২৫ বছর এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১৮ বছর ৩ মাস ২৫ দিন। সুবহানাল্লাহ! অনেক দিন পূর্ব থেকেই সম্মানিত শাদী মুবারক উনার প্রস্তুতি মুবারক চলছিলো। দিন যতই নিকটবর্তী হতে থাকলো, ততোই প্রস্তুতি মুবারক আরো ব্যাপকভাবে করা হচ্ছিলো। ইয়াওমুল খমীস সমস্ত মক্কা শরীফ-এ সম্মানিত শাদী মুবারক উনার আয়োজনের ধূম পড়ে গেলো। কুরইশ বংশীয় সাইয়্যিদযাদাহ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক। তাই সকলের মাঝে আনন্দের মহাজোয়ার বইছে। জিন-ফেরেশতা, হুর-মালায়িক সকলে খুশি প্রকাশ করছেন। আরশে আ’লা হতে তাহতাছ ছারা পর্যন্ত খুশির জোয়ার বইছে। শুভ মুহূর্ত নিকট থেকে নিকটবর্তী হচ্ছেন। সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার পাশেই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ। সেখানেই আযীমুশ শান শাদী মুবারক উনার মজলিস অনুষ্ঠিত হবে। তাই অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে সাজানো হয়েছে সম্মানিত শাদী মুবারক উনার মজলিস। সকলেই মজলিসে উপস্থিত হতে লাগলেন। পূর্ণ প্রস্তুতি মুবারক সম্পন্ন হলো। পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ উনার সূর্য অস্তিমত হয়ে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ উনার চাঁদ উঁকি দিলো। বা’দ মাগরিব এবং ইশার ওয়াক্ত শুরু। আযীমুশ শান শাদী মুবারক উনার অনুষ্ঠানে সকলে উপস্থিত হলেন। এমনি শুভক্ষণে সকলের মধ্যমণি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত মজলিসে উপস্থিত হয়ে সকলকে ধন্য করলেন। তখন উনার সম্মানিত ললাট ও সমস্ত জিসম মুবারক থেকে মুক্তা দানার ন্যায় সম্মানিত নূর মুবারক বিচ্ছূরিত হচ্ছিলেন। যেন সম্মানিত মজলিসে নিশির পূর্ণ চাঁদ উদিত হয়ে সকলকে আলোকিত করছেন অথবা দিবালোকের সূর্য সকলের উদ্দেশ্যে আলো বিতরণ করছেন। সুবহানাল্লাহ! সকলের দৃষ্টি উনার দিকে। জিন-ফেরেশতা ও হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই সেই সম্মানিত মজলিসে উপস্থিত। সকলের মাঝে আনন্দের মহাজোয়ার বইছে। এমতাবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক অনুযায়ী প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা ও ছানা-ছিফত মুবারক করেন। তারপর সকলের উদ্দেশ্যে সম্মানিত নছীহত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি, উনার প্রশংসা মুবারক করছি যিনি আমাদেরকে অফুরন্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন, আমাদেরকে দয়া-ইহসান মুবারক করেছেন এবং আমাদের হৃদয়ে উনার সম্মানিত শুকরিয়া, প্রশংসা, ছানা-ছিফত মুবারক করার উপলব্ধি দিয়েছেন এবং তা করার তাওফীক্ব মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমাদেরকে সম্মানিত শহর মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী বানিয়েছেন। তিনি অন্যান্য গোত্রের উপর আমাদেরকে মর্যাদাবান করেছেন এবং দুর্যোগ ও দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করছি যিনি আমাদের জন্য নিকাহ বা শাদী মুবারক বৈধ করেছেন এবং অবৈধ সংসর্গ নিষিদ্ধ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এইভাবে অনুষ্ঠান মুবারক সূচনা করে তিনি বললেন,
এখন আপনাদের অবগতির জন্য পেশ করছি যে, আমাদের সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আপনাদের সম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সাথে নিকাহ বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান এবং আপনাদের সম্মতি হলে এই সম্মানিত বিবাহ মুবারক নিষ্পন্ন করতে চান। আপনারা কি এ প্রস্তাবে রাজি রয়েছেন?
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান খাজা সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা ও ছানা-ছিফত মুবারক করার পর সকলের উদ্দেশ্যে কিছু সম্মানিত নছীহত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি, উনার প্রশংসা মুবারক করছি যিনি আমাদেরকে দ্বীনে হানীফের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন, উনার সম্মানিত শুকরিয়া, প্রশংসা, ছানা-ছিফত মুবারক করার তাওফীক্ব দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমাদেরকে সম্মানিত কুরাইশ গোত্রের বিশেষ শাখা সম্মানিত যোহরা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সম্মানিত শহর মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী বানিয়েছেন। তিনি অন্যান্য গোত্রের উপর আমাদেরকে মর্যাদাবান করেছেন এবং মানুষের খিদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করছি যিনি আমাদের জন্য নিকাহ বা শাদী মুবারক বৈধ করেছেন এবং অবৈধ সংসর্গ নিষিদ্ধ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এভাবে সাইয়্যিদুনা খাজা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সংক্ষিপ্ত নছীহত মুবারক শেষ করেন। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। অতঃপর তিনি হাসিমুখে সায় দিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সকলে এই সম্মানিত পবিত্র কাজের সাক্ষী থাকলেন। সুবহানাল্লাহ!
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করেন এবং দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন। সুবহানাল্লাহ!
এইভাবে সম্মানিত সুন্নতী তরতীব অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হয়।” সুবহানাল্লাহ!
সময়টি ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৮ মাস ১২ দিন পূর্বে মহাসম্মানিত রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ১লা তারিখ লাইলাতুল জুমুয়াহ শরীফ।
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ عليه السلام قَالَ اِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَرَجْتُ مِنْ نِكاحٍ ولم اخْرُجْ مِنْ سِفاحٍ مِنْ لَدُنْ اٰدَمَ الى اَنْ وَلَدَنِـىْ ابِى وامِّى لَمْ يُصِبْنِـىْ مِنْ سِفاحِ الجاهِلِيَّةِ شَىءٌ ما ولدنى الا نكاح كنكاح الاسلام.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি সম্মানিত সর্বোত্তম বিশুদ্ধ নিকাহ মুবারক উনার মাধ্যমে সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি; কস্মিনকালেও এর ব্যতিক্রমটি ঘটেনি। সুবহানাল্লাহ! আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আমার সম্মানিত আব্বাজান ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহিমাস সালাম উনাদের পর্যন্ত আমি যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মাঝে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছি, উনারা প্রত্যেকেই উনাদের সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন সম্মানিত ছহীহ নিকাহ বা বিবাহ মুবারক উনার মাধ্যমে। যাতে জাহিলী যুগের কোনো অপকর্ম কস্মিনকালেও স্পর্শ করেনি। আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত পবিত্র নিকাহ মুবারক উনার ন্যায় সম্মানিত পবিত্র নিকাহ মুবারক উনার মাধ্যমে সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি। সুবহানাল্লাহ!” (আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ৫/৮০, আল বাদরুল মুনীর ৭/৬৩৭, আল মাত্বালিবুল আলীয়াহ ১৭/১৯৮, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/১৪৯, আল জামিউছ ছগীর ১/৩৬৪, আল ফাতহুল কাবীর ২/৮২, দায়লামী শরীফ ২/১৯০, জামিউল আহাদীছ ৯/৪৯৮, আল খছাইছুল কুবরা ১/৬৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৬৮, দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিআবী নাঈম ১/১৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৭)
এই সমস্ত দলীল-আদিল্লাহ উনাদের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক সম্মানিত সুন্নতী তরতীব মুবারক অনুযায়ী হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! মূলত এই সম্মানিত তরতীব মুবারক অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠান করা সকলের জন্য সম্মানিত সুন্নত মুবারক হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। অর্থাৎ উনারা সকলকে সম্মানিত সুন্নত মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মোহরানা মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক ছিলো নগদ এক উকিয়া স্বর্ণ ও এক উকিয়া রৌপ্য। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
সম্মানিত ওলীমা মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনি ছিলেন সমস্ত কুরাইশ সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ। তিনি তো জিন-ইনসানকে খাওয়াতেনই; শুধু তাই নয়, বরং বন্যপশু-পাখীদেরকেও খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি সকলের মাঝে ‘মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর’ তথা মানুষ, বন্য পশু ও পাখীদেরকে খাদ্যদানকারী এই সম্মানিত লক্বব মুবারক পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি উনার সবচেয়ে প্রিয় আওলাদ, লখতে জিগার সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত শাদী মুবারক উনার ওলীমায় কত বিশাল বড় অনুষ্ঠান করেছেন, কতো বেমেছালভাবে আয়োজন করেছেন এবং জিন-ইনসান ও পশু-পাখীকে কি পরিমাণ মেহমানদারী করেছেন, খাদ্য খায়িছেন, তা সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! তবে কিতাবের এক বর্ণনায় দেখা যায় যে, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ওলীমা মুবারক উপলক্ষে একশত উট, একশত গরু, একশত বকরী জবাই করে প্রচুর পরিমাণে খাবার প্রস্তুত করেছেন এবং সম্মানিত মক্কা শরীফ ও তৎসংলগ্ন এলাকার সবাইকে দাওয়াত করে মেহমানদারী মুবারক করেছেন। এই সম্মানিত মেহমানদারী মুবারক চারদিন পর্যন্ত চলেছে। সুবহানাল্লাহ!
লাইলাতুয যুফাফ শরীফ:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ফুল সজ্জিত সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ নিয়ে যাওয়া হলো। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিশেষ ছোহবত মুবারক তথা সাক্ষাৎ মুবারক-এ গেলেন এবং সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবাহনাল্লাহ! সেই মহাসম্মানিত বরকতময় রাতখানা ছিলেন সম্মানিত রজবুল হারাম শরীফ উনার ১লা তারিখ এবং সম্মানিত জুমুয়াহ শরীফ উনার সম্মানিত রাত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
ان فى هذه الليلة نودى فى الملك والملكوت ان ينوروا العالم بانوار القدس تنويرا واهتز وابتهج ملائكة الارض والسماء اهتزازا وابتهاجا وامر خازن الجنة بان يفتح باب الفردوس الاعلى ويجعل العالم بالفوائح والروائح معطرا وبشر فى طبقات السموات وبقاع الارض كلها بان النور المحمدى فى هذه الليلة استقر فى رحم حضرت امنة عليها السلام استقرارا.
অর্থ: “এই রাতে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার জগতে এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জগতে বলে দেয়া হয়েছিলো যে, উনারা যে সম্মানিত পবিত্র নূর মুবারক দ্বারা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে নূরানী করেন, আলোকিত করেন। সুবহানাল্লাহ! আকাশ-যমীন, সারা কায়িনাতের সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহা খুশিতে বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন। সর্বশ্রেষ্ঠ জান্নাত ফেরদাউস উনার দরজা মুবারক খুলে দেয়ার জন্য সম্মানিত বেহেশত উনার রক্ষণাবেক্ষণকারী সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম উনাকে হুকুম করা হলো। সমগ্র কায়িনাতকে বিভিন্ন প্রকার খুশবু দ্বারা খুশবুময় করে রাখার আদেশ আসিলো। আকাশের সকল স্তরে এবং যমীনের সকল স্তরে, পৃথিবীর সকল ঘরে ঘরে খোশখবরি দেয়া হয়েছিলো যে, নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সম্মানিত রাতে উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وفى حديث عبد الله ابن عباس رضى الله عنهما انـه قال كان من دلالة حمل امنة عليها السلام برسول الله صلى الله عليه وسلم ان كل دابة كانت لقريش نطقت تلك الليلة، وقالت حمل برسول الله صلى الله عليه وسلم ورب الكعبة وهو امام اهل الدنيا وسراج اهلها، ولـم يبق سرير ملك من ملوك العرب والعجم الا واصبح منكوسا واقبل ابليس لعنه الله هاربا على وجهه حتى اتى على جبل ابى قبيس وصاح صيحة ورن رنة فاجتمعت اليه الشياطين من كل جانب.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক এনেছেন এই বিষয়ে একটি দলীল হচ্ছে, কুরাঈশ গোত্রের সকল গৃহপালিত পশুগুলো সেই (লাইলাতুর রাগায়িব) সম্মানিত রাত্রি মুবারক-এ পরস্পরে কথা বলেছে। সুবহানাল্লাহ! তারা বলেছে, (আজ রাত) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তিনি দুনিয়াবাসী সকলের ইমাম এবং তাদের জন্য আলোকবর্তিকা বা হিদায়াতকারী। আরব ও আজম তথা সারা পৃথিবীর সকল রাজাদের সিংহাসনগুলো উল্টে পড়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! ইবলীস লা’নাতুল্লাহি আলাইহি (তার উপর আল্লাহ পাক উনার অভিসম্পাত সার্বক্ষণিক বর্ষিত হচ্ছে।) পলায়ন করে আবূ কুবাইস পাহাড়ে এসে আর্তচিৎকার ও কঠিন রোনাজারী করতে লাগলো। এ চিৎকার শুনে সর্বদিক থেকে সমস্ত শয়তানগুলো তার নিকট এসে একত্রিত হলো।” (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)
‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
فأمر الله عزّ وجلّ خازن الجنة بأن يفتح أبواب الجنان للنور المكنون فاستقر عند حَضْرَتْ آمنة عليها السلام فأصبحت يومئذ أصنام الدنيا كلها منكوسة وأصبح عرض اِبليس عدو الله مَنْكُوْسًا اَرْبَعِيْنَ يَوْمًا فَاَفْلَتَ اِبْلِيْسُ هَارِبًا اَسْوَدَ مُـحْتَرِقًا حَتّى اتى جَبَلَ اَبِـىْ قبيس فَصَاحَ صَيْحَةً وَّرنّ رنّة فاجتمع إليه الشياطين من كل ناحية فقالوا يا سيد القوم ما الذي دهاك فقال إبليس ويلكم أهلكتنا هذه المرأة.
অর্থ: “তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত উনার প্রহরী ফেরেশতা আলাইহিস সালাম উনাকে নির্দেশ মুবারক প্রদান করলেন, সম্মানিত সুরক্ষিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সম্মানিত জান্নাত সমূহের সকল দরজা মুবারকগুলো উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য। অতঃপর নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। ফলে সেই দিন পৃথিবীর সমস্ত মূর্তিগুলো উল্টে পড়লো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন ইবলীসের আসন ৪০ দিন পর্যন্ত উল্টে পড়েছিলো। তখন ইবলীস দগ্ধীভূত অতি কুৎসিত কালো কদাকার রং ধারণ করে কঠিন লাঞ্ছিত অবস্থায় পলায়নকারীরূপে আবূ কুবাইস পাহাড়ে আসলো। তারপর সে কঠিনভাবে চিৎকার করলো এবং খুব কঠিনভাবে বিলাপ করলো। ফলে সর্বদিক থেকে সমস্ত শয়তান তার নিকট এসে জমা হয়ে বললো, হে সম্প্রদায়ের নেতা! কোন্ জিনিস তোমাকে আঘাত করেছে, তোমাকে কষ্ট দিয়েছে? তখন ইবলীস বললো, তোদের জন্য আফসোস! এই সম্মানিত মহিলা (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) তিনি আমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৪৭)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে