যিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ কর্তৃক সত্যায়িত


সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এমন একজন মহান ব্যক্তিত্ব, উনার শান মুবারকে, উনার মতামতকে সমর্থন করে এমনকি উনার জন্য সাক্ষীস্বরুপ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে বিশের অধিক আয়াত শরীফ নাযিল করেন। যথা-
১। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক ইসলাম প্রকাশ করত মুসলমান চল্লিশ জনে পূর্ণ হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক আপনার এবং মু’মিন উনাদের জন্য সর্বক্ষেত্রেই যথেষ্ট। (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪)
২। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মাক্বামে ইবরাহীম উনার মধ্যে পবিত্র নামায আদায়ের মুবারক প্রস্তাব প্রদান করেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করেন,
وَاتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
আপনারা মাক্বামে ইবরাহীম উনাকে নামায আদায়ের স্থান হিসেবে গ্রহণ করুন। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৫)
৩। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সাধারণ মানুষদের হতে পর্দার ব্যাপারে প্রস্তাব দেন। তখন নাযিল করা হয়-
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মু’মিনগণকে তাদের চক্ষু অবনত রাখতে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করতে বলুন। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩০)
৪। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারকে মুনাফিকরা বিভ্রান্তি ছড়ালে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, উনারা দুনিয়াবী ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু হতেই ছমাদ। উনারা যদি দুনিয়া তালাশ করতেন তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনাদের পরিবর্তে নতুন কাউকে হাদিয়া করতে। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সুরা তাহরিম শরীফ উনার পবিত্র ৫নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নাযিল করেন-
عَسَى رَبُّهُ إِن طَلَّقَكُنَّ أَن يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُّؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا
অর্থ- যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে তালাক প্রদান করতেন, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনাদের পরিবর্তে আরো উত্তম, মু’মিনা, মুসলিমা, ক্বনিতাহ, তায়িবা, আবিদাহ, সায়িহা এবং কুমারী ও অকুমারী হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম হাদিয়া মুবারক করতেন। অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই কায়িনাতে সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই উনাদের পরিবর্তে নতুন কাউকে আনার প্রয়োজন হয়নি।
৫। বদর জিহাদের যুদ্ধ বন্দিদের ব্যাপারে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পররমর্শকে সমর্থন করে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ উনার ৬৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللّهُ يُرِيدُ الآخِرَةَ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
৬। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শরাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করলে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২১৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ
৭। তিনি দুয়া মুবারক করেন, আয় আল্লাহ পাক! শরাবের ব্যাপারে আমাদেরকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা নিসা উনার ৪৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনাকে নাযিল করেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقْرَبُواْ الصَّلاَةَ وَأَنتُمْ سُكَارَى
৮। মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাক
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে মন্তব্য করেন তার সমর্থনে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র সূরা মু’মিনীন শরীফ উনার ১৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
৯। তিনি মুনাফিকদের জানাযা না পড়ার ব্যাপারে প্রস্তাব মুবারক প্রদান করেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ৮৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনাকে নাযিল করে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا
১০। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুনাফিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তা না করার প্রস্তাব দেন। কেননা তারা দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মুনাফিকুন উনার ৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
سَوَاء عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ
১১। বদর জিহাদের পূর্বে কুরাঈশদের মুকাবিলার স্থানের ব্যাপারে পরামর্শ চাওয়া হলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্য হতে বের হয়ে জিহাদ করার প্রস্তাব দেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ উনার পবিত্র ৫নং পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে ইরশাদ মুবারক করেন-
كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِن بَيْتِكَ بِالْحَقِّ
১২। মুনাফিকরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারকে অপবাদ লেপনের অপচেষ্টা করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা তো সুস্পষ্ট অপবাদ। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ১৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
مَّا يَكُونُ لَنَا أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
১৩। প্রাথমিক যুগে রমাদ্বান শরীফ উনার রাত্রে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার বিষয়টি নিষিদ্ধ ছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এ বিষয়ে রুখসত কামনা করেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৮৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَآئِكُمْ
১৪। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট এক ইহুদী সে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে কুৎসা রটনা করে। এতে তিনি জালালী হয়ে যে বাক্য মুবারক উচ্চারণ করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ৯৮নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে তার সমর্থন দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন-
مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللّهَ عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ
১৫। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফায়সালা মুবারক ইহানতকারী মুনাফিক বিশরের মৃত্যুদ- প্রদানকৃত সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিচারের যথার্থতা ঘোষণা করে মহান আল্লাহ তিনি পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৬৫নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا
১৬। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিনা অনুমতিতে কারো ঘরে প্রবেশের বিষয়টি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দুআ মুবারক করেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা নূর শরীফ উনার ২৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মতে মত এবং পথে পথ। অন্য কথায়, মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মত মুবারকে তিনি সর্বদা দায়িম ও কায়িম। যা উনার বেমেছাল ফযীলতের বহিপ্রকাশ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে