যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী তুষারঝড়, ২৮ টর্নেডোর আঘাত ১০ লক্ষ বাড়িঘর বিদ্যুৎশূন্য


যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড তুষার ঝড় আঘাত হেনেছে। এসময় একই সাথে প্রায় ২৮টি টর্নেডো আঘাত হানে। কর্তৃপক্ষ এ দুর্যোগে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে। শীতকালীন এই ঝড়টি এখন দক্ষিণাঞ্চলের ভেতর দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মিসিসিপি, অ্যালাবামা, ওকলাহোমা, টেক্সাস, লুইজিয়ানায় বেশ জোরেশোরেই আঘাত হানে ঝড়টি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপক তুষারপাতের দরুণ রাস্তাঘাট প্রায় এক ফুট পুরু বরফে ঢেকে গেছে। এছাড়া প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে গাছ এবং গাছের ডাল ভেঙ্গে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে টেক্সাসে এবং ওকলোহামায় দু’জন মারা গেছে। এঝড়ে কমপক্ষে ১০ লক্ষ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

রাশিয়ায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় করুণ চিত্র

রাশিয়ায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় বহু এলাকা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি (মঙ্গলবার) রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের তাইভার খোভু আকসি গ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে। এটি রাশিয়ার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে নামার সাথে সাথে স্থানীয় বৈদ্যুতিক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মেরাতম কার্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। স্কুলগুলোতে জরুরি হিটিং সিস্টেম রয়েছে।
স্কুলে আশ্রয় নেয়া এক শরণার্থী বলে, ‘এখানে কিছুই নেই, এমনকি পানিও না। পানির জন্য আমাদেরকে বরফ গলাতে হবে। বাড়ির তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে রয়েছে।’
প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, শিশুসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে হেলিকপ্টারে করে কিজিলের আঞ্চলিক আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা আরো হ্রাস পেয়ে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌছেছে। রাশিয়ায় চলতি বছর ডিসেম্বরেই স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। দেশটিতে সাধারণত জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির আগে শীতলতম আবহাওয়া বিরাজ করে না।

ভারতে তীব্র শীতে ৯৩ জনের প্রাণহানি, শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

উত্তর ভারতে তীব্র শীতে কমপক্ষে ২৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যেও প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটিতে ঠা-ায় সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ জনে ।
খবরে বলা হয়, অব্যাহত রয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার কারণে খোদ রাজধানী নয়াদিল্লীতে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ভারতের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রচন্ড শীতে যাদের প্রাণহানি ঘটেছে তাদের বেশির ভাগই গৃহহীন ও বৃদ্ধ। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে উত্তর প্রদেশে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানী দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন ও বিমান চলাচল। মঙ্গলবার নয়াদিল্লীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১শ’ ফ্লাইট নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি।
গত ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি (মঙ্গলবার) উত্তরপ্রদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশকিম ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রী কম। পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত। ঘন কুয়াশায় ব্যাহত যান চলাচলও। গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। শীতে কাবু ঝাড়খ-ও। এখানে তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এটাই এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। রাজধানী রাঁচির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। পালামৌতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখন ৭.১ ডিগ্রী।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে