যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হইবেক: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আর যাতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর ছোবল হানতে না পারে সেজন্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। এ বিচার সম্পন্ন করে তাদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে।
‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নতুন প্রজন্মের দাবি, জনগণের দাবি, পুরো জাতির দাবি’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘এ বিচার হবেই হবে।’ মুক্তিযুদ্ধের ৪২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বরব্যাপী কর্মসূচি ও বিজয়ের উৎসবের উদ্বোধনকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে(সাবেক রেসকোর্স ময়দান) শিখা চিরন্তনের পাদদেশে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত বিজয়মঞ্চ থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ অপশক্তিকে প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, যারা দেশের অর্থসম্পদ পাচার করেছে, লুটপাট করেছে, সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করেছে আর এখন স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী অপশক্তিকে বাঁচাতে চায়, দেশের স্বাধীনতাকেই নস্যাৎ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দেশের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হতে হবে। আসুন সকলে মিলে এই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিরোধ করি।
শেখ হাসিনা বলেন, নতুন প্রজন্ম এখন সচেতন ও জাগ্রত। তারা এ দেশের সংগ্রামের কথা, ত্যাগের কথা জানতে চায়, বিজয়ের ইতিহাস জানতে চায়। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চায়। যারা স্বাধীনতাবিরোধী ছিল, তাদের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের কথা জানতে চায়। আর তারা এদের বিচার দেখতে চায় বলেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাদের ভোট দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা ক্ষমতায় গিয়ে তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করেছি। সঙ্গীনের খোঁচায় ক্ষত-বিক্ষত সংবিধানকে সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি। এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, আর যেন কেউ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করেছি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।
বিজয় উৎসবের মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি ও বিজয় উৎসব ও ৪২তম বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম।
সমাবেশে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগসহ এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী যোগ দেন। অসংখ্য মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিজয় মঞ্চে মঙ্গলবার ৪ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে অনুষ্ঠান চলবে।
এছাড়া ৮ ডিসেম্বর যুবলীগ, ১১ ডিসেম্বর স্বেচ্ছাসবক লীগ, ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ, ২২ ডিসেম্বর যুব মহিলা লীগ, ২৪ ডিসেম্বর তাঁতি লীগ ও ৩০ ডিসেম্বর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামাত-শিবিরের তা-ব রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরব্যাপী নানা কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে