যুদ্ধাপরাধের কথা শুনলে জামাতীদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে


বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল’। ঘায়ের ঘিনঘিনে পোকারা যখন মাথায় কিলবিল করে কুকুর তখন কী পরিমাণ উন্মাদ আচরণ করে, যারা এ প্রাণীটি পোষেন তারা এ বিষয়ে বিলক্ষণ অবগত আছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গটি বাংলাদেশে জামাতের মাথায় দুরারোগ্য ঘা হয়ে ৪০ বছর ধরে তাদের ঘুম হারাম করে রেখেছে। এ বিষয়ে কেউ কোন কথা বললেই জামাতীরা উন্মাদের মতো আচরণ করতে থাকে।

দেশে যখন জরুরী অবস্থা চলছিল- রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ; এমন এক পরিস্থিতিতে ২০০৭সালের ৩০ মার্চ সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল মইন উ আহমদ মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে কিছু ইতিবাচক কথা বলেছিলেন, যা একদিকে যেমন মুক্তিযুদ্ধের অনুসারীদের দ্বারা অভিনন্দিত হয়, অপরদিকে জামাতী যুদ্ধাপরাধীদের মাথায় ঘায়ের পোকাগুলো কিলবিল করতে শুরু করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ী মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় দল জামাতের ভূমিকা কী ছিল এবং গো.আযম, মইত্যা রাজাকার নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদীসহ জামাতের শীর্ষ জল্লাদ নেতারা যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর একান্ত খিদমতগার ছিল, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাতে হাত আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ যাবতীয় ধ্বংসযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছে, এটা প্রমাণ করার জন্য কাউকে বেশি কষ্ট করতে হবে না। মুক্তিযুদ্ধাকালীন জামাতের মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর পাতা উল্টালেই মইত্যা রাজাকার নিজামীদের যুদ্ধাপরাধের ভুরি ভুরি প্রমাণ পাওয়া যাবে।

বেশ কিছু দিন আগে নিজামীর যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বেসরকারি পর্যায়ে প্রথমবার তদন্ত করতে গিয়েছিলেন কিছু তরুণ সংবাদিক ও আইনজীবী পাবনায়। তারা যখন স্থানীয়দের প্রশ্ন করেছেন, ‘মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে কী জানেন’- অনেকে প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা প্রশ্নের ধরনটি সংশোধন করে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী’ বললে স্থানীয়রা বুঝতে পারবে না। নিজামীকে এলাকার মানুষে চেনে ১৯৭১এর ‘মইত্যা রাজাকার’ হিসেবে। ১৯৭১এ পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান সহযোগী দু’জন দালাল ও ঘাতক ভয়াবহ ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। এরা হচ্ছে মইত্যা রাজাকার নিজামী ও সাত্তার রাজাকার। এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা না বললে কারো পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না ‘আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন’ প্রতিষ্ঠার দাবিদার জামাত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১এ কত ধরনের অপকর্ম করেছে।

নিজামী ও তার অনুসারীরা বলবে- এলাকার মানুষরা মিথ্যা বলেছে। খোদ নিজামী এ কথা বহুবার বলেছে- ১৯৭১এ সে বা তার দলের কেউ পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল না, ১৯৭১এ রাজাকার, আলবাদর প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী তারা গঠন করেনি, কোন মুক্তিযোদ্ধাকে তারা হত্যা করেনি, কোন ধরনের যুদ্ধাপরাধ করেনি। ১৯৭১-এর বুদ্ধিজীবী হত্যা সম্পর্কে নিজামী নির্দিষ্টভাবে বলেছে- এর জন্য তারা নয়, আওয়ামী লীগই দায়ী। প্রশ্ন হচ্ছে- মইত্যা রাজাকার নিজামীরা যদি নির্দোষই হবে তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ উঠলে কেন তারা উন্মাদের মতো আচরণ করে? কেন তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে? বিচার শুরু হলে নিজামীরা আদালতে প্রমাণ করুক, তারা যুদ্ধাপরাধ করেনি, ১৯৭১এ যাবতীয় হত্যা ও নির্যাতনের জন্য মুক্তযোদ্ধারা দায়ী!

ঘাতক নিজামীরা নিশ্চয় এমন কথা বলবে না যে, ১৯৭১এ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের কোন ঘটনা ঘটেনি! যুদ্ধাপরাধ যদি হয়ে থাকে তার বিচার কেন হবে না?

২০০১ সালে বিএনপি’র কাঁধে সওয়ার হয়ে ঘাতক নিজামীরা ক্ষমতার শরীক হয়েছে, মন্ত্রীও হয়েছে। দেশপ্রেমিকদের বিবেচনায় গো’আযম, নিজামীরা বা জামাত স্বাধীনতা সমর্থক না হলেও তারা তাই মনে করে। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশদ্রোহী বানিয়ে হত্যার রাজনীতিতে মেতে রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা আঘাত করে। ১৯৭১ সাল থেকেই তারা স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকদের হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।  জামাতের জন্ম থেকেই সচেতন মহল তাদের ফ্যাসিস্ট আচরণ প্রত্যক্ষ করছে। আদর্শগতভাবে জামাত যে হিটলার ও মুসোলিনের ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের একনিষ্ঠ অনুসারী- এ কথা এই দলের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীই বলে গেছে। তাই আমরা দেখতে চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী?

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান, ৩১ জানুয়ারী, ২০১১

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+