যেখানে ভারতীয় পাঠ্যপুস্তকেও ক্ষুদিরাম-প্রফুল্ল চাকীদেরকে সন্ত্রাসবাদী বলে স্বীকার করা হয়েছে, সেখানে এদেশের পাঠ্যপুস্তকে কিনা…!


সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তাদের পাঠ্যপুস্তকে কথিত স্বদেশী আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন’ বলে স্বীকার করেছে, যার ফলে হাহাকার পড়ে গিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ভারতীয় নিউজ ওয়েবসাইট জি নিউজ ডট কমে প্রকাশিত “মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পাঠ্য বইয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা পেল সন্ত্রাসবাদী তকমা!” শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, “পর্ষদের ক্লাস এইটের ইতিহাস বইয়ে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ নামে একটি অনুচ্ছেদে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন জায়গা পেয়েছে। সেখানে ক্ষুদিরাম বসু-প্রফুল্ল চাকীদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।”
এখন তারা যতোই হাহাকার করুক, ক্ষুদিরাম-চাকী এরা যে স্বাধীনতাকামী নয়; বরং সন্ত্রাসবাদী তা কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। প্রাবন্ধিক নীরদ সি চৌধুরীর পৈতৃক শহর কিশোরগঞ্জের তৎকালীন বিধর্মীরা, যারা এই ক্ষুদিরাম-চাকীদের মতোই কথিত ‘স্বদেশী আন্দোলনে’ জড়িত ছিল, তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে তার আত্মজীবনী Autobiography of an unknown Indian বইয়ের ২৭৬ পৃষ্ঠাতে উল্লেখিত হয়েছে-
ÒTrunkfuls of pistols and ammunition had been passed from house to house; swords, spears, and even bows and arrows had been collected in large quantities. Every hindu house would have been defended by men practiced in arms, and blood would have flowed had there been a clash.
অর্থাৎ কিশোরগঞ্জের প্রত্যেক বিধর্মীবাড়িতে হাতে হাতে ট্রাঙ্কভর্তি পিস্তল এবং গুলি পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। তাছাড়া ব্যাপক পরিমাণে যোগাড় করা হয়েছিল তলোয়ার, বল্লম এমনকি তীরধনুক। প্রত্যেক বিধর্মীবাড়ির পুরুষেরা মুসলিম নিধনের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল এবং রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার শপথ নিয়েছিল।
ঐতিহাসিকরা এটিও স্বীকার করে যে, বর্তমান ভারতের বজরং দল, বিজেপি, শিবসেনার মতো উগ্র বিধর্মীত্ববাদী দলগুলো গঠনের মৌলিক ধারণা এসেছে ক্ষুদিরাম-প্রফুল্ল চাকীদের সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন থেকে। এখন আফসোসের বিষয় হলো, পশ্চিমবঙ্গের ক্লাস এইটের বইতে যেখানে তাদেরকে সন্ত্রাসবাদী বলে ঐতিহাসিক সত্যতাকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, সেখানে ৯৭ শতাংশ মুসলমানদের দেশের ক্লাস এইটের বইতে এখনো এই ক্ষুদিরাম-চাকীদেরকে দাবি করা হচ্ছে দেশপ্রেমিক ও বীর হিসেবে। নাউযুবিল্লাহ!
বর্তমান নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রীর প্রণীত সিলেবাসের ক্লাস এইটের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইটির ৭-৮ পৃষ্ঠায় কথিত ‘স্বদেশী আন্দোলনে’র প্রশংসা করে বলা হয়েছে “তাতে বাঙালির স্বদেশচেতনার আবেগ জোরদার হয়, স্বদেশী আন্দোলনে তার আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিকভাবে বাংলায় দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনার জোয়ার আসে।”
আসলে এদের নিয়ে বেশিকিছু বলার নেই। একাত্তরে পাকিস্তান যা করেছিল, তা যে অন্যায় ছিল তা বর্তমান সময়কার সাধারণ পাকিস্তানী জনগণও স্বীকার করে নেয়। কিন্তু তা স্বীকার করতে নারাজ পাকী হানাদারদের দোসর এদেশীয় রাজাকারেরা। ঠিক সেভাবেই বিধর্মীরাও হয়তো তাদের অন্যায় কখনো কখনো স্বীকার করে নেয়, ঐতিহাসিক সত্যতাকে মেনে নিয়ে তাদের পাঠ্যপুস্তকে তারা পরিবর্তন আনে। কিন্তু নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের মতো যেসব আওয়ামী মদদপ্রাপ্ত বিধর্মীস্তানী রাজাকারেরা এদেশে রয়েছে, পাকিস্তানী রাজাকারদের মতোই তারাও কখনোই স্বীকার করতে চাইবে না তাদের বিধর্মীত্ববাদী মনিবদের সাম্প্রদায়িক অন্যায়-অপকর্ম।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে