যে মানুষটি এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নয়, সে কী করে বেপরোয়া হতে পারে ও বেপরোয়া চলতে পারে?


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মানুষকে অল্প ইলম ব্যতীত দেয়া হয়নি।’
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই পাঁচটি বিষয়ের ইলম খাছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটে রয়েছে। ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে, বৃষ্টি কখন হবে, মায়ের রেহেমে কি আছে, মানুষ আগামীকাল কি কামাই রোজগার করবে, মানুষ কোথায় ইন্তিকাল করবে।’
বরং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি তার আনুগত্য প্রকাশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
‘পবিত্র সূরা ইয়াসীন’ শরীফ উনার ৭৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযূল মুবারক সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, “মক্কার কাফির আছ ইবনে ওয়ায়িল একদা মৃত ব্যক্তির কিছু পুরাতন হাড়হাড্ডি চূর্ণবিচূর্ণ করে সেগুলো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে নিয়ে এসে বললো, এই হাড়গোরগুলো এত চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার পরও কি এগুলোকে পুনরায় জীবিত করা সম্ভব? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে উক্ত কাফিরসহ সকলকে জানিয়ে দিলেন যে, ‘মানুষেরা কি লক্ষ্য করে না, আমি তাদেরকে পবিত্র পানি থেকে কিভাবে সৃষ্টি করছি?’ কাজেই মানুষের উচিত তার সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ফিকির করা, তাকে কি জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তার কী করণীয় সে সম্পর্কে জানা।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই দুনিয়া সৃষ্টি হয়েছে মানুষের জন্য আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আখিরাতের জন্য।’ অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত কিছু মানুষের জীবন ধারণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত ও সম্পদ মানুষ তার ক্ষণস্থায়ী হায়াতে জিন্দিগীতে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক অনুযায়ী ব্যবহার করবে এবং সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দীদার ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে উনাদের আদেশ-নিষেধ মুবারকগুলো মেনে চলবে। আর এজন্যেই মূলত তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

এক বুযূর্গ ব্যক্তি তিনি একবার বাজার থেকে একটি গোলাম কিনে আনলেন। কিনে আনার পর গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে গোলাম! তুমি কি খাবে? কি পরবে? কোথায় থাকবে? এবং কি কাজ করবে? গোলাম জাওয়াব দিলো, হে আমার মুনিব! আপনি আমাকে যা খাওয়াবেন আমি তাই খাবো, যা পরাবেন আমি তাই পরবো, যেখানে থাকতে দিবেন সেখানেই থাকবো এবং যে কাজ দিবেন সেকাজই আমি করবো। গোলামের জাওয়াব শুনে উপস্থিত মুরীদ, মুতাক্বিদ ও ভক্তবৃন্দের সামনেই বুযূর্গ ব্যক্তি কাঁদতে লাগলেন। মুরীদেরা আদবের সাথে বললেন, হুযূর! আপনি কাঁদছেন কেন? আপনার গোলাম তো সঠিক জাওয়াবই দিয়েছে। বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, তার সঠিক জাওয়াবের কারণেই আমার কান্না পাচ্ছে। কারণ, মাত্র কয়েক ঘণ্টা হলো আমি সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে তাকে কিনে এনেছি। আমি তাকে সৃষ্টি করিনি, প্রতিপালন করিনি তারপরও সে তার মতকে আমার মতের সাথে পুরোপুরি মিলিয়ে দিয়েছে। অথচ আমার বয়স অনেক হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি আমার মতকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক উনার সাথে মিলিয়ে দিতে পারিনি। তাহলে আমি আমার যিনি মাওলা, মুনিব মহান আল্লাহ পাক উনার কোন্ ধরনের বান্দা বা গোলাম হলাম!

কাজেই প্রত্যেক বান্দা-বান্দীর উচিত- খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক মেনে চলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা। তবেই তার জন্য নাজাত ও কামিয়াবী রয়েছে। অন্যথায় তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+