রকেট/ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে পথপ্রদর্শক টিপু সুলতান। পরে ওই প্রযুক্তিই গ্রহণ করে ইউরোপীয়রা


মহীশূরের মহান মুসলিম শাসক ও বৈজ্ঞানিক টিপু সুলতানের প্রশংসা করে উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের তোপের মুখে ভারতের রাষ্ট্রপতি। যা ভারতীয় অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার ‘উজ্জ্বল’ দৃষ্টান্ত। কিন্তু কথায় বলে- ‘সত্য চেপে রাখা যায় না’। উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা যতই হিংসা প্রকাশ করুক সত্য প্রকাশ হবেই হবে। তাই তো ভারতের হিন্দু রাষ্ট্রপতির মুখেও সত্যটা অবশেষে প্রকাশ পেলো। ভারতের বর্তমান (২০১৭ ঈসায়ী)  রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছে, “ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নায়কোচিত মৃত্যু হয়েছিল টিপু সুলতানের। ঘটনাটা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। শুধু তাই নয়, মহীশূর রকেট/ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও পথপ্রদর্শক ছিলেন টিপু সুলতান। পরে ওই প্রযুক্তিই গ্রহণ করে ইউরোপীয়রা।” কিন্তু অসভ্য বর্বর হিন্দুরা এ সত্য প্রকাশ হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েছে।  উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের গায়ে আগুন ধরেছে- সত্য প্রকাশ হওয়ায়।

( খবর সূত্র: কোলকাতার ‘আনন্দবাজার পত্রকিা)-

খবর:  ব্রিটিশপূর্ব ভারতের মহীশূর রাজ্যের মহান শাসনকর্তা টিপু সুলতানকে নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কে এবার নাম জড়ালো দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। টিপুকে ‘ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামী’ এবং তার মৃত্যুকে ‘ঐতিহাসিক’ তকমা দিয়ে বিজেপির তোপের মুখে পড়লো কোবিন্দ। রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার তাকে ডেকে এনে নিজেদের লেখা ভাষণ পড়িয়েছে বলেও সুর চড়ালো কর্নাটকের উগ্র সাম্প্রদায়িক বিজেপি নেতারা।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (২৫-১০-২০১৭) কর্নাটকের বিধান সৌধে। রাজ্য বিধানসভা ভবনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথ অধিবেশনের আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে কোবিন্দ বলেছে, ‘ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নায়কোচিত মৃত্যু হয়েছিল টিপু সুলতানের। ঘটনাটা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। শুধু তাই নয়, মহীশূর রকেট/ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও পথপ্রদর্শক ছিলেন টিপু সুলতান। পরে ওই প্রযুক্তিই গ্রহণ করে ইউরোপীয়রা।’
রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা শেষে কক্ষে হাজির সিংহভাগ বিধায়ক হাততালিতে ফেটে পড়লেও, প্রায় পর-পরই সুর চড়াতে শুরু করে উগ্র সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির হিন্দুত্ববাদী বিধায়কেরা। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে বিঁধতে গিয়ে তারা নিশানা করে বসে খোদ রাষ্ট্রপতিকেও। অরবিন্দ লিম্বাভলি যেমন বলেছে, ‘সামনেই ভোট। আর ঠিক সেই কারণেই টিপুর জন্মজয়ন্তী পালনকে আরো বড় করে দেখাতে চাইছে কংগ্রেসের সরকার। রাষ্ট্রপতিকে ডেকে এনে নিজেদেরই লেখা ভাষণ পড়িয়ে বাজিমাত করতে চাইছে।’
এর প্রতিবাদে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও জানায়, এমন মন্তব্যের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত বিজেপির। কোবিন্দ কারও লিখে দেয়া ভাষণ পড়ছে বলে ওরা রাষ্ট্রপতি পদেরই অবমাননা করেছে। অবশ্য শুধু টিপু সুলতান নন, রাজ্য ও দেশের সামগ্রিক বিকাশে কর্নাটকের (তৎকালীন মহীশূর) অগ্রণী ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি আরো অনেকের নাম করে। সিদ্দারামাইয়া নিজেও পরে টুইটারে রাষ্ট্রপতিকে তার বক্তৃতার জন্য অভিনন্দন জানায়।
কূটনীতিকরা বলছে, এর পরেই যেন আরো তেড়েফুঁড়ে মাঠে নামে বিজেপি। টিপুকে ‘হিন্দু এবং কন্নড়-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে ২০১৫ থেকেই তোপ দেগে আসছে রাজ্য বিজেপি।
তারপর সম্প্রতি মহীশূরের প্রাক্তন শাসককে ‘নৃশংস গণহত্যাকারী, উগ্র ধর্মান্ধ এবং ধর্ষক’ অপবাদ দিয়েও বিতর্ক আরো উস্কে দেয় কর্নাটকের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উগ্র সাম্প্রদায়িক অনন্তকুমার হেগড়ে। টিপু সুলতানের জন্মবার্ষিকী পালনে আপত্তি জানিয়ে সেই অনুষ্ঠানে যাবে না বলেও জানায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক অনন্তকুমার।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে