রজবুল হারাম মাস উনারই ১৩ তারিখ পবিত্র মক্কা শরীফ-এ ¬পবিত্র কা’বা শরীফ উনার অভ্যন্তরে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সকাল বেলা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কালো পশমের নকশা খচিত একটি চাদর মুবারক পরিধান করে পবিত্র হুজরা শরীফ উনার বাইরে আসেন, অতঃপর পর্যায়ক্রমে ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসেন, উনাকেও সেই চাদর মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করান, অতঃপর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি আসেন, উনাকেও সেই চাদর মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করান, অতঃপর সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ আন নূরুর রবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আসেন, উনাকেও সেই চাদর মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করান। অতঃপর ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আসেন, উনাকেও সেই চাদর মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করান। অতঃপর এ পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেন, “হে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

নজরানের ঈসায়ীদের (খ্রিস্টানদের) একটি প্রতিনিধি দল পবিত্র মদীনা শরীফ আগমন করে। তাদের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। তাদের অস্বীকৃতিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়ার মাধ্যমে এর ফায়ছালা করতে বলেন। এটাকে “দাওয়াতে মুবাহালা” বলা হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সাথে নিয়ে বাইরে তাশরীফ মুবারক আনেন। উনাদের নূরানী পবিত্র চেহারা মুবারক দেখে ঈসায়ীদের প্রধান পাদ্রী তার দলের লোকদেরকে বললো: “আমি এমন সব পবিত্র চেহারা মুবারক দেখছি, উনাদের দোয়া পাহাড়সমূহকেও আপন স্থান হতে হটিয়ে দিতে পারে। সুতরাং উনাদের সাথে মুবাহালা করে ধ্বংস হয়ো না।” হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সদস্য হিসেবে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনিও তথায় উপস্থিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হলো, কেউ যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত, সন্তুষ্টি মুবারক পেতে চায়, তাহলে অবশ্যই তাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত এবং সন্তুষ্ট করতে হবে। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে তাই আমরা দেখতে পাই- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে শুরু করে পরবর্তী উম্মত উনারা সকলেই হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখা, সম্মান করা, খিদমত করা ও অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করার বিষয়ে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন করা পবিত্র ঈমান তথা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি সেই পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। মূলত কিতাবে উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত, ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান বর্ণিত রয়েছে। তিনি এই পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনারই ১৩ তারিখ পবিত্র মক্কা শরীফ-এ ¬পবিত্র কা’বা শরীফ উনার অভ্যন্তরে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! যা এ বছরের অর্থাৎ ১৪৩৮ হিজরী সনের জন্য ১২ হাদি ’আশার ১৩৮৪ শামসী, ১১ এপ্রিল ২০১৭ ঈসায়ী, ইয়াওমুছ ছুলাছা বা মঙ্গলবার।

অতএব, সকল মুসলমানদের জন্য ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র জীবনী মুবারক জানা, উনাকে প্রতি ক্ষেত্রে অনুসরণ-অনুকরণ করা উনাকে মুহব্বত মুবারক ও তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং সর্বত্র উনার বেশি বেশি ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস উনার সম্মানে সেদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে