রহমতুল্লিল আলামীন


মহান আল্লাহ পাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিচয় দিতে গিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন ,
وما ارسلنك الا رحمة للعلمين.
“হে আমার হাবীব! আমি আপনাকে রহমতুল্লিল আলামীন বা সকল সৃষ্টির জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।”

এ আয়াতে কারীমা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, বিশ্ব জাহানে যত প্রকার মাখলুক আছে তাদের সকলের জন্যই নবীউর রহমত, হাবীবুল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ পাক উনার রহমত।

মহান আল্লাহ্ পাক উনার রহমত আবার কেমন সে প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ورحمتى وسعت كل شىء.
অর্থঃ- “আমার রহমত সমস্ত বস্তুকে আবৃত বা বেষ্টন করে রয়েছে।” (সূরা আ’রাফ/১৫৬)

আর রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ان الله تعالى بعثنى رحمة للعلمين وهدى للعلمين وامرنى ربى عز و جل بمحق المعازف والمزامير والاوثان والصلب وامر الجاهلية.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক আমাকে তামাম আলমের জন্য রহমত ও হিদায়েত তথা পথ-প্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আমার সেই মহা পরাক্রমশালী প্রতিপালক সর্ব প্রকার ঢোল ও যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র, দেব-মূর্তিসমূহ, (খৃষ্টানদের) শূলী ও ক্রুশের এবং জাহেলী যুগের বদ্ রছম ও কুসংস্কার নির্মূল ও ধ্বংস করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।” (আহমদ, মিশকাত)

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “প্রিয় নবী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
انا رحمة مهداة (رواه حاكم)
অর্থঃ- “আমি রহমত স্বরূপই প্রেরিত হয়েছি।” অর্থাৎ মানুষকে সৌভাগ্যবান করার লক্ষ্যেই আমি প্রেরিত হয়েছি।

উপরোক্ত আয়াতে কারিমা ও হাদীস শরীফের মর্মে বুঝা যায় যে, রহমত স্বরূপ মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে এরূপ অন্তর্নিহিত হয়ে আছেন, যেরূপ পানি বৃক্ষের প্রতিটি অংশেই অন্তর্নিহিত আছে। পানি ছাড়া যেরূপ কোন বৃক্ষের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না তদ্রুপ রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত রহমত ব্যতীত কোন সৃষ্ট বস্তু টিকে থাকতে পারেনা। তিনি যথার্থই সমস্ত-সৃজনব্যাপী এক মহান রহমত।

বস্তুতঃ মধ্যস্থতার ভিতর দিয়ে অর্থাৎ কোন নবী, মানুষ বা বস্তুর মাধ্যমে কোন কিছু দান করাই আল্লাহ্ পাক-এর নিয়ম। পিতা-মাতার মধ্যস্থতায় সন্তানাদি দান করা, মানুষের মধ্যস্থতায় রিযিক দান করা, শিক্ষকের মধ্যস্থতায় জ্ঞান দান করা, নবী-রসূল ও মুর্শিদ ক্বিবলার মধ্যস্থতায় হিদায়েত তথা ইরফানে খোদাওয়ান্দী দান করা যেরূপ তাঁর নিয়ম সেরূপ কোন এক মধ্যস্থতার ভিতর দিয়ে রহমত দান করাও ঐ একই নিয়মের অন্তর্ভূক্ত।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে