রাজাকার।


ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর
মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
৫ মে, ১৯৭১ ঈসায়ী
আল ইহসান ডেস্ক:
*******************************************************
 
পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই দেশ সম্পুর্ণরূপে অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে চলছিল। বারবার জারি হয়েছে সামরিক শাসন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয় লাভ করা সত্ত্বেও ইয়াহিয়া সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করে এদেশের মানুষের উপর সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেয়। কিন্তু এ সময় আভাস পাওয়া যায় ইয়াহিয়া পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে খুশি করতে তার ইচ্ছামত লোক দিয়ে একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করবে।
ভারতের পাকিস্তানি মিশনের সদস্য স্বাধীনতার পক্ষে যোগ দিলে পাকী সরকার ঢাকার ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশন বন্ধ করে দেয়, ভারতীয় মিশন কর্মচারীদের নানাভাবে নাজেহাল করে। নির্দেশ দেয়া হয় কর্মচারীদের প্রত্যাহার করে নেয়ার। ভারতের উপর শর্ত আরোপ করে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মচারীদের তাদের হাতে দিতে। এ ব্যাপারে ভারত সম্মত না হওয়াতে ভারতের উপর কূটনেতিক সমস্যার সমাধান না করার দোষ চাপায়।
জানা যায়, রেঙ্গুনে বসবাসকারী কতিপয় পাকিস্তানি এক সভায় মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় দেশের বাইরে পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণা চালানোর।
এদিনে ধামরাই থানায় শান্তি ও কল্যাণ পরিষদের ইউনিট গঠিত হয়। স্বাধীনতাবিরোধীরা মোজাম্মেল হকেকে সভাপতি এবং শমসের আলীকে সেক্রেটারি করে ১০৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় সার্বিকভাবে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে এলাকা থেকে দুষ্কৃতিকারীদের (মুক্তিবাহিনী) উৎখাত করার। সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে আখতার সোলাময়ন এদিনে ঢাকা আসেন। তিনি ঢাকায় আসেন তার বাবার প্রভাব খাটিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে। মূলত, তার এ মিশনের উদ্দেশ্য ছিল দোদুল্যমান আওয়ামী লীগ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলাদা শক্তি গড়ে তোলা।
ফজল কোরেশী চট্টগ্রাম সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলে যে, চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরূপে সোনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জনগণের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা। শহর হয়ে উঠেছে সম্পূর্ণরূপে কর্মচঞ্চল। দুষ্কৃতকারীদের নির্মূলে তারা সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।
‘প্যান মালয়েশিয়া ইসলামিক পার্টি’ জাতিসংঘ সেক্রেটারি উথান্টের কাছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতীয় হস্তক্ষেপের নিন্দা করে স্মারকলিপি দেয়। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ইকোনোমিস্ট ‘তথাকথিত বাংলাদেশ সরকারের’ পাকিস্তানে কোনো অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করে। বাংলাদেশ সরকারকে ভারতীয় দালালরা নিয়ন্ত্রণ করছে।
পূর্ব-পাকিস্তানে সফররত ইতালীয় রাষ্ট্রদূত ফ্রান্স বোনুয়াস এপিপি প্রতিনিধি আফজাল খানকে জানান, খুলনার মিশনারীরা ভালো আছে এবং তারা পাকিস্তানের মঙ্গলের জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।
(তথ্যসূত্র- দৈনিক পাকিস্তান, আজাদ, ধর্মব্যবসায়ীঘাতক জামাতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম: ৫, ৬, ৮ মে, ১৯৭১ ঈসায়ী সাল।)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে