রাজাকার।


ফিরে দেখা ইতিহাস : ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি : ১৮ মে, ১৯৭১ ঈসায়ী
**********************************************************************************************************
 
পূর্বাঞ্চল কামান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী এদিনে পাকী বাহিনীর উন্মত্ততা ও অপারেশন স্বচক্ষে দেখার জন্যে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, পাবনা, বগুড়ার সেনা ইউনিটগুলো পরিদর্শন করে। সে সেনাবাহিনী সদস্যদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে মিলিত হয়ে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। সে সৈনিকদের আরো সতর্কতার সঙ্গে শত্রু (মুক্তিফৌজ) মোকাবেলার নির্দেশ দেয়।
২৫ মার্চের পর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অত্যাচার অব্যাহত ছিল। তাদের অত্যাচারের পরিচয় পাওয়া যায় জনৈক পুলিশের দেয়া বর্ণনা থেকেÑ পুলিশ লাইনে এসেই তারা বুটের লাথি ও বন্দুকের বাট দিয়ে পেটাতে থাকে। চোখ রাঙ্গিয়ে বলতে থাকে, ‘শূয়ারকা বাচ্চা’।
এদিন পাকী সেনাদের একটি দল ভারতেশ্বরী হোমসে আক্রমণ করে। বাংলাদেশের গণহত্যার কুখ্যাত দলের অন্যতম জল্লাদ ক্যাপ্টেন আয়ুবের সাহায্যকারী স্থানীয় জামাতের কুখ্যাত পা-া মালানা অদুদের ছেলে তাকে বলে যে, এদেরকে শায়েস্তা করতে হবে, ইসলামকে বাঁচাতে হলে এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে হবে।
জামাতের সেক্রেটারি চৌধুরী রহমত এলাহী যশোর ও খুলনা সফর করে। তার সাথে মেজর (অবঃ) গোলাম মোস্তফা ছিল। তারা বিভিন্ন এলাকা সফর করে এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রচারণা চালায়। পাকিস্তান রক্ষার জন্যে তারা দালালদের জীবন কুরবান করার আহবান জানায়। এমনকি ওই জামাত নেতা স্থানীয় দালালদের নগদ টাকা দেয়ার আহবান জানিয়ে তাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য প্ররোচিত করে।
এদিন ইয়াহিয়ার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মুজাফফর আহমেদ জাতিসংঘ মহাসচিব উথান্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং পূর্ব-পাকিস্তান পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করে। সে উথান্টকে জানায়, পূর্ব-পাকিস্তানে ভারতীয় হস্তক্ষেপের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সে অনুরোধ জনায়, হস্তক্ষেপ থেকে ভারতকে বিরত করতে। (তথ্যসূত্র- তৎকালীন পত্রপত্রিকা।)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে