রাজাকারের জবানবন্দি (২)


১৯৭১ সালে ইতিহাসের বর্বরতম অধ্যায় রচনা করেছে আল-বাদর রাজাকাররা। ঘাতক রাজাকাররা কত জঘন্য বর্বরতা, নির্মম নির্যাতন, নিষ্ঠুর অত্যাচার, বীভৎস রাহাজানি, হত্যা, সম্ভ্রমহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে তা বর্ণনাতীত। আল-বাদর রাজাকারদের নির্দয় নিপীড়নের কাহিনী যে কোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষকে স্তম্ভিত করে। গা শিহরিত এমনই এক বাস্তব ঘটনা ‘রাজাকারের জবানবন্দি’ শিরোনামে লিপিবদ্ধ করেছেন কানাডা প্রবাসী এম বাহাউদ্দিন। এখানে তা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হল:

পূর্বে প্রকাশের পর…………..

বলেন কী! একজন হাজী, আলিম মানুষ! কি কারণে জেলে? জেলে, না হাজতে?
ঐ একই কথা হল। কি, হয়েছিল কি? ঘটনা বলুন তো!
তিনি যে আরবী পড়াতেন সেখানে কিছু একটা হয়েছে। আপনি বরং তার ছেলে কাসেমের সাথে কথা বলুন। সেই সব সঠিকভাবে বলতে পারবে।
উকিল নিযুক্ত করেছে? নিশ্চয়ই কোথায়ও ভুল হচ্ছে। এমন একজন হাজী, আলিম মানুষ, আল্লাহ পাক-এর কাজে যিনি সর্বদা ব্যস্ত, একটা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা, তিনি খারাপ কিছু করতেই পারেন না! দুনিয়ার সব আলিম এক হয়ে এখন তার প্রতিবাদ করা উচিত। মসজিদের সব মুসুল্লিরা কি বলে? হাজী সাহেবকে বের করে আনার কী ব্যবস্থা হচ্ছে?
এসব আমি কিছুই জানি না। কাসেম সব জানে। আমি আর দাঁড়ালাম না। সোজা কাসেমের বাসায় চলে গেলাম। দরজা নক করতেই কাসেম খুলে দিল। সালাম বিনিময় করে ঘরে গিয়ে বসলাম। সে বলল, আপনি এসেছেন ভালই হল। একজন মানুষ নেই যার সাথে একটু পরামর্শ করব। আমি আজ আপনার বাসায় যেতাম। সবার সাথে তো সব কথা বলা যায় না! আমি এইমাত্র উকিলের কাছ থেকে আসলাম। বোধ হয় শুনেছেন ঘটনা।
না, আমি তো কিছুই জানি না। এইমাত্র আলতাফ সাহেবের কাছে শুনলাম তিনি জেলে। কি কারণে জেলে আলতাফ সাহেব বলতে পারেননি। এখন আমাকে ব্যপারটা খুলে বল তো!
ব্যাপার কিছুই না। একটা বার বছরের মেয়ের অভিযোগে তাকে ধরে নিয়ে গেছে।
মেয়েটা কে?
একটা বাঙালি মেয়ে। তাকে আরবী পড়াতেন। তার বাবা মা অভিযোগ করেছে।
অভিযোগ করলেই হল! ষাটোর্ধ একজন বৃদ্ধ একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে কিছু করেছে একথা কেউ বিশ্বাস করবে? এটা নিশ্চয়ই বানানো কিছু। আমি উকিলের সাথে কথা বলতে চাই। আমি একা গেলে তো কথা বলবে না। তোমার সাথে যেতে হবে। কখন যেতে পারি?
আমি তো কাজে যাই না আজ দু’সপ্তাহ হল। ঝামেলা শেষ করে কবে যে কাজে যোগ দিতে পারব জানি না। আমি যে কোন সময় যেতে পারি। কালও উকিলের কাছে যাব। দু’টার সময়। আপনি গেলে যেতে পারেন।
কাল আমি ছুটি নিব। তোমার সাথে যাব। একজন আলিমের জন্য কাজ করব না তো কার জন্য করব! একজন হাজীর উপকার করতে পারলে কত নেকি পাব তার হিসাব আমার জানা নেই। মনে মনে ভাবলাম যদি এমনিভাবে মানুষের উপকারে লেগে যাই তাহলে বেহেস্তের পথটা পরিষ্কার হয়েও যেতে পারে। কাসেমকে বললাম, আমি ঠিক বারটায় রেডি থাকব। তুমি আমাকে নিয়ে যেও।
আমরা ঠিক সময়ে গিয়ে পৌঁছলাম উকিলের অফিসে। উকিলের নাম…..
কাসেম পরিচয় করিয়ে দিল। বলল, আমার আঙ্কেল জনাব মিসকীন। তোমার সাথে কথা বলতে এসেছে। করমর্দন করে সে আমাকে বসতে বলল। তারপর বলল, বল,  তুমি কি কথা বলতে এসেছ?
কি অভিযোগে এমন একজন পায়াস (ধর্মপরায়ণ) মানুষকে গ্রেফতার করা হল?
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল: সেক্সুয়েল এবিউসমেন্ট, চাইল্ড মলেস্টেশন।
কে করেছে অভিযোগ?
অপেক্ষায় থাকুন, আরো আসছে …………………………….

রাজাকারের জবানবন্দি (১)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+