সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

রাজাকারের জবানবন্দি (৬)


১৯৭১ সালে ইতিহাসের বর্বরতম অধ্যায় রচনা করেছে আল-বাদর রাজাকাররা। ঘাতক রাজাকাররা কত জঘন্য বর্বরতা, নির্মম নির্যাতন, নিষ্ঠুর অত্যাচার, বিভৎস রাহাজানি, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে তা বর্ণনাতীত। আল-বাদর রাজাকারদের নির্দয় নিপীড়নের কাহিনী যে কোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষকে স্তম্ভিত করে। গা শিহরিত এমনই এক ঘটনা ‘রাজাকারের জবানবন্দি’ শিরনামে লিপিবদ্ধ করেছেন কানাডা প্রবাসী এম বাহাউদ্দিন। এখানে তা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হল:

পূর্বের পর……………..

মহিলার দিকে পিস্তল উঠিয়ে আশিক বলল, সোনা-দানা কিদার হ্যায়? সব লও। মহিলা কাঁপতে কাঁপতে রান্নাঘরের দিকে গেল। গুড্ডু পেছনে গেল। মহিলা ফিরে এল একটা বাক্স নিয়ে। আশিকের হাতে তুলে দিয়ে বলল, সব নিয়ে যাও। আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও।
আশিক বলল, ঠিক হ্যায় সবকুচ লেয়গা। গুরগন ইয়ে আদমী আওর ইয়ে লেড়কে কো দোছরা কামরে মে লে যাও আওর অপারেশন খতম করো। আমাদের বলল বাহার যাও। আমরা সবাই পাশের রুমে এলাম। আশিক দরজা বন্ধ করে দিল। মাঝে মাঝে দু’একবার মহিলার কান্না ভেসে এল। পাশের রুমে এসে গুরগন প্রথমে লোকটিকে বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় বারি দিল। লোকটি পড়ে গেল। সাথে সাথে ছেলেটি চিৎকার করে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরতে গেল। গুড্ডু তাকেও একটা বারি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিল। তারপর বেয়নেটের আঘাতে আঘাতে তাদেরকে শেষ করল। শেষ হবার পরও পরীক্ষা করে দেখল আসলে মরেছে কিনা।
আশিক দরজা খুলল। গুরগনকে বলল, আভি তুম যাও। গুরগন ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ দিল। এখন আর কোন কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম না। আর একটা রুমে এখনও আমরা যাইনি। আশিক দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখল। খোলা। ভেতরে ঢুকল। কোন মানুষ নেই। আমরা তন্ন তন্ন করে সোনা-দানা খুঁজতে লাগলাম। বিশেষ কিছুই পাওয়া গেল না। একটা সুটকেস, খুব ভারি মনে হল। আশিক খুলে দেখতে বলল। গুড্ডু বেয়নেট দিয়ে খুলল। কিছু কাপড়-চোপড়, নীচে কিছু দামী বাসন-কোসন। রুম থেকে বের হয়ে আসছি এমন সময় গুড্ডু চিৎকার করে উঠল, ইদার এক আদমী হ্যায়। খাটের নীচে লুকিয়ে আছে লোকটি। খাটের নীচ থেকে টেনে বের করল গুড্ডু। একটি চৌদ্দ পনের বছরের ছেলে। কি রূপ ছেলেটির। এরাই দেশের শত্রু, মুক্তিবাহিনীতে যায়। এদেরকে রাখা যায় না। আশিক তাকে কিছুই জিজ্ঞেস করল না। সোজা গুলী করে দিল।
এসময় গুরগন তার কাজ শেষ করে বের হয়ে এসে গুড্ডুকে যেতে বলল। গুড্ডু গেল। কয়েক মিনিট পর গুড্ডু এসে আমাকে বলল। আমি গিয়ে দেখলাম মহিলা বোধ হয় জিবীত নেই। নাকে হাত দিয়ে দেখলাম। শ্বাস আছে। মরে নাই। আমি ট্রেনিং এ আছি। আমার ট্রেনিং শেষ করতে হবে।
আশিক বলল চল ফিরে যাই। বাঙাল সব খতম করনে হুগা। বাঙাল নেহি রাহেগা তো ভোট দেয়গা কায়সা? সে আরও বলল এই এলাকায় কোন বাঙালি রাখা হবে না। সব শেষ করে দাও। রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম সবাই। একটা ট্রাক হাত তুলে থামাল আশিক। নিয়ে গেল সেই বাড়ীতে। সব দামি জিনিস আর অনেকগুলো সুটকেস ট্রাকে উঠানো হল। সবশেষে সেই মহিলাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে এল ট্রাকে। যার যার বাড়ীর সামনে ট্রাক থামিয়ে যার যার জিনিস তাদের বাড়ীতে নিয়ে গেল। সবশেষে মহিলাকে নিয়ে গেল দশ নম্বরে আর্মি ক্যাম্পে। কমান্ডারকে গিয়ে আশিক বলল, হুযূর আপকে লিয়ে তোফা।
বহুত আচ্ছা! বহুত আচ্ছা! তুম তো বহুত কামকা আদমী হো। তোমারা প্রমোশন মিল যায়েগা। যাও আচ্ছা ছে কাম কারো।
পরে টাকা আর সোনার গহনা সবার মাঝে ভাগ করে দিল আশিক। আমার ভাগে পড়ল দু’হাজার টাকা আর দুটা হাতের বালা। এভাবেই শেষ হল আমার প্রথমদিনের অপারেশন ট্রেনিং।

অপেক্ষায় থাকুন, আরো আসছে …………………………….

রাজাকারের জবানবন্দি (৫)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+