রাজাকার , যুদ্ধাপরাধীরা ধর্মর শত্রু, দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু; দেখুন তাদের কুকর্ম-১


আসসালামুয়ালাইকুম। ব্লগে এ্ই নতুন নিক দেখে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়তে পারেন। এজন্য আমার পরিচয় দিচ্ছি।

আমি কীটনাশক। তবে মশা-মাছি, ছারপোকা… এদের না, যারা দেশ ও জাতীর কলঙ্ক (কীট স্বরুপ), ধর্মের নামে ব্যবসা করে(ধর্মের মধ্যে কীট স্বরুপ) তথা যারা জাহান্নামের কীট; আমি এসব কীটদের নাশক। এদের দুনিয়ায় থাকার কোন অধিকার নেই। কেননা এরা যতদিন পৃথিবীতে থাকবে ততদিন পৃথিবীতে অরাজকতা সৃষ্টি হবে, মানুষ বিভ্রান্ত হবে, তাদের জন্য অনেক মানুষ বিপথগামী হবে; তাই আসুন এদেরকে (কঠোর হস্তে নয়) ঢুয়া মেরে দমন করি।

আজকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব এমন একটি কীটের সাথে যেটি বহুল পরিচিত ও আলোচিত একটি প্রজাতি তথা রাজাকার প্রজাতির সদস্য। তার নাম মালানা ইউসুফ।

পর্ব-১

মালানা ইউসুফ: দেশে প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সামরিক জান্তার সরাসরি মদদে যে খুলনায় প্রথম তথাকথিত শান্তিকমিটি এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল সে আজকের জামাতের অন্যতম কর্ণধার তথা সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা একেএম ইউসুফ। পাকিস্তানের সেবাদাস এই ঘৃণিত বাহিনী দিয়ে সে বৃহত্তর খুলনার (খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা) শহর, বন্দর, গ্রামে লুটতরাজ, হত্যাযজ্ঞ, নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ নানাভাবে নারকীয় তা-ব চালিয়ে এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালায়। এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ যখন পরাধীনতার জিঞ্জির থেকে প্রিয় জন্মভূমির মুক্তি ছিনিয়ে আনার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত তখন পাক বাহিনীকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার জন্য খুলনা শহরের টুটপাড়া কবরখানার পাশে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পে (ভূতের বাড়ি) মাওলানা ইউসুফের নেতৃত্বে শান্তিকমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। জানা যায়, রাজাকার নামকরণটি মাওলানা ইউসুফের এবং যুদ্ধকালে দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম খুলনায় রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়।আনসার ক্যাম্পের ভেতরের পুরনো ভবনটি ছিল খুলনার রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটি। এই ঘাঁটির কাছেই দিলখোলা রোডে মাওলানা ইউসুফের বাড়ি। ওই ক্যাম্পে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রাজাকারদের ট্রেনিং দেয়া হত এবং ট্রেনিং শেষে তাদের সশস্ত্র অবস্থায় পাঠানো হত বৃহত্তর খুলনার বিভিন্ন থানা সদর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। কুপিলমুণিতে হাসপাতালেও রাজাকাররা ঘাঁটি গেড়েছিল। নারীর সম্ভ্রমহরণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, মানুষ ধরে এনে জবাই করে হত্যা প্রভৃতি পবিত্র কর্তব্য (!) এই রাজাকার ক্যাম্প থেকে পরিচালিত হত। রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক সেনারা গল্লামারী, খুলনা শহরের ফরেস্টঘাট, কাস্টমসঘাট, নতুন বাজার এলাকাসহ খুলনার বিভিন্ন স্থানে নরহত্যা চালায়। গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের চরম বিরোধ ও পাক সামরিক জান্তার বিশ্বস্ত সেবাদাস হিসেবে মাওলানা ইউসুফ তার কর্মের (!) স্বীকৃতিস্বরূপ যুদ্ধাকালীন দালাল মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্বও লাভ করে। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনা বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী খুলনায় যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে তা অবর্ণনীয়। সে সময় লুটতরাজ, অগণিত বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া, অগণিত মানুষকে গুলি করে কিংবা পশুর মত জবাই করে হত্যা করা, অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জতহরণসহ বহু নারকীয় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর সব কিছুরই মূলে ছিল মাওলানা ইউসুফ। অভিযোগ রয়েছে, সে নিজে এবং তার রাজাকাররা বহু নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে এবং বহু নারীকে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে বিকৃত উল্লাস করার জন্য।
বি: দ্র: রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরীদের কীটদের প্রোপাগান্ডায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোখানোর জন্য ফান্ড গঠন করছে। মিডিয়া সহ দেশের বাহিরে লবিস্ট , এজেন্ট নিয়োগ করেছে। কিছু মতিভ্রম দেশপ্রেমিক দাবিদাররা ও তাদের ফাঁদে পা দিয়েছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লোক ঢুকিয়েছে। কিন্তু তারপরও বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই, ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। কারন মিথ্যার, অন্যায়ের কোথাও কোন আশ্রয় নেই। সাময়িক একটু কষ্ট করতে হলেও সত্যেরই জয় হয় সব সময়। এবং সত্যের এ জয় মধুর ও চিরঞ্জীব ।

[পরবর্ত ী পর্বের জন্য চোখ রাখুন কীটনাশক-এর উপর]

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+