রাজাকার


ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর
মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
৩০শে এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
আল ইহসান ডেস্ক:
****************************************************************
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খান এ সময় পূর্ব-পাকিস্তানে অবস্থান করছিলো। সে দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করে সেনাবাহিনীর তৎপরতা প্রত্যক্ষ করে। ৩০ এপ্রিল সে যায় উত্তরাঞ্চলে। নাটোর, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, রংপুরে সে সেনাবাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে তাদের নির্দেশ দেয় আরো তৎপর হয়ে কাজ করার। বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল এ রহিম খানও এসেছিলো যুদ্ধের অবস্থা দেখতে। সে এদিন ফিরে যান করাচি।
কেন্দ্রীয় শান্তিকমিটির অধীনে শান্তিকমিটির শাখা বাহিনী গড়ে তোলা হয় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। কেন্দ্রীয় ঘাতক নেতারা তৎপর হয়ে গড়ে তোলে শান্তিকমিটি। এদিন খুলনার দৌলতপুরের দিয়ানায় শান্তিকমিটির সভা হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করে সবুর খান। সবুর খান খুলনাবাসীকে দেশদ্রোহীদের (মুক্তিযোদ্ধাদের) বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানায়। এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাখে সাবেক এমপি এ আবুল হোসেন এবং শান্তিকমিটির নেতা মোহাম্মদ আলী।
প্রতিরোধ তৈরির ডাক দেন কনফেডারেশন অব লেবার পার্টির প্রেসিডেন্ট ডা. এমএ মালিক ও সেক্রেটারি এমএ খতিব। নির্বাচনে জয়লাভ করার পরও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা ছাড়েনি শাসক চক্র। তখন এ ব্যাপারে কোনো দলই কথা বলেনি। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে মুসলিম লীগ প্রধান খান আবদুল কাইয়ুম খান শাসনতন্ত্র প্রণয়নের উপযুক্ত সময় বলে উল্লেখ করে। সে বলেছিল দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নে সমাধান রয়েছে।
ধর্মব্যবসায়ী জামাতের প্রতিটি নেতা কর্মী সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর পাশে থেকে। ঘাতক জামাতের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান আমীর অধ্যাপক ওসমান রমজ বলেছিল, চট্টগ্রামে হিন্দু ও দুষ্কৃতিকারীরা অত্যাচার করছে। সেনাবাহিনী দুষ্কৃতিকারীদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করছে। ৩০ এপ্রিল রংপুরের স্বাধীনতা বিরোধীরা আয়োজন করে মিছিলের। মিছিলের নেতৃত্ব দেয় জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আমিন। দশ দিন আগেও শান্তিকমিটি রংপুরে আরেকটি মিছিল করে।
পাকিস্তানের কোলকাতা মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগ দেয়। অথচ প্রচার করা হয় তাদেরকে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে।
কোনো শান্তিকামী দেশই গণহত্যাকে সমর্থন করতে পারে না। অথচ লিবীয় নেতা কর্নেল গাদ্দাফী এদিন রাজধানী ত্রিপোলীতে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আবদুর রউফ খানকে জানায়, পাকিস্তানের ঐক্য বজায় রাখার জন্যে ইয়াহিয়া সঠিক ব্যবস্থাই নিয়েছে। পাকী শাসকচক্র সবসময় সচেষ্ট থেকেছে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সেন্টো সম্মেলনে পাকিস্তান প্রতিনিধি ইফতেখার আলী মুক্তিযুদ্ধকে ভারতীয় চক্রান্ত বলে উল্লেখ করে। তুরস্কে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বোঝাতে চেষ্টা করে এটা কোনো মুক্তিযুদ্ধ নয়। এতে বাঙালিদের কোনো হাত নেই। ভারতীয় হস্তক্ষেপের কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পাকী সেনাদের নির্মম অত্যাচারে জনগণ এ সময় দিশেহারা। অথচ ধর্মব্যবসায়ী জামাতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকীয়তে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়, মাত্র এক মাসের ভিতর আমাদের ঐতিহ্যবাহী পাকী সেনারা পূর্ব-পাকিস্তানের গোটা ভূখ- নাপাকী হিন্দুস্তানী অনুপ্রবেশকারী ও অনুচরদের হাত থেকে মুক্ত করে এ এলাকার জনতাকে দুঃসহ এক অরাজকতার রাজ্য থেকে মুক্তি দিয়েছে।
সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, যারা পূর্ব-পাকিস্তানকে বাংলাদেশ করেছিল, জিন্নাহ হলকে সূর্যসেন হল করেছিল, রবীন্দ্রনাথকে জাতীয় কবি করেছিল, আর সেই ঠাকুরেরই ‘আমার সোনার বাংলা’ জাতীয় সঙ্গীত করেছিল তারা পাকিস্তানি হবার যোগ্যতা হারিয়েছে।
(তথ্যসূত্রÑ ৩০ এপ্রিল: সংগ্রাম, দৈনিক পাকিস্তান; ১, ২, মে: দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ আজাদ, ১৯৭১ ঈসায়ী।)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে