রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-২


(২). মুবারক পূর্বপূরুষ উনাদের পরিচিতি:

আমাদের এ অঞ্চলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আসেননি। এসেছেন হযরত ওরাছাতুল আম্বিয়াগণ অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণ উনারা। উনারাই এ অঞ্চল যথা: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার করেছেন, পথহারা মানুষদেরকে ঈমান দান করেছেন। এমনি এক মহান ওলীআল্লাহ ছিলেন খাজা গরীবে নাওয়াজ হযরত মুঈনুদ্দীন চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি; যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাইবিয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ভাতবর্ষের আজমীর শরীফে হেদায়েতের বার্তা নিয়ে আগমন করেন। তিনি সমরখন্দ, লাহোর, মুলতান হয়ে দিল্লী পৌঁছেন। পরবর্তীতে দিল্লী থেকে আজমীর শরীফ পৌঁছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার শুরু করেন। কিছু সঙ্গী-সাথী ছাড়া কোনো সৈন্য-সামন্ত উনার ছিল না। আজমীর শরীফের যালিম হিন্দু শাসক পৃথ্বীরাজ চৌহান কিছুতেই গরীবে নাওয়াজ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সহ্য করতে পারলো না। হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পৃথ্বীরাজের প্রধান যাদুকর ও বিশাল সৈন্য বাহিনী তুলার মতো উড়ে গেল। পরবর্তীতে পৃথ্বীরাজ নিজে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে হযরত শিহাবউদ্দিন মুহম্মদ ঘোরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে প্রাণ দেয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাম্য ও মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রায় ১ কোটি বিধর্মী হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে দীক্ষিত হয় মহান আল্লাহ পাক উনার এই মহান ওলীআল্লাহ বেশ কিছু সঙ্গী-সাথী ও অনুসারীদের নিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য ভারতবর্ষে এসেছিলেন। উনার সঙ্গীদের মধ্যে উনার এক অন্তরঙ্গ সঙ্গী ছিলেন ঐ যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবু বকর মুজাদ্দিদি রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি আজমীর শরীফে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে অবস্থান করেন এবং সেখানে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আজমীর শরীফে উনার মাজার শরীফ রয়েছে। উনারই অধস্তন বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ১১ হিজরী শতকের শেষার্ধে হিদায়াতের মহান ব্রত নিয়ে চট্টগ্রাম আসেন।

পাঠক, নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, সে কালে প্রধানতঃ পানিপথেই হিদায়াতের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বাংলাদেশে আসতেন। এজন্য চট্টগ্রামকে আজো ওলীআল্লাহগণের আগমনের কেন্দ্রবিন্দু (বা প্রধান পথ) মানা হয়ে থাকে। এই চট্টগ্রাম থেকেই উনারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তেন। আজ বাংলাদেশের সব অঞ্চলে মুক্তার মতো ছড়িয়ে আছেন বহু ওলী-আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র রওযা মুবারক। এই ধারাবাহিকতায় হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা চট্টগ্রাম পৌঁছেন। কিছুদিন চট্টগ্রাম অবস্থানের পর উনারা দুই ভাই হিদায়াতের উদ্দেশ্যে উভয়ই না’গঞ্জের (নূরানীগঞ্জ) সোনারগাঁও আসেন। এই সোনারগাঁয়ে অসংখ্য হযরত ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এসেছিলেন; এর নিদর্শন এলাকায় ভুরিভুরি পাওয়া যায়। হযরত সাইয়্যিদ সালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই সোনারগাঁও এলাকায় হিদায়াতের কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সেখানেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

আর হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সোনারগাঁওয়ে কিছু দিন অবস্থান করার পর সোনারগাঁওয়ের অদূরে যে স্থানে উনার হিদায়াতের কেন্দ্র গড়ে তুললেন তার বর্তমান নাম “প্রভাকরদী”। এই প্রভাকরদীতে রয়েছে একটি মাজার শরীফ কমúেøক্স, যেখানে রয়েছেন বর্তমান যামানার মহান মুজাদ্দিদ, ইমামুল উমাম, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষগণ উনারা। এই ‘সাইয়্যিদ বাড়ি’তে আজো রয়েছে সুমহান ঐতিহ্য ও ইযযত মুবারকের ছাপ।

এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন; তা হলো- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সকলেই সম্ভ্রান্ত পূর্বপুরুষগণ উনাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে তাশরীফ এনেছেন। এর সামান্য ব্যতিক্রম কেউ খুঁজে পাবে না।

হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ এলাহি বখ্স রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার সম্মানিত বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওয়ালী বখ্স রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার সম্মানিত বুযুর্গ আওলাদ হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

কুতুবুয যামান, আরিফ বিল্লাহ, লিছানুল হক, ফখরুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৩২৫ হিজরী (১৯০৮ ঈসায়ী) সালে ‘সাইয়্যিদ বাড়ি’র পুণ্যভূমিতে তাশরীফ আনেন। পিতা-মাতা উভয়ে ছিলেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। সিলসিলা পরম্পরায় তিনি ছিলেন পিতা-মাতার দিক থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং উনি ছিলেন আওলাদে রসূল।

এই মহান ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন আমাদের প্রাণাধিক প্রিয়, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলী, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল মুজাদ্দিদে যামান, ইমামুল উমাম, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। উনার বুযুর্গ পূর্বপুরুষগণ উনাদের সম্পর্কে সামান্যই উল্লেখ করা হলো। প্রভাকরদী সাইয়্যিদ বাড়ির মুবারক মাজার শরীফ কমপ্লেক্স উনার নামফলকে সম্মানিত পূর্বপুরুষগণ উনাদের নাম মুবারকসমূহ উল্লেখ রয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে