রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি-১


(১)রাজারবাগ শরীফ উনার সিলসিলা:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন- “আমার উম্মত আমার শিক্ষাকে ৭৩টি দলে বিভক্ত করবে, তবে তার মাঝে একটি দল হবে হক।” সেই সঠিক আক্বীদাবিশিষ্ট দলকে পরবর্তীতে বলা হয়েছে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো অনেকেই নিজেদের সেই দলের সদস্য দাবি করছে কিন্তু তাদের আক্বঈদ, আমল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত থেকে ভিন্ন, যেমন ওহাবী ও সলাফী সম্প্রদায়। চার মাযহাবের অনুসারীগণই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। তারপরেও একই মাযহাবের অনুসারীগণের মধ্যে আবার ইলমে তাসাউফ, ইলমে আখলাক বা ইলমে বাতেন হাছিলের জন্য বিভিন্ন ধারা, তরীক্বা বা সিলসিলা পাওয়া যায়। ‘সিলসিলা’ একটি আরবী শব্দ; যার অর্থ- চেইন বা সংযোগের ধারাবাহিকতা। এটা আধ্যাত্মিক বংশতালিকাও বটে, যেখানে একজন কামিল মুর্শিদ বা শায়েখ উনার উত্তরপুরুষদের মধ্যে খিলাফতের ভার ন্যাস্ত করে যান। ‘সিলসিলা’ হচ্ছে কামিল মুর্শিদ বা শায়েখগণের একটি পর্যায়ক্রমিক ধারা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা গারীব নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা আহলে সুন্নাত জামাতের আক্বীদাভুক্ত হবার পরেও মাযহাবের দিক থেকে এবং তাসাউফ শিক্ষার সিলসিলার দিক থেকে ভিন্ন। আর সে কারণে অনেক সময় তাসাউফ শিক্ষার পর্যায়ক্রমিক ধারাই ‘সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর হয়ে থাকে।
কখনো কখনো কোনো সিলসিলার মধ্যে আগত কোনো বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ উনার নাম অনুসারে বা উনার অবস্থানস্থল অনুসারে সেই সিলসিলা ভিন্ন নামে মানুষের মাঝে পরিচিত হয়ে থাকে। কিন্তু নাম যাই হোক না কেন, সেই সিলসিলা মূলের দিক থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাভুক্ত এবং তসাউফের একটি নির্দিষ্ট ধারার সঙ্গে অবশ্যই সম্পৃক্ত থাকবে।
গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি উনার তরীক্বা বা সিলসিলা উনার সম্মানিত নাম মুবারক অনুসারে ‘কাদেরিয়া তরীক্বা’ বা ‘কাদেরিয়া সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর। আবার হযরত মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি উনার তরীক্বা প্রথম দিকে কেবল ‘মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা’ হিসেবেও থাকলেও পরে নকশবন্দিয়া তরীক্বা মিলিত হবার কারণে নাম হয় ‘নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া’। আবার চিশত নামক স্থান থেকে ‘চিশতিয়া তরীক্বা’ নামের উদ্ভব হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। হযরত বাহাউদ্দিন নকশবান্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তরীক্বা ‘নকশবন্দিয়া তরীক্বা’ হিসেবে মশহর। এই ‘নকশবান্দ’ নাম মুবারক মশহুর হবার পেছনে দুটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়- ১. তিনি উনার সম্মানিত পিতাকে নকশাদার চাদর বুনতে সাহায্য করতেন। ২. তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করার মাধ্যমে উনার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার নকশা অঙ্কিত করেছিলেন।
আবার ত্রয়োদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চার তরীক্বার তালিম দেয়ার কারণে অনেক স্থানে এসে এই সিলসিলার নাম পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন ১৪ শতকের বিশিষ্ট মুজাদ্দিদ তিনি ভারতের ফুরফুরা শরীফে অবস্থান করার কারণে সিলসিলার নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘ফুরফুরা সিলসিলা’ হিসেবে মশহুর হয়ে যায়। তাহলে আমরা দেখতে পেলাম ওলীআল্লাহগণের নাম থেকে, এলাকার নাম থেকে, রুপক অর্থে বিভিন্নভাবে সিলসিলার নাম মশহুর হয়ে থাকে। একইভাবে ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি রাজারবাগ শরীফে অবস্থান কারণে মানুষরা এই সম্মানিত সিলসিলাকে রাজারবাগ সিলসিলা হিসেবে চেনে থাকেন। (চলবে ইনশাআল্লাহ্‌)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে