রাজারবাগ শরীফ-এর সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে ‘শাহযাদা ক্বিবলা’ বলার তাৎপর্য


‘শাহযাদাহ’ এটি মূল নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। বরং ছিফত বা গুণবাচক নাম বা উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেক সময় ব্যক্তির মর্যাদার কারণে উনার মূল নাম বা ডাক নাম নিয়ে সম্বোধন না করে উনার বিশেষ কোনো লক্বব বা উপাধি দ্বারা সম্বোধন করা হয়। এ সম্বোধন প্রকৃতপক্ষে খাছ সুন্নতেরই অন্তর্ভুক্ত।
যেমন কুল-মাখলুকাতের যিনি নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মূল নাম মুবারক ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ‘আহমদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ডাক নাম মুবারক ‘আবুল ক্বাসিম’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থাকার পরও এ নাম মুবারকসমূহ ধরে উনাকে সম্বোধন করা আদবের খিলাফ, সুন্নতের খিলাফ, এমনকি শরীয়তেরও খিলাফ। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا.
অর্থ: “তোমরা একে অপরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, সেভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করো না।” (সূরা নূর: আয়াত শরীফ ৬৩)
অর্থাৎ সাধারণ মানুষ পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকে, নাম নিয়ে কথা বলে থাকে সেভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করা বা বলা যাবে না। যেমন ‘يا محمد صلى الله عليه وسلم’ অর্থাৎ ‘হে মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অথবা
قال محمد صلى الله عليه وسلم
অর্থাৎ ‘মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন।’
বরং সম্বোধনের ক্ষেত্রে বলতে হবে-
يا رسول الله صلى الله عليه وسلم
يا نبى الله صلى الله عليه وسلم
يا حبيب الله صلى الله عليه وسلم
অর্থাৎ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,
এবং বলার ক্ষেত্রে বলতে হবে-
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
قال النبى الله صلى الله عليه وسلم
এভাবে বলতে হবে।
তদ্রƒপ রাজারবাগ শরীফ-এর সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মূল নাম মুবারক এবং ডাক নাম মুবারক থাকার পরও আদব ও সুন্নতের কারণে শাহযাদাহ ক্বিবলা উপাধি মুবারক দিয়ে সম্বোধন করা ও ব্যবহার করা হয়। এই সুন্নত ও আদবের প্রচলন যেমন অতীতে ছিলো, যেরূপ বর্তমানে রয়েছে, তদ্রƒপ ভবিষ্যতেও থাকবে।
হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম। যিনি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের চতুর্থ ইমাম। উনার মূল নাম মুবারক হযরত আলী আওসাত আলাইহিস সালাম। কিন্তু তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন উনার বিশেষ উপাধি মুবারক ‘যাইনুল আবিদীন’ দ্বারা।
হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম। উনার মূল নাম হযরত আবু হানীফা নু’মান বিন ছাবিত। কিন্তু ইমাম আ’যম বলা হলে সকলের কাছে উনার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠে।
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ‘মুজাদ্দিদে আলফে ছানী’ এ উপাধি মুবারকেই পরিচিতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। আসলে উনার মূল নাম হচ্ছে হযরত শায়খ আহমদ ফারূক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি। একইভাবে মুজাদ্দিদ আ’যম আলাইহিস সালাম বললে সকলেই বুঝে ফেলেন যে, তিনি হচ্ছেন বর্তমান পঞ্চদশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপভাবে রাজারবাগ শরীফ-এর সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিষয়টি আলোচিত হলে সকলেই জেনে যান যে, তিনি অন্য কেউই নন, তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার একমাত্র শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে