রামমোহন সংস্কারবাদীর আড়ালে ছিলো মুসলিমবিদ্বেষী কাট্টা গুমরাহ


বৃটিশ দালাল রামমোহনকে অনেক কথিত মুসলমান অনেক উদার, মহৎ, সংস্কারপন্থী মনে করে তার সম্পর্কে উচ্চ ধারনা পোষন করে। বিশেষ করে সতীদাহ প্রথা নিয়ে অনেক মুসলমান তাকে প্রশংসার বন্যায় ভাষিয়ে দেয়। নাউজুবিল্লাহ! অথচ ঐতিহাসিকভাবে প্রমানিত সত্য যে রামমোহন নয়, সতীদাহ প্রথা নির্মূলীকরণে মুসলিমরাই অর্থাৎ বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রথম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করেছিলেন।
এই রামমোহন ছিল ব্রিটিশদের বেতনভূক্ত কর্মচারী এবং ইংরেজদের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। তার শেষ জীবন ইংল্যান্ডে কাটে এবং সেখানেই সে মারা যায়। সে বৃটিশদের আস্থাভাজন থাকার কারনে তার মুর্তি আজো বৃটেনে বিদ্যমান।
হিন্দুদের মুসলিম ও খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তকরণ ঠেকানোর পাল্টা প্রতিক্রিয়াও ছিল সতিদাহ প্রথার বিরুদ্ধে রামমোহনের বলার একটি কারণ।
তার হিন্দুত্ববাদ, মুসলিমবিদ্বেষিতা এবং বৃটিশ দালালীর সুস্পষ্ট দলিল ফুটে উঠেছে প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম মনজুর লিখিত ‘শতবর্ষ পরে ফিরে দেখা ইতিহাস বঙ্গভঙ্গ ও মুসলিম লীগ’ বইয়ে। যেখানে রামমোহন সম্পর্কে লিখা রয়েছে-
আপাতদৃষ্টিতে বৃটিশ আমলে রামমোহনের প্রবর্তিত হিন্দু ধর্ম সংস্কার আন্দোলনটি গতিশীল মনে হলেও এর মধ্যেই হিন্দু পুনর্জাগরনের বীজ নিহিত ছিলো। একদিকে হিন্দু ধর্মের ভেতরের অনাচার, ব্যভিচার ও বিশৃংখলা, অন্যদিকে বহিরাগত খৃষ্টধর্ম প্রচারকদের হিন্দু ধর্মের কুৎসা রটনা তাকে বিচলিত করেছিল এবং ব্রাক্ষ্মধর্মের মধ্যে সে হিন্দুধর্মের প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটনে এবং সংস্কার সাধনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।
বৃটিশ সরকারের কাছে বিখ্যাত আবেদনে সে বলেছিলো “কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিম শাসনাধীনে ভারতের মূল অধিবাসীদের পৌর ও ধর্মীয় অধিকার পদদলিত হয়েছে। এখন ভগবৎ কৃপায় সেই অত্যাচারীদের শাসনের জোয়াল উৎপাটিত হয়েছে, কাজেই প্রত্যাশা করা যায়। মূল অধিবাসীরা এখন অধিকার ফেরত পাবে”। এখানে মূল অধিবাসী বলতে রামমোহন হিন্দু সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছে।
ইতিহাসের নিরিখে এটাই প্রমানিত যে রামমোহন কোন উদার কিংবা সংস্কারবাদী ছিলোনা। সে যা করেছে তা তার হিন্দুত্ববাদ এবং হিন্দু ধর্ম রক্ষার স্বার্থেই করেছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে