রাস্তার মোড়ে মোড়ে মূর্তি তৈরি করাতো পূজারীদের অপসংস্কৃতি, যা দ্বীন ইসলামপূর্ব আইয়্যামে জাহিলিয়াতের কু-আদর্শের প্রতিচ্ছবি


রাস্তার মোড়ে মোড়ে মূর্তি তৈরি করাতো পূজারীদের অপসংস্কৃতি, যা দ্বীন ইসলামপূর্ব আইয়্যামে জাহিলিয়াতের কু-আদর্শের প্রতিচ্ছবি

এখনও মুসলমানরা বুঝতে পারছে না মূর্তির ক্ষতিটা কোনদিকে মোড় নিতে পারে। আসলে ঈমানী জজবায় ঘুমিয়ে পড়া বিভ্রান্ত মুসলমানরা উপলদ্ধি করতে ব্যর্থ যে, অতি দ্রুতই এই মূর্তি এক অসুস্থ প্রতিযোগীতার সুত্রপাত করাবে। কে কত বড় আর কে কত চটকদার মূর্তি তৈরী করে সরকারে প্রিয়ভাজন হতে পারে তা নিয়ে শুরু হবে র‌্যাট রেইস। সামরিক, বেসামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই অসুস্থ প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হবে। আর এভাবে চলতে দিলে, সেদিন বেশীদূরে নয় যখন সারা দেশ মূর্তিতে ভরে যাবে, যে ভাবে সাদ্দামের মূর্তি সমস্ত ইরাক জুড়ে স্থাপিত হয়েছিল।
আর সাদ্দামের ওইসকল মূর্তিপুজার কারণেই ইরাকীদের উপর খোদায়ী গজব হিসাবে নাযিল হয়েছিল ইহুদী চক্রান্তে খ্রিস্টান ও নাস্তিকদের সেনাবাহিনী দ্বারা। বাগদাদ শহর আরও একবার গজবে পতিত হয়েছিল ১২৫৮ সালে মঙ্গোলিয় সেনাপ্রধান হালাকু খান এর সেনাবাহিনী দ্বারা। যখন বাগদাদ জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশে^র নেতৃত্ব দিচ্ছিলো তবে আমীর ওমরাহগণ ডুবেছিলো আরাম আয়েশ ও দুনিয়াবী ফূর্তিতে। হালাকু খান যখন প্রাচীর ঘেরা বাগদাদ শহরের প্রবেশদ্বার দিয়ে তার সেনাবাহিনী নিয়ে প্রবেশ করছিলো তখন খলিফা মুনতাসিম ব্যস্ত ছিলো মিশর থেকে উপহার হিসাবে আগত বেশ কিছু সুশ্রী বালক ও নারী নর্তকীদের সৌন্দর্য ও নৃত্যের দক্ষতা যাচাই বাছাইয়ে। হালাকু খান শুধু মাত্র লক্ষ লক্ষ মুসলানদের শহীদ করেনি, তাদের কর্তিত মস্তক দিয়ে বাগদাদ শহরের বিভিন্ন স্থানে উঁচু উঁচু পিরামিড তৈরী করেছিল। বাগদাদ শহর হালাকু খানের সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল।
একই পরিস্থিতি হয়েছিল গ্রানাডার মুসলমানদের জন্য ১৪৯২ সালে যখন বুআবদীল গ্রানাডার আমীর। রানী ইসাবেলা ও রাজা ফারডিনান্ড এক সামরিক চুক্তির মাধ্যমে বিনা যুদ্ধে গ্রানাডাতে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের উপর রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়া হয়। দীর্ঘ ৭০০ বৎসর মুসলমান কর্তৃক শাসিত স্পেন বেদখল হওয়ার মাত্র ৩ বৎসরের মধ্যে একজন মুসলমানও সেই দেশে অবশিষ্ট ছিলনা। পবিত্র হাদীছ শরীফে পরিষ্কার উল্লেখ আছে- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বয়িাল্লাহু তায়ালা আনহু তনিি র্বণনা করনে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তনিি ইরশাদ মুবারক করনে, ‘পাঁচটি বস্তু পাঁচটি বস্তুর কারণে হয়ে থাক।ে তন্মধ্যে প্রথমটি হচ্ছ-ে কোন মুসলমান সম্প্রদায় চুক্তি ভঙ্গ করলে তথা নাফরমানীতে জড়য়িে পড়লে মহান আল্লাহ পাক তাদরে ওপর তাদরে শত্রুকে বজিয়ী করে দনে। (মু’জামুল কবীর লিত তবারানী ৯ম খ- ২৫৭ পৃষ্ঠা, সুনানে দায়লামি ও কুরতুব)ি।
বসনিয়ার মুসলমানদের উপর ১৯৯২ সালে গজব নাজিল হওয়ার পূর্বে পবিত্র দ্বীন ইসলাম নিয়ে তারা চরম বিভ্রন্তিতে উপনিত হয়েছিল। তারা নিজেদেরকে একজন মুসলমান ধারণা করার চেয়ে একজন ইউরোপিয়ান হিসাবে বেশী গর্ববোধ করতো। পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান নাছারারা ইহুদীদের বুদ্ধি পরামর্শে বসনিয়ান মুসলমানদের উপর গজব হিসাবে নাজিল হয়। অগনিত মুসলমান শহীদ এবং লক্ষ লক্ষ মুসলমান মা-বোনদের সম্ভ্রমহানী করা হয়। এখন তারা বুঝতে পেরেছে যে, সম্মানের সাথে দুনিয়াতে বাঁচতে হলে মুসলমান হিসাবেই বাঁচতে হবে, ইউরোপিয়ান হিসাবে নয়।
এবার আসুন, আমাদের দেশের অবস্থা কি, তা যাচাই করা যাক। বর্তমানে দেশের তথাকথিত মুসলমানদের চিন্তা-চেতনা এবং মন-মানসিকতা গজবপূর্ব বসনিয়ান মুসলমানদের চেয়ে কোন অংশেই পরিশুদ্ধ নয়। এ দেশের ক্ষমতাসীন দলের একজন মুসলমান সদস্য নিজেকে একজন মুসলমান কিংবা বাংলাদেশী হিসাবে যত না গর্ববোধ করে তার চেয়ে ঢের বেশী গর্ববোধ করে একজন আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য হিসাবে। এ হচ্ছে মানসিক অসুস্থ অবস্থা। অপরদিকে অতিশীঘ্রই চালু হচ্ছে মূর্তি তৈরীর প্রতিযোগিতা। খোদায়ী গজব এদেশের মুসলমানদের কত সন্নিকটে তা যাচাই বাছাই এর সময় এসেছে। গাজওয়ায়ে হিন্দ শুরুর প্রাক্কালে উপমহাদেশের মুসলমানদের উপর যে ব্যাপক হত্যা ও নিধন চালু হবে, আমরা যেনো তারই পরিবেশ তৈরী ও মাঠ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
যদি প্রশ্ন করা হয়, কোথা থেকে এসব মূর্তি তৈরী করার টাকা আসছে? সরকারী টাকা মানেই ৯৮% মুসলমানদের রাজস্বের টাকা। কে তাদেরকে অনুমতি দিলো মুর্তি তৈরীতে মুসলমানদের টাকা খরচ করতে? যেখানে পাশর্^বর্তী দেশে গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে মুসলমানদেরকে স্বপরিবারে পিটিয়ে শহীদ করা হয় সেখানে আমাদের দেশে চালু করা হচ্ছে মূর্তি তৈরীর প্রতিযোগীতা। হায়রে বাংলাদেশী মুসলমান, তোমরা মুসলমান না বোবা শয়তান? মূর্তি ধ্বংস করতে যে দ্বীন ইসলাম পৃথিবীতে এসেছেন, সে মুসলমানদের দেশেই হারাম মূর্তি তৈরী করা হচ্ছে। এদেশের মুসলমানরা পতনের শেষ সীমায় পৌঁছেছে। এ দেশে কি প্রতিবাদ করার কেউ নেই? একজন মুসলমানও নেই?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে