যারা বলে বাইনোকুলার, টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য, তারা শরীয়ত সম্পর্কে নেহায়েতই অজ্ঞ।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, কোনো মু’মিন ও মু’মিনাগণের জন্য জায়িয হবে না যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যে ফায়ছালা দিয়েছেন তার বিপরীত মত পেশ করে। যে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফরমানী করে সে প্রকাশ্য গুমরাহে গুমরাহ। কাজেই, যে বিষয়ে কুরআন শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফ-এর স্পষ্ট দলীল রয়েছে সে ব্যাপারে মনগড়া ফতওয়া দেয়া সম্পূর্ণ হারাম ও কাট্টা কুফরী। সুতরাং, সউদী আরব তাদের মতানুসারী দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানী এবং তথাকথিত মুফতীদের নিয়ে কোনো ফতওয়া দিলেই ইসলামে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। স্মরণীয় খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস গণনা করা শরীয়তের নির্দেশ। যারা বলে বাইনোকুলার, টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য, তারা শরীয়ত সম্পর্কে নেহায়েতই অজ্ঞ এবং সহীহ সমঝের অভাবে বিভ্রান্ত। অতএব, যারা শরীয়ত পরিবর্তন করতে চায় তারা শরীয়তের বিষয়ে ধৃষ্টতা প্রদর্শনের অপরাধে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত।

সউদী ওহাবী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ-এর ইসলামিক ফিকা একাডেমী বিগত ১৯শে রবীউল আউয়াল শরীফ থেকে ২১শে রবীউল আউয়াল শরীফ, ১৪৩৩ হিজরী সনে পবিত্র মক্কা শরীফ-এ বিভিন্ন দেশের কথিত মুফতী এবং মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। আরবী মাস শুরু এবং শেষ করা নিয়ে তারা ১১টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের প্রথম সিদ্ধান্তেই উল্লেখ করা হয়, “মাস শুরু এবং শেষ করার বিষয় হচ্ছে চাঁদ দেখা, হয় তা খালি চোখে (কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়া) অথবা কোনো কিছুর সাহায্যে যেমন, মহাকাশ বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতির সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা।”

শরীয়তের কোথাও কোনো দলীল নেই যে, খালি চোখ ছাড়া অন্য কিছুর সাহায্যে চাঁদ দৃশ্যমান হলে তা আরবী মাস শুরু বা শেষ করার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে। এটা তাদের সম্পূর্ণ মনগড়া ফতওয়া, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা এবং ফতওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত।

এই মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ ৩২ বছর পূর্বে ১৪০১ হিজরী সনে, এর চতুর্থ সম্মেলনে মুফতীগণ ফতওয়া দিয়েছিলেন যে, নিজ নিজ অঞ্চলে খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করতে হবে। এছাড়াও সউদী আরবের গ্রান্ড মুফতী খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করার পক্ষে ফতওয়া দিয়েছিলো। তবে এখন তারা কেন নতুন করে হাদীছ শরীফ-এর বিপরীত এবং সাথে সাথে তাদের পূর্বের মুফতীদের দেয়া ফতওয়ার বিপরীত ফতওয়া দিচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত ফিকিরের। অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে মুসলমানগণের আমল ও আক্বীদা নষ্টের জন্য এটি একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র- এছাড়া আর কিছুই নয়। বিশ্বের মুসলমানগণের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকা ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+