রুহ আফজা বলে আসলে আমরা কি খাচ্ছি?


সারা বছরের তেমন খোঁজ না থাকলেও রমাদ্বান শরীফ শুরু হলেই নানা আয়োজনে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করে রূহ আফজা।
রুহ আফজা হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের একটি বহুল ব্যবহৃত পানীয়। হামদর্দ এর প্রতিষ্ঠাতা হাকীম আব্দুল মজিদ ১৯০৭ সালে এই ফর্মুলেশনটি তৈরি করেন। তবে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত এই পানীয়টিতে কি পরিমাণ প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যে রংটি ব্যবহার করা হয় তা ফুড কোড মেনে হয় কিনা- এ ব্যাপারে কিছুই জানা নেই বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সিটিটিউশন)।
তাছাড়া টকটকে যে লাল বর্ণ দেখা যায় এটি ফলের রসের কি না তাও জানে না বিএসটিআই। এবং সর্বশেষ কবে রূহ আফজা’র মান পরীক্ষা করা হয়েছিল তাও সঠিকভাবে বলতে পারছে না বিএসটিআই’র মান ভবন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (মান ভবন) বিএসটিআই এর ফিল্ড অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, “রূহ আফজায় প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় এটি শতভাগ সত্য। তবে কি পরিমাণ ব্যবহার করা হয় তা আমাদের অজানা। কারণ তারা এই ব্যাপারে আমাদের কাছে আসে না।”
তিনি আরো বলেন, “রূহ আফজায় কী রং ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও আমাদের জানা নেই। কারণ এ ব্যাপারে তারা আমাদের কাছে আসেনি। তারা জানে এটি খেলে মানুষের সামান্য সমস্যা হলেও হয়ত মানুষ মরবে না।”
রোজাদার ব্যক্তিরা অনেক আগ্রহ নিয়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেন। বাংলাদেশে এই পানীয়ের তালিকায় অন্যতম হচ্ছে রূহ আফজা। হামদর্দের প্রচারণায় এমনও বলা হয় যে রূহ আফজা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত পানীয়।
এর উৎপাদন সম্পর্কিত বিষয়টি অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাটে অবস্থিত হামদর্দ ল্যাবরেটরিজে (ওয়াকফ) সরেজমিনে যাওয়া হয়। এখানেই তৈরি হয় দেশ ও ‘বিশ্বখ্যাত’ পানীয় রুহ আফজা। কিন্তু সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়া হয়।
এরপর রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের সহকারী পরিচালক জাফর সাদিকের কাছে জানতে চাই, রূহ আফজায় কি পরিমাণ প্রিজারভেটিভ মেশানো হয় আর এতে ব্যবহার করা রংটি কি ধরনের?
রংটি স্বাস্থ্য সম্মত কি না এই ব্যাপারেও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই ব্যাপারে কারোর সাথে আমাদের কথা বলা নিষেধ আছে।”
মেঘনা ঘাটে তাদের কারখানায় যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলি। সেখান থেকে এখানে খোঁজ নিতে আসার কথা বলা হয়েছে জানালে তিনি বলেন, “ওখানে যাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের কোনো কিছু জানার দরকার হলে প্রশ্ন লিখে দিয়ে যান। পরে আপনার উত্তর করে পাঠিয়ে দেয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রূহ আফজার ব্যাপারে আমাদের ওপর থেকে নিষেধ আছে যে কারোর সাথে কথা বলা যাবে না। আমাদের এই কথা বলে চাকরি দেয়া হয়েছে।”
রূহ আফজায় কী পরিমাণে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় এবং যে রং ব্যবহার করা হয় সেটি স্বাস্থ্যসম্মত কিনা প্রশ্ন করলে ভিন্ন কথা বলেন হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের ডেপুটি মার্কেটিং ডিরেক্টর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “যে খাদ্যে ৬০ ভাগ চিনি থাকে সেখানে প্রিজারভেটিভের দরকার পড়েনা।”
অর্থা রুহ আফজার বোতলের ভেতরে যা থাকে তার ৬০% হচ্ছে চিনি।
তিনি আরো বলেন, “প্রিজারভেটিভের কাজ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা। চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না।”
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেমন, মিষ্টির দোকানে কোনো প্রিজারভোটভ লাগে না।”
রং এর ব্যাপারে বলেন, “আর্ন্তজাতিক মানের ফুড ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক (এফডিসি) রং ব্যবহার করা হয়।”
রূহ আফজার বোতলের লেবেল থেকে জানা যায়, রুহ আফজায় থাকার কথা ২৬ প্রকারের উপাদান। যেমন, কেওড়া পাতনলব্ধ নির্যাস ০.১৭ মিলি, লেবুর পাতনলব্ধ নির্যাস ০.০৪ মিলি, গোলাপের পাতনলব্ধ নির্যস ০.০৩ মিলি, ধনিয়া ০.২২৫ মিলি, গাজর ০.২২৫ মিলি, নুনে শাক ০.২২৫ মিলি, তরমুজ ০.২২৫ মিলি, পালং শাক ০.২২৫ মিলি, পুদিনা ০.২২৫ মিলি, ধুন্দল ০.২২৫ মিলি, কাসনী ০.২২৫ মিলি, খসখস ০.২৫৫ মিলি, শাপলা ০.২২৫ মিলি, গাওজবান ০.২২৫ মিলি, কমলা লেবুর রস ০.১০ মিলি, আনারসের রস ০.৩৫ মিলি। এই ১৬টি উপাদানের উল্লেখিত পরিমাণ মোতাবেক ওজন ৩.১৬৫ মিলি।
শুধু এসব উপাদানই নয়, এর সাথে আরো থাকার কথা সাদা চন্দন, নাসপাতি, আঙ্গুর, ডালিম, মাল্টা, আপেল, ছড়িলা, পাথরের পাতা ইত্যাদি। আর উপরের সবগুলো উপাদান ঠিকঠাকমত মিশিয়ে রুহ আফজা তৈরি হয়ে থাকলে তা সাধারণ্যে বিশেষ করে গণমাধ্যমকে দেখাতে এত আপত্তি কেন তাদের? কেন নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ঘাটে যেখানে রূহ আফজা তৈরি হয় সেখানে কেন এত রাখ-ঢাক ভাব?

Views All Time
5
Views Today
32
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৫টি মন্তব্য

  1. রংটি স্বাস্থ্য সম্মত কি না এই ব্যাপারেও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই ব্যাপারে কারোর সাথে আমাদের কথা বলা নিষেধ আছে।”

    কারন:
    থলের ভিতর বিড়াল আছে।

  2. AroshArosh says:

    কিযে আছে আল্লাহ পাক ই ভাল জানেন।এরা তো বলবেনা।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে