রে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড


সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার সম্মানিত ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড-।
তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যে কোন ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম।
মুফতী মুহম্মদ আসাদুদ্দীন
১৩ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৩৯
ফক্বীহুল মাগরিব, শাইখুল মালিকিয়্যাহ হযরত ইমাম আবূ ‘আব্দিল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আব্দিস সালাম ইবনে সাহনূন ইবনে সা‘ঈদ আত তানূখী আল ক্বইরাওয়ানী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ: ২০২ হিজরী শরীফ- বিছাল শরীফ : ২৬৫ হিজরী শরীফ)। তিনি সকলের মাঝে হযরত ইমাম ইবনে সাহ্নূন রহমতুল্লাহি আলাইহি হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন,
اَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ اَنَّ شَاتِـمَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَنَقِّصَ لَهٗ كَافِرٌ وَّالْوَعِيْدُ جَارٍ عَلَيْهِ بِعَذَابِ اللهِ لَهٗ وَحُكْمُهٗ عِنْدَ الْاُمَّةِ الْقَتْلُ وَمَنْ شَكَّ فِـىْ كُفْرِهٖ وَعَذَابِهٖ كَفَرَ.
অর্থ: “সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এই বিষয়ে ইজমা’ করেছেন যে, নিঃসন্দেহে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী, উনার মর্যাদাহননকারী, মানহানীকারী ব্যক্তি কাফির এবং তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তার ব্যাপারে সমস্ত উম্মত উনাদের ফায়ছালা হলো, তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি এ ধরণের লোকদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে এবং শাস্তিযোগ্য হওয়ার বিষয়ে (অর্থাৎ তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ- হওয়ার বিষয়ে) সন্দেহ পোষণ করবে, সেও কাফির হবে (এবং তাকেও শাস্তিস্বরূপ হত্যা করতে হবে)।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূক্বিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২০ পৃ., নিহায়াতুস সুওয়াল ২৬১ পৃ.)
আল ইমামুল কাবীর, আল ফাক্বীহ হযরত ইমাম আছবাগ ইবনে ফারাজ মিছরী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ২২৫ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
يُقْتَلُ عَلـٰى كُلِّ حَالٍ اَسَرَّ ذٰلِكَ اَوْ اَظْهَرَهٗ وَلَا يُسْتَتَابُ لِاَنَّ تَوْبَتَهٗ لَا تُعْرَفُ.
অর্থ: “যে কোনো অবস্থায় হোক না কেন তাকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। চাই সে গোপনে গাল-মন্দ করুক বা প্রকাশ্যে গাল-মন্দ করুক। তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা তার তওবার অবস্থা জানা নেই।” (আশ শিফা ২/২১৬, আস সাইফুল মাসলূল ১২৭-১২৮ পৃ.)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْحَكَمِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ سَبَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مُّسْلِمٍ اَوْ كَافِرٍ قُتِلَ وَلَـمْ يُسْتَتَبْ وَحَكَى الطَّبَرِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مِثْلَهٗ عَنْ اَشْهَبَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ مَالِكٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ.
অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ মুহম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম ইবনে আ’ইয়ান ইবনে লাইছ মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ : ১৫৫ হিজরী শরীফ, বিছাল শরীফ : ২১৪ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, মানহানী করবে, তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে। তার তওবা কবূল করা হবে না। চাই সে মুসলমান হোক বা কাফির হোক। হযরত ইমাম আল্লামা আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে জারীর ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ : ২২৩ হিজরী শরীফ, বিছাল শরীফ : ৩১০ হিজরী শরীফ) তিনি হযরত ইমাম আবূ ‘আমর আশহাব ইবনে আব্দুল ‘আযীয ‘আমিরী মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ : ১৪০ হিজরী শরীফ, বিছাল শরীফ : ২১০ হিজরী শরীফ) উনার সূত্রে হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৭, আস সাইফুল মাসলূল ১২৮ পৃ.)
আল ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিছ, মুতাফান্নিন আবূ আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে ‘আত্তাব ইবনে মুহসিন রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ: ৩৮৩ হিজরী; বিছাল শরীফ: ৪৬২ হিজরী) তিনি বলেন,
اَلْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ مُوْجِبَانِ اَنَّ مَنْ قَصَدَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَذًى اَوْ نَقْصٍ مُّعَرِّضًا اَوْ مُصَرِّحًا وَّاِنْ قَلَّ فَقَتْلُهٗ وَاجِبٌ.
অর্থ: “এ কথা সম্মানিত ও পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে কোনোভাবে কষ্ট দিবে অথবা উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ প্রকাশ্যে বা গোপনে, ইশারা-ইঙ্গিতে কোনো প্রকার দোষত্রুটি সংযোজিত করবে, চাই তা অতি ক্ষুদ্রই হোক না কেনো, তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করা, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেয়া ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৭, আস সাইফুল মাসলূল ১২৮ পৃ.)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَقَالَ بَعْضُ عُلَمَائِنَا اَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلـٰى اَنَّ مَنْ دَعَا عَلـٰى نَبِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنَ الْاَنْۢبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ بِالْوَيْلِ اَوْ بِشَىْءٍ مِّنَ الْمَكْرُوْهِ اَنَّهٗ يُقْتَلُ بِلَا اسْتِتَابَةٍ وَاَفْتٰـى اَبُو الْـحَسَنِ الْقَابِسِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِيْمَنْ قَالَ فِى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْـحَمَّالُ يَتِيْمُ اَبِـىْ طَالِبٍ بِالْقَتْلِ.
অর্থ: “আমাদের কতিপয় সম্মানিত আলিমগণ উনারা বলেন, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এ মতের উপর ইজমা করেছেন, যে ব্যক্তি হযরত নবী-রসূল আলাইহমুস সালাম উনাদের জন্য অকল্যাণ বা অপছন্দনীয় কোনো বিষয় কামনা করবে, অবশ্যই তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে। তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। সুবহানাল্লাহ! হযরত ইমাম আবুল হাসান ক্বাবিসী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ : ৩২৪ হিজরী – বিছাল শরীফ ৪২৩ হিজরী) তিনি ঐ ব্যক্তিকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করার, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেয়ার ফতওয়া মুবারক প্রদান করেন, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে এ কথা বলবে যে,
اَلْـحَمَّالُ يَتِيْمُ اَبِـىْ طَالِبٍ بِالْقَتْلِ.
তিনি আবূ তলিব উনার বোঝা বহনকারী ইয়াতিম ছিলেন।” নাঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৭, আস সাইফুল মাসলূল ১২৮ পৃ.)
হযরত ইমাম সাহনূন তানূখী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসারী বিশ্বখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ হযরত ইমাম আহমদ বিন আবূ সুলায়মান তিনি বলেন,
مَنْ قَالَ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ اَسْوَدَ يُقْتَلُ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি এ কথা বলবে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক কালো বর্ণের ছিলেন, নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুয যারক্বানী ৫/৫৩০, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১২/২৫, ইমতা‘উল আসমা’ ১৪/৩৭৭, আশ শিফা ২/২১৭ ইত্যাদী)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَاَفْتٰـى فُقَهَاءُ الْاَنْدَلُسِ بِقَتْلِ ابْنِ حَاتِـمِ ۣ الْمُتَفَقِّهِ الطُّلَيْطِلِـىِّ وَصَلْبِهٖ بـِمَا شُهِدَ عَلَيْهِ بِهٖ مِنَ اسْتِخْفَافِهٖ بِـحَقِّ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَسْمِيَتِهٖ اِيَّاهُ اَثْنَاءَ مُنَاظَرَتِهٖ بِالْيَتِيْمِ وَخَتَنِ حَيْدَرَةَ وَزَعْمِهٖ اَنَّ زُهْدَهٗ لَـمْ يَكُنْ قَصْدًا وَّلَوْ قَدِرَ عَلَى الطَّيِّبَاتِ اَكَلَهَا.
অর্থ: “আন্দালুসের সম্মানিত ফক্বীহগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইবনে হাতিম তুলায়তিলীকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করার, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেয়ার এবং শূলে চড়ানোর বা আগুনে পুড়ে ফেলার ফতওয়া দেন। কারণ সে এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ বক্তব্য পেশ করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইয়াতীম ও সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার শ্বশুর বলে সম্বোধন করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! আর তার ধারণা হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ইচ্ছাকৃত ছিলো না, বরং যদি তিনি দুনিয়ার সম্পদ লাভ করতে পারতেন, তাহলে তিনি তা ব্যবহার করতেন।” নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৮, আস সাইফুল মাসলূল ১২৯ পৃ.)
বিশিষ্ট ফক্বীহ, ইমাম, শাইখুল মাদীনাহ, ক্বাযীউল মাদীনাহ হযরত ইমাম আবূ মুছ‘আব আহমদ ইবনে আবূ বকর ক্বাসিম ইবনে হারিছ ইবনে যুরারাহ ইবনে মুছ‘আব ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ‘আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু আল কুরাইশী আয যুহ্রী আল মাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ : ১৫০ হিজরী শরীফ, বিছাল শরীফ : ২৪২ হিজরী শরীফ) তিনি এবং হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভাগিনা, বিশিষ্ট ফক্বীহ, ইমাম, মুহাদ্দিছ হযরত আবূ আব্দুল্লাহ ইসমাঈল ইবনে আবূ উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ২২৬ হিজরী শরীফ) তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে বলেন,
سَـمِعْنَا حَضْرَتْ مَالِكًا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ مَنْ سَبَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْ شَتَمَهٗ اَوْ عَابَهٗ اَوْ تَنَقَّصَهٗ قُتِلَ مُسْلِمًا كَانَ اَوْ كَافِرًا وَّلَا يُسْتَتَابُ
অর্থ: “আমরা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিরস্কার করবে, (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোষত্রুটি বর্ণনা করবে (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করবে, (না‘ঊযুবিল্লাহ!) শাস্তিস্বরূপ তাকে ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ তাকে মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! চাই সে ব্যক্তি নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক, তার তওবা গ্রহণ করা হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৬, আস সাইফুল মাসলূল ১২৭ পৃ.)
হযরত ইমাম আলী ইবনে আব্দুল কাফী সুবুকী শাফি‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৭৫৬) তিনি বলেন,
قَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سَاَلْتُ اَبِىْ عَمَّنْ شَتَمَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسْتَتَابُ قَالَ قَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْقَتْلُ وَلَا يُسْتَتَابُ حَضْرَتْ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَتَلَ رَجُلًا شَتَمَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَـمْ يَسْتَتِبْهُ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একদা আমি আমার সম্মানিত পিতা (হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনাকে যেই ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করে, তিরস্কার করে, উনার মানহানী করে, তার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তাকে কি তওবার সুযোগ দেয়া হবে অর্থাৎ তার কি তাওবা গ্রহণ করা হবে? (আমার সম্মানিত পিতা হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তার উপর ক্বতল তথা মৃত্যুদ- ওয়াজিব হয়ে গেছে। তার তাওবা গ্রহণ করা হবে না। (অতঃপর তিনি এই বিষয়ে সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আমল মুবারক দলীল হিসেবে পেশ করে বলেন,) এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিরস্কার করার কারণে, উনার মানহানী করার কারণে সাইফুল্লাহিল মাসলূল (মহান আল্লাহ পাক উনার উন্মুক্ত তরবারী মুবারক) হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে ক্বতল করেছেন, মৃত্যুদ- দিয়েছেন। তিনি তার তাওবা গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ! (আস সাইফুল মাসলূল ১৩০ পৃ:, আশ শিফা লিআবী বকর)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَاحْتَجَّ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ خَالِدِ ۣ الْفَقِيْهُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِىْ مِثْلِ هٰذَا بِقَتْلِ حَضْرَتْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ مَالِكَ بْنَ نُوَيْرَةَ بِقَوْلِهٖ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاحِبُكُمْ.
অর্থ: “বিশিষ্ট ফক্বীহ হযরত আবূ ইসহাক্ব ইবরাহীম বিন হুসাইন বিন খালিদ কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ২৪৯ হিজরী শরীফ) তিনি (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-) এ ব্যাপারে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আমল মুবারককে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মালিক ইবনে নুয়াইরাকে শুধু এজন্যই ক্বতল করেছেন, মৃত্যুদ- দিয়েছেন যে, সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে صَاحِبُكُمْ ‘তোমাদের সাথী’ বলেছে (‘আপনাদের সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলেনি)।” (আশ শিফা ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ১২৫)
হযরত ইমাম আহমদ শিহাবুদ্দীন খাফাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
(وَاحْتَجَّ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ خَالِدِ ۣ الْفَقِيْهُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِىْ مِثْلِ هٰذَا) وَفِـىْ نُسْخَةٍ عَلـٰى مِثْلِ هٰذَا (بِقَتْلِ حَضْرَتْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيْدِ) رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ (مَالِكَ بْنَ نُوَيْرَةَ) عَلَمٌ مِّنْ تَصْغِيْرِ نَارٍ (لِقَوْلِهٖ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاحِبُكُمْ) يَعْنِىْ بِهِ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِيْهِ تَنْقِيْصٌ لَّهٗ بِتَعْبِيْرِهٖ عَنْهُ بِصَاحِبِكُمْ دُوْنَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَـحْوَهٗ.
অর্থ: “বিশিষ্ট ফক্বীহ হযরত আবূ ইসহাক্ব ইবরাহীম ইবনে হুসাইন ইবনে খালিদ কুরতুবী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-) এ ব্যাপারে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আমল মুবারককে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। এক নুসখায় فِىْ مِثْلِ هٰذَا এর স্থলে عَلـٰى مِثْلِ هٰذَا উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন যে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মালিক ইবনে নুওয়াইরাকে। নুওয়াইরাহ نُوَيْرَةُ)) শব্দটি ‘আলাম। এটি নার (نَارٌ) শব্দের ইসমে তাছগীর। শুধু এজন্যই ক্বতল করেছেন, মৃত্যুদ- দিয়েছেন যে, সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে صَاحِبُكُمْ ‘তোমাদের সাথী’ বলেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ সে صَاحِبُكُمْ দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ রসূলুল্লাহ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং এ জাতীয় সম্মানিত শব্দ মুবারক ব্যবহার না করে صَاحِبُكُمْ বলেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! সে তার এই বচনভঙ্গির মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদাহানী করেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (নাসীমুর রিয়াদ্ব ৪/৩৩৮-৩৩৯)
মালিক ইবনে নুওয়াইরাহ ছিলো বনী তামীম গোত্রের প্রধান। সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে সে যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখনও সে বনী তামীম গোত্রের প্রধানই ছিলো। তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করার কারণে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করেন, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেন। সুবহানাল্লাহ! যদিও তাকে মৃত্যুদ- দেয়ার পূর্বে সে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বীকৃতি দিয়েছিলা। কিন্তু হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার থেকে তা গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার এই সম্মানিত আমল মুবারক দ্বারা এ বিষয়টিই স্পষ্ট করে দিলেন যে, যারা বিন্দু থেকে বিন্দুতমও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদাহানী করবে, মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اَنَّهٗ مَنَعَ الزَّكٰوةَ زَمَنَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاَرْسَلَ اِلَيْهِ حَضْرَتْ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فِـىْ مَنْعِ الزَّكـٰوةِ فَقَالَ مَالِكٌ اَنَا اٰتِـىٌ بِالصَّلـٰوةِ دُوْنَ الزَّكٰوةِ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَمَا عَلِمْتَ اَنَّ الصَّلـٰوةَ وَالزَّكٰوةَ لَا تُقْبَلُ وَاحِدَةٌ دُوْنَ الْاُخْرٰى فَقَالَ مَالِكٌ قَدْ كَانَ صَاحِبُكُمْ يَقُوْلُ ذٰلِكَ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَمَا تَرَاهُ لَكَ صَاحِبًا وَّاللهِ لَقَدْ هَـمَمْتُ اَنْ اَضْرِبَ عُنُقَكَ ثُـمَّ تَـجَادَلَا فِـى الْكَلَامِ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اِنِّـىْ قَاتِلُكَ قَالَ اَوْ بِذٰلِكَ اَمَرَكَ صَاحِبُكَ قَالَ وَهٰذِهٖ بَعْدَ تِلْكَ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَاَبُوْ قَتَادَةَ الْاَنْصَارِىُّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ حَاضِرَيْنِ فَكَلَّمَا حَضْرَتْ خَالِدًا رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فِـىْ اَمْرِهٖ فَكَرِهَ كَلَامَهُمَا فَقَالَ مَالِكٌ يَا حَضْرَتْ خَالِدُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اِبْعَثْنَا اِلـٰى سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَبِـىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَيَكُوْنُ هُوَ الَّذِىْ يَـحْكُمُ فِيْنَا فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ لَا اَقَالَنِـىَ اللهُ اَنْ اَقَلْتُكَ فَاَمَرَ حَضْرَتْ ضِرَارَ بْنَ الْاَزْوَرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ بِضَرْبِ عُنُقِهٖ فَالْتَفَتَ مَالِكٌ اِلـٰى زَوْجَتِهٖ وَكَانَتْ فِـىْ غَايَةٍ مِّنَ الْـجَمَالِ فَقَالَ لِـحَضْرَتْ خَالِدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ هٰذِهٖ هِىَ الَّتِـىْ قَتَلَتْنِىْ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ بَلِ اللهُ قَتَلَكَ بِرُجُوْعِكَ عَنِ الْاِسْلَامِ فَقَالَ مَالِكٌ اَنَا عَلَى الْاِسْلَامِ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يَا حَضْرَتْ ضِرَارُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اِضْرِبْ عُنُقَهٗ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ.
অর্থ: “খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক কালে মালিক ইবনে নুওয়াইরাহ যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে মালিক ইবনে নুওয়াইরার নিকট প্রেরণ করেন। মালিক ইবনে নুওয়াইরাহ হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বললো, আমি নামায আদায় করবো, যাকাত প্রদান করবো না। নাঊযুবিল্লাহ! হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে বললেন, তুমি কি জানো না যে, ‘সম্মানিত নামায’ এবং ‘সম্মানিত যাকাত’ এ দুইটি একটি ব্যতীত আরেকটি কবুল হয় না। সুবহানাল্লাহ! তখন সে বললো, (صَاحِبُكُمْ) ‘তোমাদের সাথী’ কি এরূপ বলতেন? নাঊযুবিল্লাহ! জবাবে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, তুই কি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোর মালিক হিসেবে দেখিস না? মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি শপথ করেছি যে, অবশ্যই অবশ্যই আমি তোর গর্দান উড়িয়ে দিবো। অতঃপর উভয়ের মাঝে তর্কযুদ্ধ শুরু হলো। তারপর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, অবশ্যই আমি তোকে ক্বতল করবো? মালিক ইবনে নুওয়াইরাহ বললো, (صَاحِبُكُمْ) ‘তোমার সাথী’ কী তোমাকে এরূপ করার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন? নাঊযুবিল্লাহ! হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে বললেন, এরপরেও তুই এ কথা বললি? সেখানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আবূ ক্বাতাদাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে উপস্থিত ছিলেন। উনারা উভয়ে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে উনার সিদ্ধান্ত মুবারক উনার ব্যাপারে কথা বললেন। তিনি উনাদের উভয়ের কথা অপছন্দ করলেন। তখন মালিক ইবনে নুওয়াইরাহ হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বললো, হে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! আপনি আমাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট প্রেরণ করুন। তিনিই আমাদের মাঝে ফায়সালা করবেন। জবাবে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে তোকে ক্বতল করার বিষয়ে অব্যাহতি দেননি যে, আমি তোকে অব্যাহতি দিবো। অর্থাৎ আমি তোকে অবশ্যই ক্বতল করবো। সুবহানাল্লাহ! (কারণ, তুই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করেছিস।) তারপর তিনি হযরত দ্বিরার ইবনে আয্ওয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন তার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! মালিক ইবনে নুওয়াইরার স্ত্রী ছিলেন সৌন্দর্যের শেষ সীমায় উপনীত। তখন সে তার স্ত্রীর দিকে দৃষ্টি দিয়ে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্য করে (কারূনের ন্যায় অপবাদ দিয়ে) বললো, তিনিই (আমার স্ত্রীই) কি আমাকে হত্যা করছেন? (অর্থাৎ আমার স্ত্রীর সীমাহীন সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়েই কি আপনি আমাকে ক্বতল করতে যাচ্ছেন? না‘ঊযুবিল্লাহ!) জবাবে সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, না। বরং তুই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনিই তোকে ক্বতল করছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন মালিক ইবনে নুওয়াইরাহ বললো, আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর রয়েছি। (কিন্তু হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মালিক ইবনে নুওয়াইরার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে (صَاحِبُكُمْ) ‘তোমাদের সাথী’ বলে মানহানী করার পর, তার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বীকৃতির বিষয়টি গ্রহণ করলেন না। সুবহানাল্লাহ! বরং) সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, হে হযরত দ্বিরার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! আপনি তার গর্দান উড়িয়ে দিন। তখন হযরত দ্বিরার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুশ শিফা লিল ক্বারী ২/৩৯৩)
হযরত ইমাম আহমদ শিহাবুদ্দীন খাফাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
اَمَرَ حَضْرَتْ ضِرَارَ بْنَ الْاَزْوَرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ لِاِنْكَارِهٖ قَوْلِهٖ صَاحِبُكُمْ مَرَّتَيْنِ اسْتِصْغَارًا لَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি হযরত দ্বিরার ইবনে আয্ওয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন মালিক ইবনে নুওয়াইরাকে ক্বতল করার জন্য। তখন হযরত দ্বিরার ইবনে আয্ওয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন, তার অবাধ্যতার কারণে। সুবহানাল্লাহ! তার অবাধ্যতা হলো সে তার কথা (صَاحِبُكُمْ) ‘তোমাদের সাথী’ এটা দুইবার বলার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হেয়জ্ঞান করেছে, উনার মানহানী করেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (নাসীমুর রিয়াদ্ব লিল খ¦ফাজী ৪/৩৩৯)
বিষয়টি যখন ছড়িয়ে পড়লো যে, হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একজন মুসলমানকে ক্বতল করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন,
فِاِنَّهٗ قَدْ قَتَلَ مُسْلِمًا فَاقْتُلْهُ قَالَ مَا كُنْتُ اَقْتُلُهٗ اَنَّهٗ تَاَوَّلَ قَالَ فَاَعْزِلْهُ قَالَ مَا كُنْتُ اَعْمِدُ سَيْفًا سَلَّهُ اللهُ تَعَالـٰى عَلَى الْمُشْرِكِيْنَ وَفِـىْ رِوَايَةٍ لَّا اَعْزِلُ وَالِيًا وَّلَّاهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একজন মুসলমানকে ক্বতল করেছেন, আপনিও উনাকে (কিছাছ স্বরূপ) ক্বতল করুন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, না আমি উনাকে ক্বতল করবো না, কেননা তিনি বিষয়টি তাহক্বীক্ব করেছেন। অর্থাৎ তিনি যা করেছেন সঠিকই করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন, তাহলে আপনি উনাকে অপসারণ করুন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, না। যেই সম্মানিত তরবারী মুবারক উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুশরিকদের উপর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আমি সেই সম্মানিত তরবারী মুবারক উনাকে কোষবদ্ধ করবো না। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছে, যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িত্ব মুবারক দিয়েছেন, আমি সেই সুমহান দায়িত্বশীল উনাকে অপসারণ করবো না।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুশ শিফা লিলক্বারী ২/৩৯৩-৩৯৪)
সাইফুল্লাহিল মাসলূল হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এই সম্মানিত আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এই শক্ত জাওয়াব মুবারক এবং সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এই বিষয়ে সম্মতি মুবারক প্রকাশ দ্বারা এটাই দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, যারা সামান্য থেকে সামান্যতমও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করবে, মর্যাদাহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমনিভাবে মালিক ইবনে নুওয়াইরার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَرَوَى ابْنُ وَهْبٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ مَالِكٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ قَالَ اِنَّ رِدَاءَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُرْوٰى زِرَّ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسِخٌ اَرَادَ بِهٖ عَيْبَهٗ قُتِلَ.
অর্থ: “হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট ছাত্র, সম্মানিত ফিক্বহ এবং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ শাস্ত্র উনার ইমাম, আল ইমামুল কাবীর হযরত ইমাম আবূ মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ফিহ্রী মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ : ১২৫ হিজরী শরীফ; বিছাল শরীফ : ১৯৭ হিজরী শরীফ) তিনি মালিকী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন,
مَنْ قَالَ اِنَّ رِدَاءَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُرْوٰى زِرَّ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسِخٌ اَرَادَ بِهٖ عَيْبَهٗ قُتِلَ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি বলবে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র চাদর মুবারক বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র কোর্তা মুবারক উনার সম্মানিত ও পবিত্র গুটলী মুবারক অপরিচ্ছন্ন ছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! আর এতে তার উদ্দেশ্য হলো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করা। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (অবশ্যই অবশ্যই) তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৭, আস সাইফুল মাসলূল ১২৮ পৃ.)
কাজেই, সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করার তো প্রশ্নোই উঠে না; বরং উনার সাথে সম্পৃক্ত উনার সম্মানিত ও পবিত্র চাদর মুবারক অথবা উনার পুরো সম্মানিত ও পবিত্র কোর্তা মুবারক নয়; বরং সম্মানিত ও পবিত্র কোর্তা মুবারক উনার একখানা অতি ক্ষুদ্রতম অংশ মুবারক সম্মানিত ও পবিত্র গুটলী মুবারক উনারও যদি কেউ মানহানী করে, তাকে অবশ্যই অবশ্যই শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানে যারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ নানা অশ্লীল-অশালীন, এলোমেলো কুফরী-শিরকীমূলক বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছে, উনাদেরকে গাল-মন্দ করছে, উনাদের মর্যাদাহানী করে যাচ্ছে, মানহানী করছে, তাদের ফায়ছালা কী? অবশ্যই অবশ্যই তাদের প্রত্যেককেই শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করা, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেয়া ফরয-ওয়াজিব এবং অবশ্যই অবশ্যই তাদের প্রত্যেককে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যে কোন ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। কস্মিনকালেও তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, যেকোনো পদ্ধতিতেই হোক অবশ্যই তাদেরকে সবচেয়ে কঠিন ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! আর যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম।
এ সম্পর্কে হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَاَفْـتٰـى فُقَهَاءُ الْقَيْرَوَانِ وَاَصْحَابُ سَحْنُوْنٍ بِقَتْلِ اِبْرَاهِيْمَ الفَزَارِىِّ وَكَانَ شَاعِرًا مُّتَفَنِّنًا فِـىْ كَثِيْرٍ مِّنَ الْعُلُوْمِ وَكَانَ مِـمَّنْ يَّـحْضُرُ مَـجْلِسَ حَضْرَتْ اَلْقَاضِىْ اَبِـى الْعَبَّاسِ بْنِ طَالِبٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لِلْمُنَاظَرَةِ فَرُفِعَتْ عَلَيْهِ اُمُوْرٌ مُّنْكَرَةٌ مِّنْ هٰذَا الْبَابِ فِـى الْاِسْتِهْزَاءِ بِاللهِ وَاَنْۢبِيَائِهٖ وَنَبِيِّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَحْضَرَ لَهُ الْقَاضِىَ يَـحْيَـى بْنَ عُمَرَ وَغَيْرَهٗ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَاَمَرَ بِقَتْلِهٖ وَصَلْبِهٖ فَطُعِنَ بِالسِّكِّيْنِ وَصُلِبَ مُنَكَّسًا ثُـمَّ اُنْزِلَ وَاُحْرِقَ بِالنَّارِ وَحَكٰى بَعْضُ الْمُؤَرِّخِيْنَ اَنَّهٗ لَمَّا رُفِعَتْ خَشَبَتُهٗ وَزَالَتْ عَنْهَا الْاَيْدِىُ اسْتَدَارَتْ وَحَوَّلَتْهُ عَنِ الْقِبْلَةِ فَكَانَ اٰيَةً لِّـلْجَمِيْعِ وَكَبَّرَ النَّاسُ وَجَاءَ كَلْبٌ فَوَلَغَ فِـىْ دَمِهٖ فَقَالَ حَضْرَتْ يَـحْيَـى بْنُ عُمَرَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ صَدَقَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَكَرَ حَدِيْثًا عَنْهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّهٗ قَالَ لَا يَلَغُ الْكَلْبُ فِـىْ دَمِ مُسْلِمٍ.
অর্থ: “কায়রাওয়ানের সম্মানিত ফক্বীহগণ এবং হযরত ইমাম সাহনূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুসারীগণ উনারা ইবরাহীম ফাযারীকে হত্যা করার ফতওয়া দেন। ইবরাহীম অভিজ্ঞ ও খ্যাতনামা কবি ছিলো এবং দর্শনশাস্ত্র ও যাহিরী বিদ্যার অন্যান্য শাখায় অনেক পারদর্শী ছিলো। সে কাযী হযরত আবুল আব্বাস ইবনে তালিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসে বিভিন্ন বিষয়ে মুনাযারাহ বা বিতর্ক করার জন্য উপস্থিত হতো। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছিলো যে, সে অনেক কাব্যে মহান আল্লাহ পাক উনার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ কটূক্তি করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন কাযী হযরত আবুল আব্বাস ইবনে তালিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে কায়রাওয়ানের ক্বাযী ও ফক্বীহ ইয়াহ্ইয়া ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আদালতে উপস্থিত করেন, ঐ সময় আদালতে অসংখ্য খ্যাতনামা যুগশ্রেষ্ঠ ফক্বীহগণ উপস্থিত ছিলেন। শাস্তিস্বরূপ বিচারক তাকে ক্বতল করার এবং ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানোর ও আগুনে পুড়ানোর আদেশ মুবারক দেন। তাই তাকে ছুরি দ্বারা আঘাত করে উল্টিয়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর তার মৃতদেহ নামিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। সুবহানাল্লাহ! কোনো কোনো ঐতিহাসিকগণ বলেন, যখন তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়, তার ফাঁসির রশি এমনিতে ঘুরতে শুরু করে। যখন তার চেহারা সম্মানিত ক্বিবলা উনার বিপরীত হয়ে যেতো, তখন ফাঁসির রশি ঘুরা বন্ধ হয়ে যেতো। উপস্থিত লোকজন এটাকে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার নিদর্শন মুবারক মনে করে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন। এরপর কুকুর এসে তার রক্ত খেয়ে ফেলে। তখন হযরত ইমাম ক্বাযী ইয়াহ্ইয়া ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যথার্থই ইরশাদ মুবারক করেছেন যে,
لَا يَلَغُ الْكَلْبُ فِـىْ دَمِ مُسْلِمٍ.
কুকুর মুসলমানের রক্ত খায় না।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৮, নাসীমুর রিয়াদ্ব ৪/ ৩৪৫-৩৪৬পৃ.)
সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ফতওয়া হচ্ছেন- যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, মানহানী করবে, তাকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো অত্যধিক কঠিনভাবে যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে তাকে ক্বতল করতে হবে অর্থাৎ মৃত্যুদ- দিতে হবে। কেননা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ.
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْنًا.
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা কষ্ট দিবে তাদেরকে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রদানের কথা বর্ণনা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
স্বাভাবিকভাবে সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার বিধান হচ্ছে, কতলের পরিবর্তে কতল। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে যারা কষ্ট দিয়েছিলো, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের বিরুদ্ধে সারিয়্যাহ (সৈন্যদল) প্রেরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, তাদেরকে পেলেই আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য। সুবহানাল্লাহ! যেমন ‘বুখারী শরীফ’সহ আরো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اِنْ لَقِيْتُمْ فُلَانًا وَّفُلَانًا لِّرَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ سَـمَّاهُـمَا فَحَرِّقُوْهُـمَا بِالنَّارِ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশদের দু’জন ব্যক্তির নাম ধরে ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি আপনারা অমুক এবং অমুককে পান, তাহলে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, সুনানে দারিমী, সুনানে সা‘ঈদ ইবনে মানছূর, মুসনাদে বাযযার, আস সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ছহীহ ইবনে হিব্বান ইত্যাদী)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরবর্তীতে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنْ وَّجَدْتُّـمُوْهُ فَاقْطَعُوْا يَدَهٗ ثُـمَّ اقْطَعُوْا رِجْلَهٗ ثُـمَّ اقْطَعُوْا يَدَهٗ ثُـمَّ اقْطَعُوْا رِجْلَهٗ.
অর্থ: “যদি আপনারা তাকে পান, তাহলে প্রথমে তার ডান হাত কাটবেন। তারপর ডান পা কাটবেন। অতঃপর বাম হাত কাটবেন। তারপর বাম পা কাটবেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ তাকে পেলে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে ক্বতল করবেন, কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে সা‘ঈদ ইবনে মানছূর ২/২৮৬)
কাজেই, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। অবশ্যই অবশ্যই তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো অত্যধিক কঠিন তর্য-তরীক্বায় যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে ক্বতল করতে হবে অর্থাৎ মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ!
এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যায় অন্যান্য সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, ছহিবু ইলমিল আউওওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, একজন হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করলে, এর কাফফারা বাবদ সত্তর হাজার লোককে ধ্বংস করে দেয়া হয়। আর একজন খলীফা উনাকে শহীদ করা হলে, এর কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে ধ্বংস করে দেয়া হয়। আর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত, তাদের কমপক্ষে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ مَا قُتِلَ نَبِـىٌّ قَطُّ اِلَّا قُتِلَ بِهٖ سَبْعُوْنَ اَلْفًا مِّنْ اُمَّتِهٖ وَلَا قُتِلَ خَلِيْفَةٌ قَطُّ اِلَّا قُتِلَ بِهٖ خَـمْسَةٌ وَّثَلَاثُوْنَ اَلْفًا.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা হয়নি যে, উনার কাফফারা বাবদ উনার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! আর এমন কোনো খলীফা উনাকে শহীদ করা হয়নি যে, উনার কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আবী শায়বাহ ১৫/২২৩, মুছান্নাফে আব্দির রাজ্জাক্ব ১১/৪৪৫, আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ১৮/৫২, আছ ছওয়াইকুল মুহ্রিক্বহ ১/৩২৯, ত্ববাক্বতে ইবনে সা’দ ৩/৮৩, ইযালাতুল খফা’ ৬/৩১৯, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৮/১৪৬, খাযিন ৩/৩০৩, বাগভী ৬/৫৯, আত তামহীদ ওয়াল বায়ান ১/১৮১, তারীখুল খুলাফা ১/১২৮, আর রিয়াদুন নাদ্বরাহ ফী মানাক্বিবে আশারাহ ১/২২৮, আখবারুল মদীনা ২/২২৫, আল মুহাদ্বারাত ওয়াল মুহাওয়ারাত ১/৭১ ইত্যাদি)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ اَوْحَى اللهُ تَعَالـٰى اِلـٰى سَيِّدِنَا حَبِيْبِنَا شَفِيْعِنَا مَوْلَانَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّـىْ قَتَلْتُ بِيَحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّاِنِّـىْ قَاتِلٌ ۢبِابْنِ ابْنَتِكَ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّسَبْعِيْنَ اَلْفًا.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক করেন যে, নিশ্চয়ই আমি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমি আপনার মহাসম্মানিত লখতে জিগার মুবারক, মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ ৩/১৯৫, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ২/২১৪, ইমতা‘উল আসমা’ ১২/২৩৭, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ১০/১৫২ ইত্যাদি)
এ সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মূলত, এক লক্ষ চল্লিশ হাজার কাফির-মুনাফিকদেরকে তো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছেই। শুধু তাই নয়, এ জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি কাফির, মুশরিক, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের অস্থিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, একজন সম্মানিত খলীফা উনাকে শহীদ করার কারণে কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন বিশেষ নবী-রসূল। উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত ছিলো, কাফফারা বাবদ তাদের সত্তর হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে; কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত ছিলো, তাদের কমপক্ষে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি কাফির, মুশরিক, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের অস্থিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদেরকে কতো কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِىِّ بْنِ اَبِـىْ طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاتِلُ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِـىْ تَابُوْتٍ مِّنْ نَّارٍ عَلَيْهِ نِصْفُ عَذَابِ اَهْلِ الدُّنْيَا.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি শহীদ করবে, তাকে জাহান্নামে আগুনের বক্সে রাখা হবে। সমস্ত দুনিয়াবাসী তথা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন-ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে। ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের অর্ধেক শাস্তি দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৩/২১০, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৪৮৩, কাশফুল খফা’ ২/৯১, শরহুয যারক্বানী আলালা মাওয়াহিব ১০/১৫২, শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ৫/৩১৪, তাফসীরে হাক্কী ৫/৪৩৭, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৪/৮৮ ইত্যাদি)
পঞ্চম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মুকাশাফাতুল কুলূব’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, “সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জাহান্নামকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তার সাতটি দরজা রয়েছে। সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ভাষায়-
لَـهَا سَبْعَةُ اَبْوَابٍ.
‘জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে।’ সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হিজর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৪)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا وَلٰكِنَّهَا طِبَاقٌ بَعْضُهَا اَسْفَلُ مِنْ بَعْضٍ مِّنَ الْبَابِ اِلَى الْبَابِ مَسِيْرُ سَبْعِيْنَ سَنَةً كُلُّ بَابٍ مِّنْهَا اَشَدُّ حَرًّا مِّنَ الَّذِىْ يَلِيْهِ بِسَبْعِيْنَ ضِعْفًا وَّسَاَلَهٗ اَيْضًا عَنْ مَّكَانِ هٰذِهِ الْاَبْوَابِ فَقَالَ اَمَّا الْاَسْفَلُ فَفِيْهِ الْـمُنَافِقُوْنَ وَاسْـمُهُ الْـهَاوِيَةُ كَمَا قَالَ اللهُ تَعَالـٰى اِنَّ الْمُنٰفِقِيْنَ فِى الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَالْبَابُ الثَّانِـىْ فِيْهِ الْـمُشْرِكُوْنَ وَاسْـمُهُ الْـجَحِيْمُ وَالْبَابُ الثَّالِثُ فِيْهِ الصَّابِئُوْنَ وَاسْـمُهٗ سَقَرُ وَالْبَابُ الرَّابِعُ فِيْهِ اِبْلِيْسُ عَلَيْهِ اللَّعْنَةُ وَمَنْ تَبَعَهٗ مِنَ الْـمَجُوْسِ وَاسْـمُهٗ لَظـٰى وَالْبَابُ الْـخَامِسُ فِيْهِ الْيَهُوْدُ وَاسْـمُهُ الْـحُطَمَةُ وَالْبَابُ السَّادِسُ فِيْهِ النَّصَارٰى وَاسْـمُهُ السَّعِيْرُ ثُـمَّ اَمْسَكَ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ لَهٗ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِـمَ لَـمْ تُـخْبِرْنِـىْ عَنْ سُكَّانِ الْبَابِ السَّابِعِ فَقَالَ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَا سَيِّدَنَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسْاَلْنِىْ عَنْهُ فَقَالَ فَفِيْهِ اَهْلُ الْكَبَائِرِ مِنْ اُمَّتِكَ الَّذِيْنَ مَاتُوْا وَلَـمْ يَتُوْبُوْا
অর্থ: “হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জাহান্নামের দরজা এই পৃথিবীর ঘর-বাড়ির দরজার মতো নয়; বরং উপরে-নিচে স্তরে স্তরে বিন্যস্ত এবং এক দরজা হতে অপর দরজা পর্যন্ত সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরত্ব। উপরের দিক থেকে প্রথম দরজার তুলনায় দ্বিতীয়টির এবং এভাবে পরবর্তী দরজাগুলোর একটির তুলনায় অপরটির উত্তাপ ও দাহন ক্ষমতা সত্তরগুণ অধিক হবে।’ অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে এসব স্তরে অবস্থানকারীদের সমন্ধে বলতে বললেন, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, ‘দোযখের সর্বনি¤œ স্তরে নিক্ষেপ করা হবে মুনাফিক্বদেরকে। এই স্তরের নাম হবে ‘হাবিয়াহ’। এই স্তরে মুনাফিক্বদের অবস্থান প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
اِنَّ الْمُنٰفِقِيْنَ فِى الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ.
‘নিঃসন্দেহে মুনাফিক্বদের স্থান হচ্ছে, জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৫)
নিম্ন দিক হতে দ্বিতীয় স্তরের অধিবাসী হবে মুশরিকরা। এই স্তরের নাম ‘জাহীম’। তৃতীয় পর্যায়ে ছাবিঈন তথা যাবূর শরীফ অনুসারী ও নক্ষত্রপূজারীদের স্তর। এর নাম ‘সাক্বার’। চতুর্থ পর্যায়ে অভিশপ্ত ইবলীস ও তার অগ্নিপূজক অনুচরদের স্তর। এর নাম ‘লাযা’। পঞ্চম স্তরের অধিবাসী হবে ইহুদীরা; এর নাম ‘হুতামাহ’। ষষ্ঠ স্তরের অধিবাসী হবে খ্রিস্টানরা; এর নাম হবে ‘সাঈর’। অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি থেমে গেলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি সপ্তম স্তরের অধিবাসীদের সম্পর্কে কিছু বলছেন না কেন? হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আমাকে এই স্তর সম্পর্কে সুওয়াল না করলে ভালো হয়। অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জাহান্নামের এই সপ্তম স্তরে আপনার উম্মতের মধ্য থেকে ওই সব লোক নিক্ষিপ্ত হবে; যারা দুনিয়াতে কবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হয়েছে এবং তাওবা না করে মারা গেছে।” (মুকাশাফাতুল কুলূব ২৫-২৬)
মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’রা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর ‘হাবিয়া’-এর মধ্যে প্রবেশ করবে এবং সেখানে কঠিন-ভয়াবহ ‘আযাব-গযব উপভোগ করবে; যেখানে ইহূদী, খ্রিস্টান, কাফির, মুশরিক, মূর্তি-পূজক, অগ্নিপূজক; এমনকি স্বয়ং মালঊন ইবলীসও প্রবেশ করবে না এবং এতো কঠিন-ভয়াবহ ‘আযাব-গযবও উপভোগ করবে না; বরং ইবলীস প্রবেশ করবে জাহান্নামের চতুর্থ স্তর ‘লাযা’-এর মধ্যে, যেখানে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর ‘হাবিয়া’-এর তুলনায় কমপক্ষে ৩৪৩০০০ গুণ কম শাস্তি হবে, আর ‘হাবিয়া’-এর মধ্যে জাহান্নামের চতুর্থ স্তর ‘লাযা’-এর তুলনায় কমপক্ষে ৩৪৩০০০গুণ বেশি শাস্তি হবে। তাহলে বুঝা গেল যে, মুনাফিক্বদের শাস্তি হবে স্বয়ং ইবলীসের তুলনায় কমপক্ষে ৩৪৩০০০গুণ বেশি, আর স্বয়ং ইবলীসের শাস্তি হবে মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দের তুলনায় ৩৪৩০০০গুণ কম। না‘ঊযুবিল্লাহ!
সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কাফির, মুশরিক, ইবলীসসহ মুনাফিক্ব-উলামায়ে সূ’দের যত শাস্তি হবে, যেই কুখ্যাত কাফির ও মুনাফিক্ব, সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিটি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করেছে, তার এককভাবে সকলের অর্ধেক শাস্তি হবে। সুবহানাল্লাহ! এখানে একটি বিষয় ফিকিরের যে, বণী ইসরাঈলের ৭০ হাজার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে শহীদ করা হয়েছে। উনাদের কারো শান মুবারক-এ কিন্তু এরূপ সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হয়নি যে, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কাফির, মুশরিক, ইবলীসসহ মুনাফিক্ব-উলামায়ে সূ’দের যত শাস্তি হবে, যেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি একজন হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছে, তার এককভাবে সকলের অর্ধেক শাস্তি হবে। বরং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে এই বিষয়টিই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, বণী ইসরাঈলের ৭০ হাজার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা শহীদ করেছে, তারাসহ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কাফির, মুশরিক, ইবলীসসহ মুনাফিক্ব-উলামায়ে সূ’দের যত শাস্তি হবে, যেই কুখ্যাত কাফির, মুনাফিক্ব সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিটি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করেছে, তার এককভাবে সকলের অর্ধেক শাস্তি হবে। সুবহানাল্লাহ! কেননা সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে-
قَاتِلُ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِـىْ تَابُوْتٍ مِّنْ نَّارٍ عَلَيْهِ نِصْفُ عَذَابِ اَهْلِ الدُّنْيَا
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি শহীদ করবে, তাকে জাহান্নামে আগুনের বক্সে রাখা হবে। সমস্ত দুনিয়াবাসী তথা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন-ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে। ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের অর্ধেক শাস্তি দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!
আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে اَهْلِ الدُّنْيَا ‘দুনিয়ার সমস্ত অধিবাসী’ দ্বারা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, জাহান্নামের সকল অধিবাসীরাই উদ্দেশ্য। আর এর মধ্যে বণী ইসরাঈলের ৭০ হাজার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা শহীদ করেছে, তারাও অন্তর্ভুক্ত।
তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা শহীদ করেছে, তাদের কত ভয়াবহ কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দেয়া হবে। যদি তাই হয়, তাহলে হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা মানহানী করবে, তাদেরকে কত ভয়াবহ কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে, তা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হামিলু লিওয়ায়িল হাম্দ, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুছ ছাক্বালাইন, ছাহিবু ক্বাবা ক্বাওসাইনি আও আদনা, ছাহিবু লাওলাক, যিক্রুল্লাহ, ক্বায়িদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক, স্বাভাবিক অবস্থায় হোক অথবা মাতাল বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় হোক অর্থাৎ যেকোনো অবস্থায়ই হোক না কেন- অবশ্যই অবশ্যই তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিতে হবে। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামি‘উল আলক্বাব, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে আলোচ্য বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম অর্জন করে আমাদের সম্মানিত ঈমান হিফাযত করার এবং আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, মাহ্বূবে রব্বিল ‘আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি হাক্বীক্বী আদব বজায় রেখে উনাদের হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা’রিফাত, নিসবত-কুরবত, দায়িমী দীদার মুবারক এবং খাছ রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে