রোহিঙ্গা সহ সারা পৃথিবীব্যাপী অকাতরে মুসলমান শহীদ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার অবস্থান


ইদানিং রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু গন্ডমূর্খ বিরোধী মহল বলতে চায় যে, সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কি করা হচ্ছে…?

এর জবাবে বলতে হয়, ‘পেঁচা কখনো সূর্য দেখতে পায়না, সেজন্য কি সূর্য উদিত হয়না? সূর্য ঠিকই উদিত হয় কিন্তু পেঁচা সেটা দেখার যোগ্যতাই রাখেনা।

উল্লেখিত মূর্খলোকদের অবস্থাটা হচ্ছে, সেই পেঁচা আর কুয়োর ব্যাঙের মতো। তারা চোখে কাঠের চশমা পড়ে থাকে তাই সামনে সংঘঠিত বিষয় সম্পর্কে তারা অবগত নয়। মূলতঃ এদের কাছে রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রকৃত ইস্যু নয় বরং প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিভিন্ন সুতানাতায় সত্যটাকে লুকাননো এবং সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার বিররোধিতা করা। বিরোধী মহলের নানান মিথ্যা অপবাদ-অপপ্রচার করা সত্ত্বেও তার শরীয়তসম্মত জবাব দিয়ে ‘সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ সিলসিলা’ দুর্বার গতিতে দিক-বেদিক ছড়িয়ে পড়ছেন, হক্ব তালাশী মুসলমান সেটা অত্যন্ত তা’যীম-সম্মানের সহিত গ্রহণ করছেন। আজ যার উছীলায় প্রত্যেকেই নিজেকে হাক্বীক্বী মু’মিন-মুত্তাক্বী ও আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার কোশশে নিয়োজিত হচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ্, যার কারণে উনারা সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনাকে সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ হক্ব দরবার শরীফ হিসেবে মূল্যয়ন করছেন।

এখন আসি, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সুস্পষ্ট অবস্থান।

সম্প্রতি নয় বরং অনেক বছর আগে থেকেই মুসলমান রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিবাদ করছেন। শুধুমাত্র রোহিঙ্গা মুসলমান নয় বরং সিরিয়া, ফিলিস্তিন, এমেরিকা, রাশিয়া, চীন, জাপান, স্পেন, ভারত, মায়ানমার সহ সারা পৃথিবীব্যাপী মুসলমান নির্যাতন প্রতিটি ইস্যু নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, করছেন।

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা যখন কোন হারাম বা গর্হিত কাজ দেখো, তখন তা হাত দ্বারা বাধা দাও। যদি তা সম্ভব না হয় তবে জবান বা মুখ দ্বারা বাধা দাও। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে অন্তরে তা ঘৃণা করে সেখান থেকে সরে যাও।”

সারা পৃথিবীব্যাপী কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদ্বীনদের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে মুসলমানদের জিহাদ করা উচিত ছিলো কিন্তু মুসলমানদের সেই অবস্থা-ব্যবস্থা নেই। সেজন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, জাদ্দু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার অনুসরনে কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদ্বীনদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করা।

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় আবরাহা এসে ছিল সম্মানিত কা’বা শরীফ ক্ষতি করার জন্য। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছিলেন, “আয় বারে এলাহী আল্লাহ পাক! আমাদের উচিত ছিলো আবরাহার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করা কিন্তু আমাদের সেই অবস্থা, ব্যবস্থা, প্রস্তুতি নেই। তাই আমাদের জন্য সহজ ব্যবস্থা হচ্ছে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক ধরে আবরাহারা বিরুদ্ধে কঠিন বদদোয়া করা।”

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বদদোয়া করেছিলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তা কবুল করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আবরাহাকে তার সৈন্য-সামন্ত সব সহ নিশ্চিহ্ন-বিলীন-ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিও প্রতিদিন জুলুম-নির্যাতনকারী কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদ্বীনদের বিরুদ্ধে কঠিন বদদোয়া করে যাচ্ছেন এবং সারা পৃথিবীব্যাপী নির্যাতিত-নিপীড়িত মুসলমানদের জান-মাল, ইজ্জত-সম্মান-সম্ভম হিফাযতের জন্য দোয়া করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে কাফির-মুশরিকদের উপরে প্রতিনিয়ত পতিত হচ্ছে ভুমিকম্প, টর্নেডো, বন্যা, তুষারপাত, আগ্নেয়গিরি, দাবানল, সিংহোল সহ নানান খোদায়ী আযাব-গযব। সুবহানাল্লাহ্

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, যদি হাত দ্বারা বাধা দেয়া সম্ভব না হয় তবে জবান দ্বারা বাধা দিতে হবে।

এখন যেহেতু হাত দ্বার বাধা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা সেজন্য তিনি ওয়াজ শরীফ এবং নছীহত শরীফ উনার মাধ্যমে সারা পৃথিবীব্যাপী মুসলমান নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। যার ফলে মুসলমান সঠিক করণীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে এবং করণীয় বিষয় উপলদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছে।

আর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
“আলীম বা জ্ঞানী ব্যক্তির কলমের কালি শহীদ উনার রক্ত মুবারকের চেয়েও পবিত্র।”

সেজন্য তিনি যামানার তাজদীদী মুখপত্র দৈনিক আল ইহসান শরীফ (al-ihsan.net) সহ অনলাইনে বিভিন্ন ভাষায় লেখনী প্রকাশ করছেন, যার মাধ্যমে কলমী জিহাদ করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে শুধু বাংলাদেশ নয় বরং পথিবীর সমস্ত দেশের মুসলমান তা পাঠ করছে এবং প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছে।

শেষকথা, উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, রোহিঙ্গা সহ সারা পৃথিবীব্যাপী মুসলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ হচ্ছেন- “এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ও কলমী জিহাদের বাস্তবরূপ।”

Views All Time
3
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে