“লংমার্চ” পালন করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, নাজায়িজ ও কুফরী । ধারাবাহিক পর্ব-২


১৯৩৪ সালের ১৫ই অক্টোবর প্রায় ১লাখ ৩৫জন লোক নিয়ে মাওসেতুং এই পলায়ন অভিযান আরম্ভ করে। এদের মধ্যে ৮৫ হাজার ছিল কমুনিস্ট সৈন্য, ১৫ হাজার বেসামরিক ব্যক্তি ও ৩৫ জন মেয়েলোক। পলায়নের সময় একদিকে নতুন সৈন্য অন্তর্ভূক্তির ব্যর্থতা অপরদিকে সমরাস্ত্র, খাদ্য, চিকিৎসা ইত্যাদির অভাবে তাদের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়ে। যার ফলে তারা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং প্রায় ৮ হাজার লোক জীবিত অবস্থায় ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে সেনসি প্রদেশে পৌঁছে।

উল্লেখ্য এর মধ্যে অবশ্য অনেককে ইচ্ছে করেই বিভিন্ন গ্রামে রেখে আসা হয়, সে অঞ্চলে বিপ্লবের বীজ বপন করতে।

অবশেষে তৎকালীন চীনের প্রেসিডেন্ট চিয়াং কাইশেকের কাছেও খবরটা পৌঁছল। মাওসেতুং-এর নেতৃত্বে কমিউনিষ্টরা উত্তর-পশ্চিম চীনের সেনসিতে মিলিত হয়েছে।    ১৯৩৬ সালের অক্টোবরে চিয়াং কাইশেক স্বয়ং এল সেনসিতে। সব সেনাপতিকে ডেকে কমিউনিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানের  কথা বললো চিয়াং কাইশেক। কিন্তু এদিকে তখন চীনের বহিঃশক্র জাপানের আক্রমণ তুঙ্গে। তাই মার্শাল চ্যান্ড সহ কতিপয় সেনাপতি কমিউনিষ্টদের সাথে সন্ধি করে বহিঃশত্রু জাপানের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণের পরামর্শ দেয়। কিন্তু চিয়াং কাইশেক তাতে রাজী না হলেও ছাত্র জনতার চাপ এমনকি মার্শাল চ্যান্ড এর মত কতিপয় সেনাপতির কৌশলে চিয়াং কাইশেক এক পর্যায়ে বন্দী হয়ে অবশেষে মাওসেতুং এর কমিউনিষ্ট পার্টির বিরুদ্ধে আক্রমণ বাদ দিয়ে বরং তার সাথে মিলিত হয়ে জাপানের বিরুদ্ধে লড়তে সম্মত হয়।

আর এদিকে চিয়াং কাইশেকের সাথে মিলিত হওয়ার পেছনে মাও-এর দর্শন ছিল যে, জাপানীদের থেকে রাজনৈতিক ভাবে স্বাধীনতা লাভের জন্য তখন চিয়াং কাইশেকের সাথে মিলিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট করা দরকার। কিন্তু মাওসেতুং বিশ্বাস করত যে এ যুক্তফ্রন্ট বেশী দিন চলবেনা। কিন্তু ঐভাবে মাওসেতুং চিয়াং কাইশেকের সৈন্যদলের ভিতর ঢুকে পড়তে চেয়েছিলো। তার সে চেষ্টা সফল হয়েছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে আরেক বিরোধে মাওসেতুং জয় লাভ করে, চিয়াং কাইশেক পদত্যাগ করে এবং ১৯৫০ সালে চিয়াং কাইশেক সপরিবারে ফরমোসায় পলায়ন করলে পুরো চীনে মাওসেতুং এর কমিউনিষ্ট পার্টি  কমিউনিষ্ট শাসন জারী করে।

কারণ মাওসেতুং এর কথানুযায়ী তার লংমার্চ যদি না করা হত তাহলে কিয়াংশি প্রদেশেই সমস্ত কমুনিষ্টদের চিয়াং কাইশেকের সেনাবাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করতে হত।

কিন্তু মাওসেতুং-এর লংমার্চের কারণেই তারা প্রাণে বেচেঁছে এবং পরিণামে কমিউনিষ্ট মতবাদও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আর মাওসেতুং নিজেও জানে যে কমিউনিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার পেছনে এই লংমার্চের নেপথ্যে ছিল তার একক কৃতিত্ব। (কমিউনিষ্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাওসেতুং  সেনসিতে পৌঁছার দুই মাস পরে ২৭ শে ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে লংমার্চের স্মৃতিচারণ করে যা লিখে তা তার Selected works of Mao Ise tung vol, 1, page ১৬১-১৬২ এ সংকলিত হয়েছে। যার বর্ণনা নিম্নরূপঃ

চেয়ারম্যান মাও জেডোঙের(মাও সেতুং) উদ্ধৃতিঃ

“ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহে লংমার্চ এ ধরণের প্রথম ঘটনা। একটি ইস্তেহার, একটি প্রচার বাহিনী, একটি বীজ বপনকারী যন্ত্র। পানগু যখন স্বর্গ থেকে মর্ত আলাদা করে দেয় এবং তিন রাজা ও পাঁচ সম্রাট রাজত্ব করত সেই থেকে ইতিহাস কি কখনো আমাদের মত একটি লংমার্চ প্রত্যক্ষ করেছে? দীর্ঘ বারো মাস বেশ কিছু বিমান আকাশ থেকে আমাদের ওপর নজর রেখেছে এবং বোমা ফেলেছে। মাটিতে কয়েক শত-সহস্র মানুষের এক বিশাল বাহিনী আমাদের ঘেরাও, অনুসরণ, গতিরোধ করেছে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, পথে আমরা অবর্ণনীয় কষ্ট এবং বিপদের মোকাবেলা করেছি; তথাপি দু’পা ব্যবহার করে আমরা এগারটি প্রদেশের দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থে বিশ হাজার লী’র বেশী দূরত্ব অতিক্রম করেছি। জিজ্ঞেস করতে চাই ইতিহাসে কি কখনো এ ধরণের লংমার্চের ঘটনা ঘটেছে? না, কখনোই নয়। লংমার্চ একটি ইস্তেহার। লংমার্চ গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে লাল ফৌজ বীরদের বাহিনী, সাম্রাজ্যবাদীরা এবং তাদের পা চাটা কুকুর জিয়াং জিয়েশি (চিয়াং কাই-শেক) ও তার দোসররা নপুংসক, আমাদের ঘেরাও, অনুসরণ, প্রতিরোধ এবং গতিরোধে তাদের চরম ব্যর্থতার কথাও লংমার্চ জানিয়ে দিয়েছে। লংমার্চ একটি প্রচারণী শক্তিও। এগারোটি প্রদেশের প্রায় ২০ কোটি জনগণকে লংমার্চ দেখিয়েছে লাল ফৌজের পথই তাদের মুক্তির একমাত্র পথ। লংমার্চ ছাড়া ব্যাপক জনগণ স্বল্প সময়ে কিভাবে লাল ফৌজের বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে পারতেন? লংমার্চ বীজ বপনকারী যন্ত্রও। এগারোটি প্রদেশে লংমার্চ যে অসংখ্য বীজ বুনেছে, তা মুঞ্জরিত হবে, পাতা গজাবে, বিকশিত হবে, ফল ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতেও ফসল দেবে। এক কথায় আমাদের জন্য বিজয় এবং শত্রুর জন্য পরাজয়ের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হয়েছে। কারা লংমার্চকে বিজয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে? কমিউনিষ্ট পার্টি। কমিউনিষ্ট পার্টি ছাড়া এ ধরণের একটি লংমার্চ কল্পনাই করা যেতনা। চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি, এর নেতৃত্ব, ক্যাডার এবং সদস্যরা কোন প্রতিকূলতা অথবা কষ্টকে ভয় পায়না। বিপ্লবী যুদ্ধ পরিচালনায় আমাদের দক্ষতা সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন তুললে সুবিধাবাদের আবর্তে নিক্ষিপ্ত হবে। লংমার্চ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে এক নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। যিলুওযেনের যুদ্ধে কেন্দ্রীয় লাল ফৌজ এবং উত্তর পশ্চিমের লাল ফৌজ মৈত্রীবদ্ধ হয়ে লড়াই করে সেনসী-গানসু সীমান্ত এলাকার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতক জিয়াং জিয়েশি-এর “ঘেরাও এবং দমন” নীতিকে চূর্ণ করে দিয়েছে এবং পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচীর অর্থাৎ উত্তর পশ্চিম চীনে বিপ্লবের জাতীয় হেডকোয়ার্টারের ভিত্তি স্থাপন করেছে।”

কমিউনিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার মূলে এই লংমার্চের একক কৃতিত্বের দাবীদার মাওসেতুং ও তার লংমার্চ সম্পর্কে বিশ্বকোষ গুলোতেও বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে Encyclopaedia Britannica তে লেখা হয়েছেঃ

LONG MARCH: (1934-35), the 6,000-mile (10,000-kilometre) historic trek of the Chinese Communists, Which resulted in the relocation of the Communist revolutionary base from Southeast China to Northwest China and in the emergence of Mao Zedong as the undisputed party leader. Fighting National-ist forces under Chiang Kai-shek throughout their journey. the Communist troops crossed 18 mountain ranges and 24 rivers to reach the norhwestern province of Shensi. The heroism Attributed to the Long March inspired maû young Chinese to join th Chinese Communist Party during the late 1930s and early 1940s.

Between 1930 and 1934 Chiang Kai-shek launched a series of five military encirclement campaigns against the Chinese Communists in an attempt to annihilate their base area (the Kiangsi Soviet) on the kiangsi- Fukien border in Southeastern China. The Communists Successfully fought off the first four campaigns using tactics of mobile infiltration and guerrilla warfare developed by Mao. In the fifth campaign Chiang mustered about 700,000 troops and established a series of cement blockhouses around the Communist positions. The Chinese Communist Central Committee, which had removed Mao from the leadership early in 1934, Abandoned his guerrilla warfare strategy and used regular positional warfare tactics against the better-armed and more numerous Nationalist forces. As a result the Communist forces suffered heavy losses and were nearly crushed.

On Cot. 15, 1934, the remaining 85,000 troops, 15,000 administrative personnel, and 35 women broke through the Nationalist lines at their weakest points and fled westward. Mao, at the time of the Communists, departure, was not in control of events; Zhu De was the commander of the army, and Zhou Enlai was the political commissar of party. The first three months of the march were disastrous for the Communists: subjected to constant bombardment form ChiangÕs air force and repeated attacks from his ground froops, they lost more than half of their army. Morale was lwo when they arrived in Tsun-i, in the southwestern province of Kweichow, but at a conference in Tsun-i in January 1935 Mao was able to gather enough support to establish his dominance of the party.

The march then headed toward Northwest China, near the safety of the Soviet border and close to the territory occupied by the Japanese in northeastern china. In June 1935 a force under Chang Kuo-tÕao, a longtime communist leader, joined the main army, and at Maoerh-kai in western syechwan a power struggle ensued between Mao and Chang. ChangÕs group, accompanied by Zhu De, headed to ward the extreme southwestern part of china. The main body under Mao proceeded to ward northern shensi, where the Communist leaders Gao Gang and Liu Zhidan had built up another Soviet area. Mao arrived at this destination is October 1935 along with only about 8,000 survivors. Along the route some Communists had left the march to mobili“e the peasantry; but most of the missing had been eliminated by fighting, disease, and starvation. Among the missing were MaoÕs two small children and his younger brother, Mao Zetan.

MaoÕs troops joined the local Red Army contingent of 7,000 men, and other unlts (including that of Zhu De) swelled their total strength by late 1936 to about 30,000 troops. In December 1936 the Communists moved to the nearby district of Yen-an in Shensi, where they remained throughout the war with the Japanese. The Long March decisively established MaoÕs leadership of the Chinese communist Party, and it enabled the embattled Communists to reach a base area beyond the direct control of the Nationalists. From their base at Yen-an the Communists grwe in strength and eventually defeated the Nationalists in the struggle to control mainland china. Abyiƒc- Encyclopedia Amaricana, World Book, Lexicon universal Encyclopedia, Macmilan Encyclopedia, সহ  আরো অনেক বিশ্বকোষ এবং লংমার্চের ইতিহাস সম্বলিত পুস্তকে এই কাহিনী বর্ণিত রয়েছে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+