লআকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তা’যীম প্রদর্শনে ব্যর্থ বা উনাদের আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণকারীদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি


إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
অর্থ: “আপনার শান মুবারক বিরোধীরাই নির্বংশ তথা লাঞ্চিত ও অপমানিত।” (পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-৩)
অর্থাৎ যে বা যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যথাযথ তা’যীম প্রদর্শন করবে না এবং উনার আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণ করবে, তাদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি রয়েছে। একইভাবে যারা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিবে, তাদের জন্যও ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি রয়েছে। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللّـهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللّـهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দিবে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয় কালে লা’নত। এবং (পরকালে) তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যন্ত্রণাদায়ক কঠিন আযাব।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-৫৭)
অর্থাৎ যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যথাযথ তা’যীম তাকরীম মুবারক প্রদর্শন করবে না, উনাদের আযীমী শান মুবারক উনার বিরোধী আচরণ করবে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, উনাদেরকে কষ্ট দিবে, তারা কখনোই নাজাত লাভ করতে পারবে না। বরং তাদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি রয়েছে। এমনকি দুনিয়াতেই তারা খোদায়ী গজবে আক্রান্ত হয়ে লাঞ্ছিত ও অপমানিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে। নাউযুবিল্লাহ! দুনিয়াতে সে যতই ইবাদত করুক না কেন, তার কোনো আমল কোনো কাজে আসবে না। নাউযুবিল্লাহ!
কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ الله تَعَالـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اَنَّ رَجُلًا صَفَّ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْـمَقَامِ فَصَلّى وَصَامَ ثُـمَّ لَقِىَ اللهَ وَهُوَ مُبْغِضٌ لّاَهْلِ بَيْتِ سيدنا حبيبنا مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ النَّارَ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোনো ব্যক্তি যদি সম্মানিত রুকন ইয়ামেন এবং মাক্বামে ইবরাহীম শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। অতঃপর নামায পড়ে এবং রোযা রাখে। অতঃপর এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় যে, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (যাখাইরুল ‘উক্ববা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৮, খ¦ছায়িছুল কুবরা ২/৪৬৫)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা মুবারক দিলেন এবং বলতে থাকলেন যে, হে লোক সকল! যারা আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, উনাদের বিরোধিতা করলো, তাদের হাশর-নশর হবে ইহুদীদের সাথে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদিও তারা রোযা রাখে এবং নামায পড়ে? উত্তরে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ! যদিও তারা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং দাবি করে যে, তারা মুসলমান। (তা সত্ত্বেও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধিতা করার কারণে, উনাদের শত্রু হওয়ার কারণে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সমস্ত ইবাদত বিনষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন ইহুদীদের দলভুক্ত করে উঠাবেন।)” নাউযুবিল্লাহ! (জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ১০/৪৭৫, তারীখে জুরজান ৩৬৯ পৃষ্ঠা)
কারো অন্তরে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ থাকে, তাহলে তার নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাতসহ সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে সে চিরজাহান্নামী হয়ে যাবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلـى بُغْضِ اٰلِ سَيّدِنَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَكْتُوْبًا بَيْنَ عَيْنَيْهِ اٰيِسٌ مِّنْ رَّحْـمَةِ اللهِ اَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلـى بُغْضِ اٰلِ سَيّدِنَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ كَافِرًا اَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلـى بُغْضِ اٰلِ سَيّدِنَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَشُمَّ رَائِحَةَ الْـجنَّةِ.
অর্থ: “সাবধান! আর যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যাবে, ক্বিয়ামতের দিন তার দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে যে, সে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র রহমত থেকে বঞ্চিত। নাঊযুবিল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যাবে, সে কাফির অবস্থায় মারা যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যাবে, সে সম্মানিত জান্নাত উনার ঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী ১৬/২৩, তাফসীরে কবীর ২৭/৫৯৫, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৮/২৩৯)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিণতি। (১) তারা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র রহমত থেকে বঞ্চিত হিসেবে মোহরাঙ্কিত থাকবে। (২) তারা নিশ্চিতভাবে কাফির হয়ে মারা যাবে। (৩) তারা জান্নাত উনার ঘ্রাণও পাবে না। আর এরুপ লোকেরা দুনিয়াতেই লা’নতগ্রস্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সম্পর্কে অনেক ঘটনা কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিতবে উল্লেখ করা হয়, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সময়ে কাফিল নামে এক পাদ্রি ছিলো। যে পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার অনুলিপি তৈরির কাজ করতো। একদিন সে লক্ষ্য করলো, গোটা তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক থেকে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক বেশি আলোচিত হয়েছে। তার মনে হিংসা ও বিদ্বেষ জাগলো। সে মনে মনে ভাবলো, আমাদের নবী হলেন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম, যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলেন। উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নবী আর কে হতে পারেন? এ চিন্তা মাথায় আসতেই সে গোটা পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্য থেকে লাল কালি দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক কেটে দিলো। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! ওই রাতেই সে গুঁই সাপে পরিণত হলো। এই অবস্থায় যদি কেউ দেখে তাহলে সত্যি গুঁই সাপ ভেবে হয়তো তাকে মেরে ফেলবে, তাই সে তাড়াতাড়ি পাহাড়ের গুহায় যেয়ে আশ্রয় নিলো। ওই গুহার পাশ দিয়েই হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তুর পাহাড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা মুবারক বলতে যেতেন। এদিকে কাফিল পাদ্রিকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে গেছে। এমনি সময় হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তুর পাহাড়ে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে উনার সামনে গুঁই সাপের আকৃতিতে কাফিল পাদ্রি এসে তার পরিচয় দিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক কেটে ফেলার মত জঘন্য ও চরম বেয়াদবীর ঘটনা খুলে বললো। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কাছে আরজি করলো, তিনি যেন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তার ক্ষমার জন্য সুপারিশ করেন।
গুঁই সাপের আকৃতি ধারণকারী কাফিল পাদ্রির বারবার আরজির কারণে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিল পাদ্রির বিষয়ে জানালেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হবে না। তখন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আয় বারে ইলাহী! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো অনেক বছর পর দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক আনবেন। তাই আপনি দয়া করে সেই পর্যন্ত কাফিল পাদ্রির হায়াত বাড়িয়ে দিন, যাতে সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার দোয়া কবুল করে কাফিল পাদ্রির হায়াত বাড়িয়ে দিলেন। অতঃপর গুঁই সাপটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্ধানে মিশরের সেই তুর পর্বতের পাদদেশ থেকে সুদীর্ঘ সময় ধরে হেঁটে হেঁটে এক সময় কা’বা শরীফ উনার পূর্ব পাশে অবস্থিত আবু কোবায়েছ পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে অপেক্ষা করছিল। যথাসময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক আনলেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি উনার নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ করলেন।
একদা দুপুরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করছিলেন। এ সুযোগে কাফিল গুঁই সাপ পাহাড়ের গুহা থেকে আস্তে আস্তে নেমে ক্ষমা লাভের আশায় আবু জাহিলের বাড়ির সামনে দিয়ে রওয়ানা দিলো। পথিমধ্যে হঠাৎ আবু জাহিলের সামনে পড়ে গেলো কাফিল গুঁই সাপ। আবু জাহিল এটিকে সত্যি গুঁই সাপ মনে করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললো। অতঃপর এটিকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে ওই ছাই একটি রুমালে নিয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে গিয়ে বললো, হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলুন তো এর মধ্যে কি রয়েছে? যদি বলতে পারেন তাহলে আমি মুসলমান হবো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি না বলে যদি ওই রুমালে যা আছে সেই বলে দেয় এবং আমার নুবুওওয়াত মুবারক উনার সাক্ষ্য দেয় তাতে কি তুমি মুসলমান হবে? আবু জাহিল অকপটে বললো, হ্যাঁ। তাহলে তো মুসলমান হবোই। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রুমালে বাঁধা ছাইকে লক্ষ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, কুম বিইযনিল্লাহি ইয়া কাফিল! সাথে সাথে কাফিল জিন্দা হয়ে রুমাল থেকে লাফ দিয়ে যমীনে পড়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদম মুবারক-এ ক্ষমা চাইতে লাগলো এবং কালীমা শরীফ পাঠ করলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”। আবু জাহিল ভয়ে দৌড়ে দূরে গিয়ে বলতে লাগলো, আপনার মতো যাদুকর আমাদের দেশে আর একজনও নেই। নাউযুবিল্লাহ! উক্ত কাফিল পাদ্রী নিজ অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে নাজাত পেয়েছে।
কাফিল পাদ্রী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উনার সাথে বেয়াদবী করার কারণে তার উপর সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হয়েছে। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উসীলা করে ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করার কারণে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক একখানা সূরা শরীফ নাযিল করেন। সে পচে গলে, লাঞ্ছিত হয়ে কুকুর ও শিয়ালের আহার্যরূপে কঠিন যন্ত্রণা পেয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়, এক মজলিসে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক আলোচনা করা হলো। সেই মজলিসে নেককার দাবিদার এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলো। কিন্তু প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকার পরও সে কোনো প্রতিবাদ করেনি। ওই রাত্রে নেককার দাবিদার সেই ব্যক্তি স্বপ্ন দেখতে লাগলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত জালালী শান মুবারক নিয়ে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক বিরোধী আলোচনার প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকার পরও তুমি প্রতিবাদ করলে না কেন? প্রতিবাদ করার সামর্থ্য ছিলো না বলে সে মিথ্যা বললো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক বিরোধী আলোচনার প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকার পরও প্রতিবাদ না করার কারণে তুমি অন্ধ হয়ে যাবে। সত্যিই জাগ্রত হয়ে সেই ব্যক্তি নিজেকে অন্ধ অবস্থায় পেলো। নাউযুবিল্লাহ!
অনুরূপভাবে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ থাকার কারণে এবং উনাদেরকে কষ্ট দেয়ার কারণেও অনেকের উপর সরাসরি আযাব-গজব নাযিল হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, “হযরত আবু রজা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দ করো না। বনু জুহাইম গোত্রের আমাদের এক প্রতিবেশী কুফা হতে ফিরে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাকে ফাসিকের ছেলে ফাসিক বলে গালি দিলো। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! সে বললো, উনাকে হত্যা করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! বর্ণনাকারী বলেন, তখন মহান আল্লাহ পাক সেই নরাধমের চোখে দুটি উল্কা নিক্ষেপ করলেন, (আসমান থেকে দুটি উল্কা এসে তার চোখে আঘাত করলো) তৎক্ষণাত সে অন্ধ হয়ে গেল। (আহমদ শরীফ, তাবারনী)
কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়, কারবালার ঘটনার সাথে জড়িত এক ব্যক্তি হঠাৎ অন্ধ হয়ে যায়। তাকে তার অন্ধত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, এক রাত্রে সে স্বপ্নে দেখে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাত মুবারকে একখানা লাঠি। উনার সামনে কারবালার ঘটনার সাথে জড়িত দশজনের কর্তিত মাথা পড়ে রয়েছে। তিনি স্বপ্ন দ্রষ্টাকে লক্ষ্য করে বললেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার কাজে সম্পৃক্ত থাকায় তুই অন্ধ হয়ে যাবি। এ বলে তিনি উনার লাঠি মুবারক দ্বারা তার চোখে দুটি আঘাত করেন। ফলশ্রুতিতে তৎক্ষণাত সে অন্ধ হয়ে যায়। (জাওযী)
মূল কথা হলো, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যথাযথ তা’যীম তাকরীম প্রদর্শন করবে না, উনাদের আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণ করবে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, উনাদেরকে কষ্ট দিবে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উনাদের শান মুবারক বিরোধী কার্যকলাপে সমর্থন দিবে, সাধ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ করবে না, তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি তো আছেই এমনকি দুনিয়াতেই তারা আযাব-গজবে পর্যদুস্ত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
কাজেই, সকলকে সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করার এবং উনাদের শান মুবারক বিরোধী কার্যক্রম হতে সার্বিকভাবে হিফাযত থাকার তাওফীক্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে নসীব করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে